Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রদেশে ভোরে ট্রাকের ধাক্কায় একই পরিবারের পাঁচজন নিহত

Icon

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:২৭ পিএম

মধ্যপ্রদেশে ভোরে ট্রাকের ধাক্কায় একই পরিবারের পাঁচজন নিহত

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মধ্যপ্রদেশে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিন নারী, একটি শিশু এবং একজন পুরুষ রয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে মধ্যপ্রদেশের উমারিয়া জেলায় একটি যাত্রীবাহী গাড়ি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে সজোরে ধাক্কা দিলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে উমারিয়া জেলার সিভিল লাইনস থানার আওতাধীন ভারুলা গ্রামের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। একটি যাত্রীবাহী গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে গিয়ে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় গাড়িটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ভেতরে আটকে পড়েন যাত্রীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে গাড়িটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল যে ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। বিশেষ যন্ত্রপাতির সাহায্যে গাড়ির ভাঙা অংশ কেটে মরদেহ ও আহত ব্যক্তিকে বের করা হয়। 

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত এক নারীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান। ফলে নিহতের সংখ্যা পাঁচজনে দাঁড়ায়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহতরা মধ্যপ্রদেশের অনুপপুর জেলার লিলহাটোলা এলাকার বাসিন্দা। তারা একটি পারিবারিক সফরে চিত্রকূটে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সিদ্ধবাবা ধাম ভারুলা এলাকার কাছে পৌঁছালে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

উমারিয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলোক কুমার শর্মা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। নিহতদের স্বজনরা অনুপপুর থেকে উমারিয়ায় আসছেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। দুর্ঘটনার সময় গভীর রাত হওয়ায় সড়কে যানবাহনের চলাচল তুলনামূলক কম ছিল। তবে কী কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন, নাকি অন্য কোনো কারণ ছিল, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার সময় ট্রাকটি কেন সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিকট শব্দ শুনে তারা ছুটে এসে দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি দেখতে পান। গাড়ির সামনের অংশ প্রায় পুরোপুরি চূর্ণ হয়ে যায়। আহতদের উদ্ধারে স্থানীয়রাও পুলিশকে সহযোগিতা করেন।

ভারতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে গভীর রাতে দীর্ঘপথে চলাচলের সময় অতিরিক্ত গতি, ক্লান্তি, ঘুমঘুম ভাব এবং সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ভারী যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের মতো ঘটনায় প্রায়ই বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। এই দুর্ঘটনাও সেই উদ্বেগকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে। 

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম