সব প্রস্তুতি সত্ত্বেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অনিশ্চয়তা

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১১:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

সব প্রস্তুতি সত্ত্বেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অনিশ্চয়তা
ছবি: রয়টার্স

নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন পরিকল্পনামাফিক আজ বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে না বলে জানা গেছে। বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এমন দুটি সূত্র বুধবার রাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

গত অক্টোবরে দুই দেশের সরকারের চুক্তি মোতাবেক আজ রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রথম দলটিকে মিয়ানমারে পাঠাতে প্রস্তুতি নিয়েছিল বাংলাদেশ।

তবে প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় যুগান্তরকে বলেন, আমরা প্রস্তুত রয়েছি। রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় যেতে চাইলে তাদের ফেরত পাঠানো হবে। তবে জোর করে কাউকে ফেরত পাঠানো হবে না।

রয়টার্সের প্রতিবেদনের কথা জানিয়ে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনো অনিশ্চয়তা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেখুন, আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছি। তবে আগামী দুই ঘণ্টায় কী ঘটবে, তা ত বলতে পারবো না।

জাতিসংঘের শরণার্থী ও বিভিন্ন সাহায্য সংস্থা এ প্রত্যাবাসন পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য সেখানে নিরাপদ অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি।

কাউকে জোর করে পাঠাবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রত্যাবাসনের জন্য তৈরি ছোট তালিকার রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চায় কিনা জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারকে (ইউএনএইচসিআর) তা নিশ্চিত করতে বলেছে বাংলাদেশ।

এক সূত্র জানিয়েছে, কেউ যেতে চাচ্ছেন না বলে বৃহস্পতিবার প্রত্যাবাসন হচ্ছে না।

বিষয়টি স্পর্শকাতর বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র বলেছেন, বিষয়টি নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি রয়টার্স।

দুই হাজার ২০০ শরণার্থীর প্রথম ধাপটির প্রত্যাবাসন বৃহস্পতিবার শুরু হওয়ার কথা ছিল। মিয়ানমারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা এ জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

এ প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা স্থগিত করতে বাংলাদেশের প্রতি বুধবার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার মিশেলে ব্যাচেলেট। হুশিয়ারি করে তিনি বলেন, এতে ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

তৃতীয় একটি সূত্র বলেছে, স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের একটি টাস্কফোর্স বুধবার রাতে বৈঠক করেছে।

ইউএনএইচসিআর সাক্ষাৎকার নিয়েছে এমন প্রায় ৪৮ পরিবার রাখাইনে ফিরতে ইচ্ছুক না বলে রয়টার্সকে সূত্র জানিয়েছে।

প্রত্যাবাসনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া কয়েক ডজন রোহিঙ্গা পরিবার চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে আশ্রয় কেন্দ্র থেকে পালাতে শুরু করেছিল।

গত সপ্তাহে অন্তত ২০ শরণার্থী রয়টার্সকে বলেছেন, রাখাইনে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন। সেখানে যেতে তারা আতঙ্কবোধ করছেন।

গত বছর আগস্টে রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরুর পর সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

তাদের কক্সবাজারের কয়েকটি কেন্দ্রে আশ্রয় দিয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তায় জরুরি মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ সরকার।

আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে গত বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও নানা কারণে প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হতে থাকে।

শেষ পর্যন্ত গত ৩০ অক্টোবর ঢাকায় দুই দেশের জয়েন্টওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য মধ্য নভেম্বর সময় ঠিক হয়।

এদিকে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফেরার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে তাদের প্রত্যাবাসনে সহযোগিতার জন্য গত এপ্রিলে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে বাংলাদেশ।

পরে মিয়ানমার সরকারও ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে একই ধরনের সমঝোতায় আসে।

ওই সমঝোতায় বলা হয়, বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা শরণার্থীরা যাতে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং সম্মানের সঙ্গে নিজেদের দেশে ফিরে যেতে পারেন এবং এই প্রত্যাবাসন যাতে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণ করে হয়, তা নিশ্চিত করতে সব পক্ষই কাজ করবে।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×