আইআরজিসি
রেড লাইন অতিক্রম করলে জ্বালানি বঞ্চিত হবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০০ এএম
রেড লাইন অতিক্রম করলে জ্বালানি বঞ্চিত হবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরানের ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা অতিক্রম করলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের তেল-গ্যাস সরবরাহ বছরের পর বছর বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) আইআরজিসি’র জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে জানানো হয়, আসালুয়েহ পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টে শত্রুপক্ষীয় হামলার জবাবে মঙ্গলবার ভোরে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর অংশ হিসেবে ৯৯তম পর্যায়ের এক বিশাল অভিযান চালিয়েছে ইরানের নৌ ও বিমান বাহিনী। এই অভিযানে ব্যালিস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোন ব্যবহার করে পারস্য উপসাগর ও স্ট্রেট অব হরমুজে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরাইলি সামরিক কমান্ড সেন্টারগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, হামলার প্রথম ধাপে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন মালিকানাধীন বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানে আঘাত করা হয়েছে।
আইআরজিসি আরও জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোরফাক্কান বন্দর দিয়ে ইসরাইলকে সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে যাওয়া একটি কন্টেইনার জাহাজে নির্ভুলভাবে আঘাত হানা হয়েছে। একে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে সহযোগিতাকারীদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কতা হিসেবে দেখছে ইরান।
আইআরজিসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইরান কখনো বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আগে হামলা করেনি এবং করবেও না। তবে ইরানের অবকাঠামোতে কোনো আঘাত আসলে তার জবাব হবে অঞ্চলের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী। ইরানের হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, মার্কিন নেতাদের হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে তারা দীর্ঘ সময়ের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সম্পদ থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার পর থেকে ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল জোটের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া আল্টিমেটামের সময়সীমা আজই শেষ হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আইআরজিসির এই বড় ধরনের সামরিক অভিযান এবং হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে যুদ্ধের কিনারে নিয়ে দাঁড়িয়ে করিয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান এই সংকট নিরসনে এখনো মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

