দুর্গম পাহাড়ে লুকানো ব্রোঞ্জ যুগের শিল্পকর্ম
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কিরগিজস্তানের সাইমালু তাশ উপত্যকা। রাতের আঁধারে তারায় ভরা আকাশের প্রতিচ্ছবি পড়ে পাথরের গায়ে। প্রায় ৯০ হাজার পেট্রোগ্লিফ বা পাথরের খোদাইচিত্র খচিত ১০ হাজার পাথর হেডল্যাম্পের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। এগুলো যেন মাথার ওপরের নক্ষত্রপুঞ্জের মতোই প্রাচীন ও বিশাল সব কাহিনি তুলে ধরে।
সাইমালু তাশ উপত্যকার ওপরের দিকে একটি ছোট পবিত্র জলাশয় ভূমি ও আকাশকে এক বিন্দুতে মিলিয়ে দেয়। এমন এক স্থান যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ‘তেংরিস্ট’ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিরগিজ ভাষায় ‘নকশা করা পাথর’ (সাইমালু তাশ) নামে পরিচিত। স্থানটি মধ্য এশিয়ার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন সাংস্কৃতিক নিদর্শন। তবে এখানে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন। প্রায় ৪ হাজার বছর পুরোনো এবং তিন সহস্রাব্দ ধরে নিরবচ্ছিন্ন উপাসনার সাক্ষী সাইমালু তাশ বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ও দুর্গম উচ্চপার্বত্য পেট্রোগ্লিফ ক্ষেত্র। ব্রোঞ্জ যুগের যাযাবর গোষ্ঠী, সিথিয়ান যোদ্ধা ও প্রারম্ভিক তুর্কি সভ্যতার ধারাবাহিক পদচারণায় আগ্নেয়গিরির কালো ব্যাসল্ট পাথরের গায়ে খোদাই করা এ উন্মুক্ত গ্যালারিটি প্রাচীন মানববিশ্বাসের এক অকৃত্রিম ও অক্ষত ভাণ্ডার হিসাবে টিকে আছে। এখানে প্রাগৈতিহাসিক যুগের শিকারদৃশ্য থেকে শুরু করে পবিত্র সূর্য উপাসনার আচার পর্যন্ত-নানা বিষয় ফুটে উঠেছে। এখানে পৌঁছাতে হলে তিয়ান-শান পর্বতমালার পাথুরে ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে আঁকাবাঁকা পথে ওপরে উঠতে হয়। পরে একটি অস্থায়ী বরফের সেতু পার হতে হয়, যা পুরো যাত্রাপথের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মৌসুমের খুব শুরুতে গেলে দেখা যায় পেট্রোগ্লিফগুলো (পাথরের গায়ে খোদাই করা প্রাচীন চিত্র) তখনো শীতকালীন বরফের আস্তরণের নিচে ঢাকা পড়ে আছে। আবার খুব দেরিতে গেলে বরফের সেতুটি এতটাই গলে যায় যে তা আর নিরাপদে পার হওয়া সম্ভব থাকে না। ঋতুভেদের এ সূক্ষ্ম ও ঝুঁকিপূর্ণ সময়ের হিসাবের কারণে পেট্রোগ্লিফগুলো দেখার সুযোগ মেলে বছরে মাত্র ছয় সপ্তাহের এক সংক্ষিপ্ত সময়ে। সময়টা সাধারণত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে। পাহাড়ের ওপরের দিকে ধীর পায়ে ওঠার সময় বিশকেকভিত্তিক ট্যুর গাইড আলতিনাই কুদাইবেরগেনোভা কিছু বিষয় ব্যাখ্যা করেন। তার ব্যাখ্যায় উঠে আসে-বহুকাল আগে বিস্মৃতির আড়ালে চলে যাওয়া সেই শিল্পীদের এখানে পৌঁছাতে কী ধরনের কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়েছিল এবং উপাসনার স্থান হিসাবে জায়গাটি কেন এত বিশেষ। তিনি বলেন, প্রাচীন মানুষদের এখানে আসার জন্য সতর্কতার সঙ্গে পরিকল্পনা করতে হতো এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হতো।
