স্বৈরাচারের যুগে স্বাধীনতার কবিতা : আহমদ ছফার মির তকি মির
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘নগরে চাঁদনি চকে সংকীর্ণ কুটিরে একলা একাকী/সঙ্গীসাথীহীন, মীরকে কাটাতে হবে জীবনের দিন।’
-আহমদ ছফা (১৯৯৯)
আমরা কতিপয় ভক্ত, অনুরক্ত ও মুগ্ধ আহমদ ছফার মৃত্যুর পর তাঁহাকে ‘মহাত্মা’ সম্বোধন করিতে শুরু করিয়াছি। শুনিলাম তাহাতে কোন কোন মহাত্মা বা রুষ্ট হইয়াছেন। ভারতের মতো বাংলাদেশেও পুণ্যাত্মা মহাত্মার অভাব নাই। তবে এতদিনে মহাত্মা বলিতে এখন শুদ্ধমাত্র মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধি বোঝায়।
এয়ুরোপের মহাযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ১৯১৮-২৯ নাগাদ গান্ধিজি দক্ষিণ আফ্রিকা হইতে ফিরিলেন, আর ব্রিটিশ অধিকারভুক্ত ভারতে সত্যাগ্রহের নবপর্যায় অসহযোগ শুরু করিলেন। তুর্কি খেলাফত রক্ষার আন্দোলনে সমর্থন দিলেন। হিন্দু আর মুসলমান দুই জাতীয় জনগণের আস্থাভাজন নেতাকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাত্মা অভিধা উপহার দিলেন।
আহমদ ছফা গান্ধির সঙ্গে তুলনীয় ছিলেন না। তিনি ছিলেন কবি। ১৯০৯ সালে রাষ্ট্রনেতা লিখিয়াছিলেন ‘হিন্দ স্বরাজ’, আর কবির হাতে লেখা ১৯৭১ সালে ছাপা বইয়ের নাম দাঁড়াইয়াছিল ‘জাগ্রত বাংলাদেশ’।
আঠারো শতকে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা যখন ধীরে ধীরে অবলুপ্তির পথে আগাইয়া চলিতেছিল, মির তকি মির (১৭২২-১৮১০) নামে এক মহান কবি বাঁচিয়া ছিলেন। আহমদ ছফা জীবনের উপান্তে আসিয়া লেখা একটি কবিতায় মিরের বন্দনা গাহিয়াছিলেন। দিল্লির বাদশাহ বা মোগল সম্রাটকে বলিতে তিনি বাধ্য করিয়াছিলেন : ‘মীর তকি মীর নিজস্ব বয়ানে সম্রাটের মহিমাকে করে অস্বীকার।’ মোগল সম্রাট সানন্দে স্বীকার করিলেন : ‘কবির কণ্ঠে মূর্ত হন স্বয়ং ঈশ্বর’।
আমার মনে অনেক সময় একটি প্রশ্নের উদয় হইয়াছে। আহমদ ছফা কেন জীবনের প্রান্তসীমায় পৌঁছিয়া মির-বন্দনায় শরিক হইলেন? তিনিও কি অলখ চরণে মিরের পথে হাঁটার কোশেস করিয়াছিলেন? আশা করি, মির তকি মিরকে মহাত্মার সম্মান দিতে আহমদ ছফার বন্ধুরাও একদিন আর অসম্মত হইবেন না।
১.
মহাত্মা আহমদ ছফা বিগত হইয়াছিলেন শনিবার দুপুরে, ২০০১ সালের ২৮ জুলাই তারিখে। ঠিক তিরিশ বছর আগে, ১৯৭১ সালের ২৮ জুলাই, তাঁহার প্রবন্ধ-সংগ্রহ ‘জাগ্রত বাংলাদেশ’ ছাপানো হইয়াছিল কলিকাতায়। প্রকাশনা সংস্থা ‘স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ’ পরে মুক্তধারা নাম ধারণ করে। পরলোকগত চিত্তরঞ্জন সাহা ছিলেন এই কর্মকাণ্ডের নায়ক।
‘জাগ্রত বাংলাদেশ’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের যুগে দেশের বাহিরে ছাপা প্রথম বই। তিরিশ বছর পর আপনার ঐ ছিপছিপে গ্রন্থটি প্রকাশের তারিখেই আহমদ ছফার জীবনাবসান হয়। আশ্চর্য এই কাকতালীয় যোগ।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আর স্বাধীন বাংলাদেশে নিরন্তর স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সংগ্রামে শামিল আহমদ ছফা সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতে অবহেলিত, উপেক্ষিত, এককথায় নির্যাতিত হইয়াছিলেন। শুদ্ধমাত্র গণতান্ত্রিক অধিকার নহে, তিনি লড়িয়াছিলেন যাহাকে বলে সমাজ-গঠন, তাহাতে পরিবর্তন সাধনের জন্য। মুক্তিযুদ্ধের অনন্য অভিজ্ঞতা সম্বল কাহিনী অবলম্বনপূর্বক ‘অলাতচক্র’ নামে একটি নাতিদীর্ঘ উপন্যাস রচনা করিয়াছিলেন তিনি। আমরা মনে করি, মুক্তিযুদ্ধের অন্তর্গত অভিজ্ঞতার আলোকে এমন কাহিনী আজ অবধি দ্বিতীয়টি লেখা হয় নাই। কোন কোন লেখককে অমর করিয়া রাখিবার পক্ষে এই রকমের একটা লেখাই মনে হয় যথেষ্ট।
২০০১ সালে তাঁহার কবর হইয়াছিল ঢাকার এক প্রান্তে, মিরপুরের বুদ্ধিজীবী গোরস্থান হইতে কিছু দূরে, সাধারণ কবরগাহে। বুদ্ধিজীবীদের জন্য বরাদ্দ সুপরিসর কবরগাহে তাহার কবর দেওয়ার অনুমতি পাওয়া যায় নাই। কারণ রাষ্ট্রক্ষমতা যাহাদের হাতে ছিল, তাহারা সেই ক্ষমতার সদ্ব্যবহার করেন নাই। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের, মুক্তিযুদ্ধের এই অগ্রণী বুদ্ধিজীবী সাহিত্য-সাধকের অবমাননা ছিল জাতীয় স্বাধীনতা ও মানবসভ্যতার অবমাননা!
এই মাত্র কয়দিন আগে, ২২ জুলাই ২০২৬ বুধবার নাগাদ, আহমদ ছফার কবর মিরপুরে বুদ্ধিজীবীদের জন্য নির্ধারিত কবরগাহে সরাইয়া আনা হইয়াছে। এই ঘটনায় অনেকেই স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করিয়াছেন। আমি নিজেও একাধিক উপলক্ষ্যে বলিয়াছি ইহাতে একটা অন্যায়ের, একটা ঘোর অবিচারের, অবসান হইল।
কেহ কেহ মনে করেন, এই পুনর্দাফনযজ্ঞের কারণে আহমদ ছফার মর্যাদাহানি হইয়াছে। তাহারা দুঃখ করেন, যিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের কাতারে, তাঁহাকে কেন এভাবে বুদ্ধিজীবীদের বিশেষ কাতারে টানিয়া আনা! কেহ কেহ তাঁহার মানের ‘অবনমন’ ঘটিয়াছে বলিয়া দুঃখভারাক্রান্ত মনে পোস্টার লিখিয়াছেন।
যে কোন বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত থাকাটা স্বাভাবিক। ইহা স্বাস্থ্যের লক্ষণ। আহমদ ছফার কবর বিষয়ে এই তর্কের গোড়াতেই আমরা দেখিতে পাই একটা বিস্ময়কর বিষাদের ছায়া। এখানে কথা বাড়াইব না, শুদ্ধমাত্র যোগ করিব, বর্তমান দুনিয়ার হেন দেশ নাই, যেখানে কবরের শ্রেণীভেদ নাই। এই শ্রেণীভেদের নিয়ম আমরাও অতিক্রম করি নাই। আহা! সমাজে বিদ্যমান শ্রেণীভেদ দেখিতেছি কবরেও বর্তায়! যদি কেহ শহিদ বুদ্ধিজীবী বা শুদ্ধমাত্র বুদ্ধিজীবী কবরস্থান সংরক্ষিত করার গোটা প্রথাটাই ন্যায়বিচারের লঙ্ঘন মনে করেন, তবে তাহাদের কথা অন্তঃসত্ত্বা।
বুদ্ধিজীবীরা যদি নিঃসন্দেহে উচ্চশ্রেণীর মধ্যে গণ্য, তো আহমদ ছফা কেন ব্যতিক্রম হইবেন? আমার মাথায় কেবল ভন ভন করিতেছে একটি সত্য : শহিদ মাত্রেই যেমন বুদ্ধিজীবী নহেন, বুদ্ধিজীবী মাত্রেই তেমনি শহিদ নহেন।
দেখিতে দেখিতে পঁচিশ বছর গত হইল। পঁচিশ খুব একটা বড় সংখ্যা নয়। তবু অপরাধ কবুল করিতে হয়। কি কারণে আহমদ ছফা ‘মহাত্মা’ পদবাচ্য, আমাদের সভ্যতার ক্ষেত্রে তাঁহার দান কি, তাহা নির্ধারণের কর্তব্য পালন করি নাই। নাতিদীর্ঘ জীবনের উপান্তে পৌঁছিয়া ‘কবি ও সম্রাট’ নামে যে কবিতাটা তিনি লিখিয়াছিলেন, তাঁহার জীবনচরিতকার নূরুল আনোয়ারের ধারণা তাহাই তাঁহার লেখা শেষ কবিতা। আমার বিশ্বাস, আহমদ ছফা কেন মহাত্মা, তাহার একটা জবাব এই দীর্ঘ কবিতাটির মধ্যে পাওয়া যাইবে।
২.
মির তকি মির ছিলেন সে যুগের উর্দু সাহিত্যের মহত্তম কবিদের একজন। কেহ কেহ তাঁহাকে বলেন ‘উর্দু গজলের জনক’। তাঁহার আত্মজীবনী ‘জিকির-ই-মির’ ফারসি ভাষায় লেখা হইয়াছিল। ইহাতে তিনি মোটের উপর ষাট বছরের কাহিনী (আনুমানিক ১৭৪০-১৮০০) কীর্তন করিয়াছেন। দুঃখের মধ্যে তিনি সন-তারিখের ধার বড় একটা ধারিতেন না। এই দোষ আহমদ ছফাতেও খানিক বর্তাইয়াছিল।
তারপরও আমরা জানি, মিরের আত্মজীবনী বইটি পতনোন্মুখ মোগল যুগের ইতিহাস লেখকের আকরস্বরূপ। মোগল দরবারের যে সকল চক্র ও চক্রান্ত রাষ্ট্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকিতেছিল, তাহার কিছুই তাঁহার চোখ এড়ায় নাই। আহমদ শাহ দুররানির হামলা, নাজিবুদ্দৌলার রণকৌশল, দক্ষিণী সর্দারদের হাতসাফাই, রাজপুত্র শৌর্যবীর্য, জাঠ জাতির গোয়ার্তুমি-সকল কাহিনী তিনি রোজনামচার স্নিগ্ধ ভাষায় লিপিবদ্ধ করিয়াছেন। এই যুগের বিশেষজ্ঞ ইতিহাস লেখকেরা বলেন, তাঁহার লিপিতে কিছু তথ্য আছে, যাহা সমসাময়িক অন্য কোন সূত্রে পাওয়া যায় না।
মিরের আত্মজীবনীতে বিদেশি বিজেতার হাতে দিল্লি গণহত্যার নিখুঁত বিবরণ আছে। পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ সম্পর্কিত নতুন তথ্যও আছে তাহার লেখায়। বইটি শেষ হইয়াছে গোলাম কাদির কর্তৃক সম্রাট শাহ আলমের চোখ তুলিয়া লওয়র ঘটনা আর মারাঠা বাহিনীর হাতে দিল্লির পতন দিয়া। বলা চলে ‘জিকির-ই-মির’ শেষ হইয়াও শেষ হয় নাই।
মোগল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর, বিশেষত বাদশাহ আকবরের যুগে ভারতে ফারসি ভাষার প্রসার বৃদ্ধি পায়। বাদশাহ জাহাঙ্গীর আর শাহজাহান পর্যন্ত ফারসির প্রতাপ কমে নাই। বিশেষজ্ঞদের মতে আওরঙ্গজেব আলমগীরের আমলে ফারসিকে ছাড়াইয়া উর্দুর বিকাশ শুরু হয়। মরা হাতির দাম লাখ টাকা। মির্জা আবদুল কাদির বেদিল (১৬৪২-১৭২০) এবং আরো কয়েকজন কবির জমানা তখন।
বাদশাহ মোহাম্মদ শাহের আমলে (১৭১৯-৪৮) যে নতুন যে ভাষায় ভারতের সাহিত্য গড়িয়া উঠিতেছিল, তাহাই কালক্রমে ‘উর্দু’ নামে অভিহিত হইয়াছে। মির তকি মির ছিলেন এই নবযুগের কবি। উত্তর ভারতের রাজনৈতিক পতনের দিনে উর্দুর রমরমা বড়ই প্রবল হইয়াছিল। জনসাধারণ উর্দু সাহিত্যের সমজদারি করিতেছিল। কবির সংখ্যাও বাড়িতেছিল। যে বছর মির তকি মির এন্তেকাল করেন সে বছর, ১৮১০ সালে, উর্দু-মকশো কবির সংখ্যা ৮০০ পর্যন্ত পৌঁছিয়াছিল।
কবির সংখ্যা এহেন অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়া যাওয়ার কারণে সাহিত্য সমাজে বিরাজমান সংকট নতুন গভীরতা লাভ করে। কবিতার মান অনেকখানি কমিতে থাকে। মির তকি মির আর মোহাম্মদ রফি সৌদা (১৭১৩-১৭৮১) প্রমুখ বড় কবিদেরও ঢের মর্যাদাহানি ঘটে। যে যুগে পুরাতন পৃষ্ঠপোষক শ্রেণীর পতন ঘটিতেছে, অথচ নতুন পাঠকশ্রেণীর জন্ম বিলম্বিত হইতেছে সে যুগই তো সংকটের যুগ।
উনিশ শতকের শেষ পর্যন্ত উর্দু কবিদের মধ্যে এই দলাদলি ও অশ্লীলতার বাড় বাড়িতেই ছিল। সে যুগে দিল্লির কবিরা দুই দলে বিভক্ত হইয়াছিলেন : এক দলের নেতা ইনশাল্লাহ খান ইনশা ( ১৭৫২-১৮১৭), আর দলের কাণ্ডারির নাম আজিম বেগ। লখ্নৌকেন্দ্রিক কবিদের একদল ছিলেন ইনশাল্লাহ খান ইনশার অনুসারী, অন্যদলের মাঝি গোলাম হামাদানি মুশাফি (১৭৫০-১৮২৫)।
মির তকি মিরের বিরুদ্ধে সম্রাটের কাছে অশ্লীলতার ও ধর্মদ্রোহের অভিযোগ দায়ের করা হইয়াছিল। স্বয়ং সম্রাট তাঁহার কবিতার সমজদার। তাই তিনি তাহাকে দরবারে আতিথ্য গ্রহণের আমন্ত্রণ জানান। কবি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করিলেন। আহমদ ছফার বয়ানে মির বলেন :
‘জাঁহাপনা, খোদাবন্দ বাদশাহ মেহেরবান/আমার জিন্দেগি হোক আপনার খেদমতে কুরবান।/সম্রাটের আমন্ত্রণ সম্মানের উত্তরীয় হয়ে/সর্বাঙ্গ আবৃত করে রয়েছে জড়িয়ে।/আমি হই তেমন এক মন্দভাগ্য লোক/শিরোপা সম্মান আর উচ্চতর মহত্ত্ব গৌরব/যার হৃদয়ধর্মের কাছে মানে পরাভব। সম্বল/হৃদয়মাত্র, নিবেদন তাই টুটাফাটা প্রাণ নিয়ে/অভ্যস্ত জীবনে আমি ফিরে যেতে চাই।’
মোগল সম্রাটের বিচারে মিরের অপরাধ রাজদ্রোহ বিশেষ। তবু তিনি তাঁহাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়া নিজের ভবিষ্যতটা ঝরঝর করিতে নারাজ : ‘মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্য তার/যদি হয় কার্যকর, শঙ্কা করি আমরা দণ্ডিত/হবো ভবিষ্যত কালে।’
অতএব রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত দাঁড়াইল : ‘ইচ্ছেমতো চলাফেরা মীরের বারণ।’ স্বৈরতান্ত্রিক যুগের কবি মির তকি মির সাধারণ মানুষের কবি হওয়ার অপরাধে রাজরোষে পড়িলেন। কারণ তাঁহার কবিতার মর্মকোষ প্রোথিত ছিল যমুনার তীরে, দেহাতি হালটরেখায়, আষাঢ়ের রিমিঝিমি মেঘ বরিষণে, ঘনঘন ধীবর পল্লীতে, অপদার্থ হিজড়ে আর পাপিষ্ঠা গণিকাগৃহে, ফুলপাখি শস্যক্ষেত্র পশুর চিৎকারে। রাজ দরবারে তাহার কি কাজ!
মিরকে তাঁহার কবিতার ‘কাল্পনিক রাজ্যপাট’, ‘কবিতার মর্মকোষ’ হইতে উচ্ছেদ করা হইল। সম্রাটের রায় ঢোলবাদ্যযোগে হাঁকা হইল : ‘কোনখানে কালোমুখ/দেখাবে না মীর, নিষেধাজ্ঞা জারি হলো এই দণ্ডে স্থির।’
৩.
একদা এক নিবন্ধযোগে আমি আহমদ ছফার এই কবিতাকে একটি জার্মান শব্দ ধার করিয়া ‘ট্রাউয়ারস্পিয়েল’ বা মাতম-কবিতা বিশেষণ দিয়াছিলাম। কারণ এই কবিতা অ্যালেগরি বা এক কাহিনীর মধ্যস্থতায় অন্য কাহিনীর বয়ানের পর্যায়ভুক্ত। সাহিত্যের অভিধানে এই অলঙ্কার অতি প্রাচীন জিনিশ। অ্যালেগরি গ্রিক শব্দ। ইহার মানে গোপন কথা, যে কথা ‘আগোরা’ বা হাটেবাজারে, প্রকাশ্যে বলা যায় না।
সলিমুল্লাহ খান : অধ্যাপক, ইতিহাস ও দর্শন বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
(লেখকের বানান ও ভাষারীতি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে)

