খাশোগির ইস্যুতে এবার তুর্কি-সৌদির রাজনৈতিক দরকষাকষি?

  অনলাইন ডেস্ক ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ২১:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি। ফাইল ছবি
সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি। ফাইল ছবি

সাংবাদিক জামাল খাশোগি ইস্যুতে গঠিত তুরস্ক ও সৌদি আরবের যৌথ তদন্ত কমিটি নামেমাত্র, ধোঁয়াশায় ঘেরা এক কসমেটিকের পর্দা। আর এ পর্দার পেছনে রাজনৈতিক লেনদেন নিয়ে দরকষাকষি করছে উভয় দেশ।

বৃহস্পতিবার আলজাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ এমন সন্দেহের কথা বলেছেন।

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক তুর্কি বিশেষজ্ঞ ফুলিয়া আতাকান বলেন, ‘উভয় দেশই জানে যে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে। তাই এ সমস্যা সমাধানের আগেই তারা নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বজায় রেখে সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়।’

আতাকান যৌথ তদন্ত কমিটিকে ‘দরকষাকষির মাধ্যম’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের মানুষকে কী জানানো হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে এবং লোকচক্ষুর আড়ালে পরামর্শ করতে সবচেয়ে ভালো সমাধান এটি।’

আতাকান বলেন, এক্ষেত্রে উভয় দেশের একটা সমস্যা আছে। সেটি হল, তারা জানে না কীভাবে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। যৌথ তদন্ত কমিটির অজুহাতে তারা একে অন্যকে দোষারোপ এবং একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়ার আগে আলোচনার যথেষ্ট সময় পাবে।

তুর্কি লেখক ও সাংবাদিক মুস্তফা আকিয়োল বলেন, এ যৌথ তদন্ত হল একটা ‘ফরমালিটি’। নিজেদের সুনাম প্রদর্শনের জন্য বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে তুরস্ক। কিন্তু উভয় দেশই একটা ব্যাপারে নিশ্চিত যে খাশোগিকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে সৌদি কর্তৃপক্ষের একটি বিশেষ দল তাকে হত্যা করে।

তিনি আরও বলেন, ‘উদ্ভূত এ ঝামেলা মেটানোর সহজ পথ হল এ তদন্ত কমিটি। যৌথ তদন্তের নামে তারা নিজেদের দেনা-পাওনার বিষয়ে আলোচনার জন্য বহুবার সুযোগ পাবে।’ প্রসঙ্গ, দুই সপ্তাহ আগে তুরস্কের ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে শেষবারের মতো দেখা গিয়েছিল সৌদি সাংবাদিক খাশোগিকে।

তুরস্কের ধারণা, সৌদি আরবের রাজতন্ত্রের সমালোচক এ সাংবাদিককে সৌদি গুপ্তচররাই খুন করেছে। তবে সৌদি আরব এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

খাশোগি নিখোঁজের রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে এরই মধ্যে তল্লাশি হয়েছে। আরও ব্যাপক পরিসরে তল্লাশির উদ্যোগ নিচ্ছে তুরস্ক।

সৌদি আরব সোমবার ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। খাশোগিকে কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে হত্যা করার কথা স্বীকার করার বিষয়টি সৌদি আরব বিবেচনা করছে, এমন খবরও পাওয়া যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলোতে।

এ পরিস্থিতিতেই সৌদি আরবে বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, পম্পেও খাশোগির ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং স্বচ্ছ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দেয়ার জন্য বাদশাহ সালমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ওদিকে খাশোগির পরিবার তার অন্তর্ধানের ঘটনা তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক কমিশন গঠনের আবেদন জানিয়েছে।

পম্পেওর সঙ্গে বৈঠকে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানও খাশোগির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন।

খাশোগির বিষয়টি নিয়ে এর আগে সৌদি বাদশাহর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এক ফোনালাপের পর পম্পেওকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে। এ সফরের পর তুরস্কে যাবেন তিনি।

ট্রাম্প এর আগে এক টুইটে বলেছিলেন, বাদশাহ সালমানের সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং বাদশাহ খাশোগির ব্যাপারে কিছু জানা থাকার কথা জোরালভাবে অস্বীকার করেছেন। তার কথা শুনে মনে হয়েছে, এ ঘটনায় দুর্বৃত্ত খুনিরা জড়িত থাকতে পারে।

তবে এর কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি। বিষয়টি সম্পর্কে বাদশাহর কাছ থেকে স্পষ্ট করে কিছু জানাটাও ছিল পম্পেওর সৌদি আরব সফরের উদ্দেশ্য।

ঘটনাপ্রবাহ : সাংবাদিক জামাল খাসোগি নিখোঁজ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter