আল-জাজিরার প্রতিবেদন
মেক্সিকোর কার্টেলগুলোতে কি যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র সরবরাহ করছে?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গত সপ্তাহে মেক্সিকোর মাদক সম্রাট ও অস্ত্র কারবারি এল মেনচো নিহত হওয়ার পর দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিকার্ডো ত্রেভিলা ত্রেজো সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কার্টেল থেকে জব্দ হওয়া ৮০ শতাংশ অস্ত্রই যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধভাবে আনা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় মেক্সিকোর নিরাপত্তা বাহিনী এল মেনচোকে শনাক্ত করে। তার প্রকৃত নাম নেমেসিও ওসেগেরা সেরভান্তেস, তিনি জালিসকো নিউ জেনারেশন কার্টেলের প্রধান ছিলেন। এই কার্টেল (মেক্সিকোভিত্তিক শক্তিশালী ও সহিংস মাদক পাচারকারী অপরাধী গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেট) সামরিক স্তরের অস্ত্রশস্ত্র বিক্রি করে।
মেক্সিকোর প্রধান ড্রাগ কার্টেলগুলো ও তাদের অস্ত্র
মেক্সিকোর প্রধান কার্টেলগুলো হলো গালফ কার্টেল, সিনালোয়া কার্টেল এবং সিজেএনজি। এই সব কার্টেলই অত্যন্ত সশস্ত্র, সামরিক-শ্রেণির রাইফেল, বড় ক্ষমতার ম্যাগাজিন এবং কখনো কখনো বিস্ফোরক পর্যন্ত ব্যবহার করে। সিজেএনজি বিশেষভাবে খ্যাত তার আগ্নেয়াস্ত্রের জন্য; ২০১৫ সালে তারা মেক্সিকোর সামরিক হেলিকপ্টার লক্ষ্যবস্তু করেছিল।
মেক্সিকোর কর্মকর্তারা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারও বেশ কিছু কার্টেল নেতাকে ধরার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
মেক্সিকোতে অস্ত্র ক্রয়ের নিয়ম
মেক্সিকোর ফেডারেল ল’ প্রোফ ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস অনুযায়ী, সাধারণ মানুষ সীমিত পরিমাণে অস্ত্র কিনতে পারেন – যেমন ছোট হ্যান্ডগান, .২২ ক্যালিবার রাইফেল এবং কিছু শটগান। শুধুমাত্র দুটি সামরিক পরিচালিত দোকান থেকে অস্ত্র কেনা যায়: DCAM (মেক্সিকো সিটি) এবং OTCA (আপোডাকা, নুয়েভো লিওন)। ক্রেতাদের একাধিক অনুমোদন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সামরিক-শ্রেণির রাইফেল শুধুমাত্র সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্টেল এই নিয়মগুলো এড়াতে মূলত যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র অবৈধভাবে সংগ্রহ করে। কিছু অস্ত্র মেক্সিকোর নিরাপত্তা বাহিনী থেকে চুরি বা ঘুষের মাধ্যমে আসে। আনুমানিক ২ লাখ থেকে ৫ লাখ অস্ত্র প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে পাচার হয়।
কার্টেলগুলো কিভাবে অস্ত্র সংগ্রহ করে
বিশ্ব নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানান, কার্টেলগুলো সাধারণত স্ট্র এবং অবৈধ ক্রেতা, চুরি ও বিশেষ দালালদের মাধ্যমে অস্ত্র সংগ্রহ করে। স্ট্র ক্রয় তখন হয়, যখন কেউ অবৈধভাবে অন্যের জন্য অস্ত্র ক্রয় করে।

অস্ত্রগুলো সাধারণত স্থলপথে, ছোট এবং বিচ্ছিন্ন করা অবস্থায় আনা হয়, যাতে তা সহজে ধরা না পড়ে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১২ থেকে মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ১,৩৭,০০০ .৫০ ক্যালিবার রাউন্ড জব্দ করেছে, যার প্রায় অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্রের লেক সিটি আর্মি অ্যামিউনিশন প্ল্যান্ট থেকে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো এ বিষয়ে কী করছে
মেক্সিকো ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় অস্ত্র প্রস্তুতকারীর বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়নের মামলা করে। তবে ২০০৫ সালের ‘প্রোটেকশন অব ল'ফুল কমার্স ইন আর্মস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এই মামলাটি বাতিল করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ATF ২০০৯ থেকে ২০১১ পর্যন্ত ‘অপারেশন ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ পরিচালনা করেছিল, যেখানে অবৈধভাবে ক্রয় হওয়া ২,০০০টিরও বেশি অস্ত্র কার্টেল পর্যন্ত পৌঁছেছিল। কিন্তু অনেক অস্ত্র হারিয়ে যায় এবং কিছু হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার হয়।
বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কার্টেলগুলোকে সরাসরি অস্ত্র সরবরাহ করার কোনো ইচ্ছা নেই। কিছু অস্ত্রপাচার কেবল নিয়ন্ত্রণের শূন্যতার কারণে ঘটে।
অস্ত্রপাচার রোধের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মোকাবিলা করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে দক্ষিণমুখী অস্ত্রপাচারকে ওষুধ, মানবপাচার ও অন্যান্য অপরাধের সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কঠোর নজরদারি, অনুসন্ধান ও যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সমন্বয় অপরিহার্য।
সূত্র: আল-জাজিরা
