এক সময়ের খামেনি অনুগতরাই কেন এখন বিক্ষোভে
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়ে উঠেছে ইরানে। প্রতিদিনই ছড়িয়ে পড়ছে নতুন নতুন শহরে। এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছে মূলত ব্যবসায়ী ও দোকানিদের প্রতিবাদের মাধ্যমে। যারা একসময় খামেনিরই সমর্থক ছিলেন।
গত দুই দশকে বাজারের অর্থনৈতিক অবস্থান ক্রমাগত দুর্বল হওয়ায় মূলত বিক্ষোভে নেমেছেন তারা। খবর আল-জাজিরার।
ইরানের ঐতিহ্যবাহী বাজার ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি হিসাবে পরিচিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তেহরানের বাজারসহ বিভিন্ন শহরে তাদের প্রতিবাদ ও ধর্মঘট দেশটির রাজনৈতিক অর্থনীতিতে গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবে বাজারের ব্যবসায়ীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং পরবর্তী কয়েক দশক ধরে তারা রাষ্ট্রক্ষমতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে। এর বিনিময়ে তারা আমদানি লাইসেন্স, বৈদেশিক মুদ্রায় বিশেষ সুবিধা এবং বাণিজ্যিক নীতিনির্ধারণের সুবিধা পেত।
১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে এই শ্রেণি ইরানের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রভাবশালী অবস্থানে ছিল। তবে গত দুই দশকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে।
বিশেষ করে ২০০৫-২০১৩ মেয়াদে মাহমুদ আহমাদিনেজাদের সরকার ‘বেসরকারিকরণ’ নীতির আওতায় বহু রাষ্ট্রীয় সম্পদ ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং বড় ধর্মীয় ফাউন্ডেশনগুলোর হাতে তুলে দেয়। এতে এসব প্রতিষ্ঠান অবকাঠামো, জ্বালানি, ব্যাংকিং ও আমদানি-বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তার করে। আর বাজারের ঐতিহ্যগত ভ‚মিকা সংকুচিত হতে থাকে।
একই সময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতিতে তীব্র চাপ সৃষ্টি করে। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতা ও মুদ্রাস্ফীতি ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যবসা পরিচালনা কঠিন করে তোলে। এই প্রেক্ষাপটে বাজারের ব্যবসায়ীদের বর্তমান প্রতিবাদকে বিশ্লেষকরা দীর্ঘদিনের জমে থাকা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অসন্তোষের ফল হিসাবে দেখছেন।
বিক্ষোভগুলো দেখাচ্ছে যে ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর ভেতরে ঐতিহ্যবাহী সমর্থক গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গেও রাষ্ট্রের দূরত্ব বাড়ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতি ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত।

