১৭ জনের ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল তরুণীর ধর্ষকের অবাক করা পরিচয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের মহারাষ্ট্রে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে তার বাবাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মুম্বাইয়ের কাফে প্যারেড এলাকার এ ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মেয়ের গর্ভে থাকা ভ্রূণটির জৈবিক পিতা তার বাবা বলে প্রমাণ হয়েছে। ধর্ষণের শিকার তরুণী (২০) শুনতে পান না এবং কথা বলতে পারেন না। খবর এনডিটিভির।
পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওই তরুণী তার দাদির কাছে পেটের তীব্র অস্বস্তির কথা জানান। ইশারার মাধ্যমে তিনি বোঝান, তার পেটের ভেতরে অস্বাভাবিক নড়াচড়া হচ্ছে। এরপর মুম্বাইয়ের কামা অ্যান্ড আলব্লেস হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরীক্ষায় চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন, তিনি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি জানার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানায়।
পুলিশ জানায়, শুরুতে তদন্তে বড় সমস্যা হয়। কারণ ওই তরুণী কথা বলতে পারেন না এবং প্রথম দিকে কোনো বক্তব্য দিতেও রাজি ছিলেন না। পুলিশ তখন তার বাবার সঙ্গে কথা বলে। বাবা মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং কীভাবে তার মেয়ে গর্ভবতী হলো সেই ব্যাখ্যাও তিনি দিতে পারেননি।
তিনি থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করতেও অস্বীকৃতি জানান। কাউন্সেলিংয়ের পর ভুক্তভোগী তরুণী অভিযোগ দায়ের করতে রাজি হন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে গ্রেফতার করে এবং ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরকে আটক করে। এরপর বাবাসহ মোট ১৭ জন সন্দেহভাজনের রক্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ভ্রূণের জেনেটিক প্রোফাইলের সঙ্গে এসব নমুনা মিলিয়ে ধর্ষকের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট আসে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, ভ্রূণটির জৈবিক পিতা ওই তরুণীর বাবা। পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণের ঘটনাগুলো গত বছরের মার্চ থেকে ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে একাধিকবার ঘটে। এই ঘটনায় ২২ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হয়।
