জন্মহার বাড়াতে দ. কোরিয়ার নতুন কৌশল!

  যুগান্তর ডেস্ক ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ২০:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

দক্ষিণ কোরিয়া

ক্রম হ্রাসমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার। দেশটি এখন অর্থনীতির সমৃদ্ধির জন্য নিজেদের জনসংখ্যা বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

অর্গানাইজেশন অব ইকোনমিক কর্পোরেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইডিসি)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়া ছাড়াও মেক্সিকো এবং কোস্টারিকায় দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার কম জন্মহারের জন্য নারীদের অতিরিক্ত কাজ করাকে দায়ী করে সরকার। ওইসিডি এর মতে, কোরিয়ায় প্রতি একজন নারীর সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা ১.২ ভাগ। যা বিশ্বে সর্বনিম্ন।

এদিকে জন্মহার কমার জন্য সরকারের একটি কমিটি দীর্ঘ কাজের সময়কেই দায়ী করেছে।

বলা হচ্ছে যে, স্বামী-স্ত্রীর দিনের বেশিরভাগ সময় কর্মস্থলে কেটে যাওয়ার কারণে তাদের স্বাভাবিক মেলামেশা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আর সেটাই বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে সন্তান উৎপাদনে।

অন্য একটি মত বলছে, যেহেতু দায়িত্বশীল মা-বাবা হিসেবে তারা সন্তানকে ঠিকভাবে সময় দিতে পারবেন না, তাই তারা পরিবার বাড়াতে আগ্রহী নন। তারা সন্তানদের প্রতি অবিচার করতে চান না।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি করতে সরকারের নতুন কৌশল

জনসংখ্যা বৃদ্ধির ক্রমহ্রাসমান এ সমস্যার সমাধানে কর্মীদের সাপ্তাহিক কাজের সময় কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। সপ্তাহে ৬৮ ঘণ্টার পরিবর্তে এখন থেকে দেশটির চাকরিজীবীরা ৫২ ঘণ্টা কাজ করবেন। স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি দেয়া, অবসাদ কাটানো এবং জন্মহার বৃদ্ধির জন্য এ নিয়ম জারি করেছে সরকার।

বিশ্বের কম জন্মহারের দেশগুলোর মধ্যও ওপরের দিকে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। সরকার বলছে, অফিসে কাজের সময় কমানোর ফলে পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন পুরুষ ও নারীরা। ফলে জন্মহার বাড়বে বলে ধারণা করছেন দেশের নীতিনির্ধারকরা।

কেন এই উদ্যোগ?

২০১৬ সালে কোরীয়রা গড়ে ২ হাজার ৬৯ ঘণ্টা কাজ করেছেন। দেশের প্রেসিডেন্ট মুন জ্যা ইন বলেন, আমরা নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হব। মা-বাবার সন্তানদের আরও সময় দেয়া প্রয়োজন। মুন প্রশাসন কাজের সময় কমানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বেশি কর্মী নিয়োগ করতে আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ৮০ ভাগ সংস্থাই বাড়তি কর্মী নিয়োগে নারাজ।

এর আগেও প্রেসিডেন্ট মুন বলেছিলেন, অতিরিক্ত কাজের সময় থাকা কখনোই উচিত নয়। সুখী জীবন-যাপনের ক্ষেত্রে টানা কাজের সময় বড় বাধা। বিশ্রামের সুযোগ মেলে না।

১৯৫০-৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের পর ধ্বংসপ্রায় দক্ষিণ কোরিয়া ১৯৯০ সালে এসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির একটিতে পরিণত হয়েছে। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের ২৭ নম্বরে রয়েছে দেশটি। সেখানকার বর্তমান জনসংখ্যা ৫ কোটি ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৪৩৫ জন।

গত বছরের তুলনায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার মাত্র ০.৩৬ শতাংশ। অর্থাৎ জনসংখ্যা বেড়েছে পৌনে দুই লাখের সামান্য বেশি।

জনঘনত্বের হিসাবে দেখা গেছে, প্রতি বর্গকিলোমিটারে মাত্র দু’জন বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ২০১৬ সাল থেকে এ ধারাই অব্যাহত রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter