Logo
Logo
×

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করেছে পাকিস্তান

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করেছে পাকিস্তান

পাকিস্তানকে স্রেফ মধ্যম হিসেবে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সংগৃহীত ছবি

হরমুজ প্রণালি ও তেলের দাম ইস্যুতে প্রচণ্ড চাপে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বুধবার যুদ্ধবিরতির মেনে নেয় মার্কিন প্রশাসন। তবে ফিনানসিয়াল টাইমস দাবি করছে, পাকিস্তানকে যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দিচ্ছিল খোদ যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের সঙ্গে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা আসার পর থেকেই পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গণমাধ্যমটির খবর, এই উদ্যোগটি মূলত স্বাধীন কূটনীতি নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রের চাপেই পরিচালিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন ইসলামাবাদকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এগিয়ে আসতে চাপ দেয়। এই প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানো এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক তেল রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া।

সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। তারা প্রস্তাবগুলো এমনভাবে তেহরানের কাছে উপস্থাপন করেছিল যাতে তা ইরানের নেতৃত্বের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হয়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে পাকিস্তানের মাধ্যমে প্রস্তাব দিলে তা ইরানের কাছে সহজে গ্রহণযোগ্য হবে—এমনটাই ধারণা ছিল।

এ কারণে পাকিস্তানের ভূমিকা ছিল শান্তিচুক্তির শর্ত নির্ধারণ করা নয়। বরং অন্য কোথাও তৈরি করা বার্তা পৌঁছে দেওয়া। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাত বাড়ানো এড়িয়ে চাপ বজায় রাখতে পেরেছে।

প্রতিবেদনটি পাকিস্তানের স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। এতে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী নয়। বরং ওয়াশিংটনের জন্য একটি সুবিধাজনক মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছিল, তখন পাকিস্তান দ্রুত মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে এগিয়ে আসে। মূলত আমেরিকার স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রস্তাবই বহন করে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন এবং ইরানের একটি প্রস্তাবকে আলোচনার জন্য ‘কার্যকর ভিত্তি’ বলে উল্লেখ করেন। তবে আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তানের ওপর চাপ দিচ্ছিল এই সমঝোতা নিশ্চিত করতে।

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এই গোপন কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে জানা যায়। তিনি ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন।

যদিও পাকিস্তান নিজেকে নিরপেক্ষ শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে তাদের ভূমিকা সীমিত ছিল। তারা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি কাঠামো প্রচার করেছে। ইরানের প্রতিক্রিয়া পৌঁছে দিয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির সময়সীমা নিয়ে আলোচনা করেছে।

এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে ওঠে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে। বিশেষ করে আইআরজিসির বিভিন্ন অংশের মধ্যে মতবিরোধের কারণে। পাশাপাশি লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযানসহ আঞ্চলিক উত্তেজনাও পরিস্থিতিকে কঠিন করে তোলে।

এছাড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের ভুলবশত যুদ্ধবিরতির একটি ‘খসড়া’ বার্তা প্রকাশ করে ফেলায় সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সবকিছু মিলিয়ে, কাগজে-কলমে অগ্রগতি হলেও এই যুদ্ধবিরতি এখনও খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক সংঘাত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা এর স্থায়িত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই ভূমিকা তাদের স্বাধীন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল, নিরপেক্ষ কূটনীতির চেয়ে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম