টিকে থাকার লড়াইয়ে আজাদ কাশ্মীরের সংবাদপত্র শিল্প
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সংবাদপত্রের প্রচলন ক্রমেই কমছে। সর্বশেষ কয়েক বছরে অঞ্চলটিতে সংবাদপত্রের সার্কুলার ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার দ্রুত বৃদ্ধি ও সরকারী সহায়তার অভাব একসময়ের সমৃদ্ধশালী খাতটিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। একসময় যা একটি প্রাণবন্ত ক্ষেত্র ছিল, আজ তা কম পাঠকসংখ্যা ও খরচ বৃদ্ধির কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
বিক্রেতা ও প্রকাশকরা জানিয়েছেন যে, সেই শিল্পখাতটি যা দশকের পর দশক ধরে হাজার হাজার পরিবারের জীবিকা নিশ্চিত করত, এখন তার আগের পাঠকসংখ্যার কেবল এক ভগ্নাংশের ওপর টিকে আছে।
যারা দীর্ঘ সময় ধরে এই পেশায় কাজ করেছেন, তাদের মতে, করোনা মহামারির পর থেকে এ শিল্পের পতন শুরু হয়। তখন কাগজের দাম কয়েকগুন বৃদ্ধি ও সরবারহ ব্যবস্থা ভেঙে যাওয়ায় সংবাদপত্রের দাম বেড়ে যায়।
সরকারের কাছে এ খাতটি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য অনুদান চেয়েও কোন সাড়া মিলেনি।ফলে কর্মীরা আর্থিক অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকে বলেন, তাদের দৈনন্দিন আয় এখন আগের আয়ের চতুর্থাংশের থেকেও কমে গেছে।
সংকটের কারণ হিসেবে জম্মু-কাশ্মীরের গণমাধ্যমকর্মীরা বলছেন, সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো সোশ্যাল মিডিয়ার আধিপত্য। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে এখন সংবাদপত্রের স্ক্যান করা কপি বিনামূল্যে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মুদ্রিত সংস্করণের পাঠক সংখ্যা সীমিত হয়ে গেছে। বাকি পাঠকের বেশিরভাগই ৫০ বছরের ওপরে, আর সরকারি অফিসগুলো একমাত্র বড় প্রতিষ্ঠানগত গ্রাহক হিসেবে টিকে আছে।
সার্কুলেশন কমার বিষয়টি সংবাদপত্র বিক্রেতাদের জীবিকায় সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, শিক্ষার খরচ এবং স্বাস্থ্যসেবা এখন বিলাসিতা হয়ে গেছে, এমনকি মাসিক ভাড়া জোগাতেও পরিবারগুলো হিমশিম খাচ্ছে।
মুজাফফরাবাদ ও আশেপাশের অঞ্চলের কয়েকজন পত্রিকা বিক্রেতা জানিয়েছেন, তারা বারবার সংবাদপত্র ব্যবসা চালু রাখতে প্রেস সহায়তা তহবিলের জন্য আবেদন করেছেন, কিন্তু এখনও এমন কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।
পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরজুড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ পত্রিকা সরবারহ কমে গেছে। কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, জরুরি সংস্কার ছাড়া শিল্পটি টিকে থাকতে নাও পারে।

