যুক্তরাজ্যে ছয় বছরে ফিলিস্তিনপন্থীদের ওপর ৯৬৪ নিপীড়নের ঘটনা রেকর্ড
ইউরোপীয় লিগ্যাল সাপোর্ট সেন্টারের প্রতিবেদন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ১১:২০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থীদের ওপর নানাভাবে অত্যাচার-নিপীড়ন চলে বলে এক প্রতিবেদনে জানা গেছে। গত ছয় বছরে দেশটিতে ফিলিস্তিনপন্থীদের কণ্ঠরোধ, তাদের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপসহ অন্তত ৯৬৪টি ঘটনা ঘটেছে বলে নথিভুক্ত হয়েছে। তবে এর বাইরেও বহু ঘটনা আছে, যা হয়রানির শিকার হওয়ার ভয়ে কেউ অভিযোগ আকারে নথিভুক্তই করেনি।
ফিলিস্তিনপন্থী সক্রিয়তার ওপর বিধিনিষেধ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দমন-পীড়নের ধরন শনাক্ত করতে একটি নতুন মনিটরিং টুল বা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
ইউরোপীয় লিগ্যাল সাপোর্ট সেন্টার (ইএলএসসি) এবং গবেষণা সংস্থা ফরেনসিক আর্কিটেকচারের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত এই ‘ব্রিটেন ইনডেক্স অব রিপ্রেশন’ (দমন-পীড়নের ব্রিটিশ সূচক) হলো ব্রিটিশ সমাজের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং শিল্পকলাসহ বিভিন্ন খাতে ফিলিস্তিনবিরোধী দমন-পীড়ন মানচিত্রায়নের প্রথম ব্যাপক উদ্যোগ।
এই সূচকের সঙ্গে সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রধান তথ্যগুলো নিশ্চিত করে যে, ফিলিস্তিনপন্থী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার কাজগুলো একটি সমন্বিত এবং বহুমুখী ব্যবস্থার অংশ; যেখানে ভিন্নমতাবলম্বীদের কোণঠাসা করতে রাষ্ট্রীয়, প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত ক্ষমতা ব্যবহার করা হয়।
প্রতিবেদনে ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যে যুক্তরাজ্যে এমন ৯৬৪টি যাচাই করা ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
তবে গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই সংখ্যা আসলে ‘হিমশৈলের চূড়া’ মাত্র। কারণ, অনেক অভ্যন্তরীণ বা অনানুষ্ঠানিক দমন-পীড়নের ঘটনা লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে যায়, কিংবা রিপোর্ট করা হয় না।
ইএলএসসির সিনিয়র মনিটরিং অফিসার তারা মারিওয়ানি বলেন, ‘আমরা যা দেখছি তা সম্পূর্ণ চিত্র নয়, তবে এটি একটি ধারাবাহিক এবং অবিশ্বাস্য নমুনা। তথ্যগুলো প্রমাণ করে যে, ফিলিস্তিনবিরোধী এই দমন-পীড়ন সুশৃঙ্খল, বহুমুখী এবং পুনরাবৃত্তিমূলক।’
তিনি আরও বলেন, ‘একই ধরনের কুশীলব, অভিযোগ এবং কৌশল দেশের বিভিন্ন অংশে ও বিভিন্ন খাতে বারবার দেখা যাচ্ছে। এই ডেটাবেজ ফিলিস্তিন সংহতি আন্দোলনের জন্য এক বড় প্রাপ্তি এবং এটি দমন-পীড়নের একটি বিস্তৃত কাঠামোর চিত্র উন্মোচন করে। এটি দেখায় যে, মানুষ যখন প্রতিরোধ করে তখন দমন-পীড়ন তীব্র হয় এবং যখন দমন-পীড়ন তীব্র হয়, তখন মানুষের প্রতিরোধও অটুট থাকে।’
প্রতিবেদনটিতে দমন-পীড়নের একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর রূপরেখা দেওয়া হয়েছে যা কয়েকটি কৌশলগত ধাপ অনুসরণ করে; প্রথমে উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার ও কলঙ্কলেপন, এরপর আমলাতান্ত্রিক কঠোরতা এবং সবশেষে গ্রেপ্তার বা চাকরিচ্যুতির মতো সরাসরি ফলাফল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থাটি রাষ্ট্রীয়, প্রাতিষ্ঠানিক এবং বেসরকারি পক্ষের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এটি তাদের জন্য দায় এড়ানোর একটি সুযোগ তৈরি করে দেয়, কারণ কোনো একক সংস্থা ভিন্নমত স্তব্ধ করার এই দায়ভার পুরোপুরি বহন করে না।
এতে আরও বলা হয়, গণমাধ্যমের বিভিন্ন বয়ান বা ন্যারেটিভ এই দমন-পীড়নের একটি ঢাল হিসেবে কাজ করে, আইন নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন গোষ্ঠী তদন্ত শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানগুলো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করে।
সূত্র:টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

