Logo
Logo
×
   

আন্তর্জাতিক

চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ, বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করলেন কেমব্রিজের অধ্যাপক

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০১:০০ পিএম

চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ, বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করলেন কেমব্রিজের অধ্যাপক

অধ্যাপক জেসন আরডে। ফাইল ছবি

চৌর্যবৃত্তি (প্লেজিয়ারিজম) এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেসন আরডে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার পদত্যাগ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। এর আগে তার বিরুদ্ধে ওঠা নতুন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে।

২০২৩ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পান আরডে। তবে সম্প্রতি মার্কিন গবেষক নাথান কফনাস তার গবেষণাকর্মে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ তোলেন এবং তার কিছু একাডেমিক অর্জন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। কফনাস নিজেকে ‘রেস রিয়ালিস্ট’ বা জাতিসত্তা-বাস্তববাদী হিসেবে পরিচয় দেন।

জেসন আরডে স্বীকার করেছেন যে, তার গবেষণাকর্মে কিছু ভুল ছিল। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি কোনো মিথ্যাবাদী নন। তার দাবি, কেমব্রিজে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাকে অপসারণের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে প্রচারণা চালানো হয়েছে এবং এর পেছনে বর্ণবাদী মনোভাবও কাজ করেছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আরডে বলেন, কেমব্রিজে অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া তার জীবনের সবচেয়ে বড় পেশাগত সম্মান ছিল। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে যে চাপ ও মানসিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন, তাতে এই অধ্যায় শেষ করার একমাত্র উপায় ছিল পদত্যাগ করা।

তিনি আরও বলেন, তার পদত্যাগকে শিক্ষা, গবেষণা বা কেমব্রিজের মূল্যবোধের প্রতি আস্থাহীনতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। কিছু সময় নিজের ও পরিবারের জন্য প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে জানান, এটি তার কাজের সমাপ্তি নয়; সুস্থ হয়ে তিনি আবারও গবেষণা ও শিক্ষাক্ষেত্রে ফিরবেন।

চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ প্রথম প্রকাশ করেন নাথান কফনাস। তিনি দাবি করেন, বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে আরডের গবেষণা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিভিন্ন উৎস থেকে সামান্য সম্পাদনা করে বহু অংশ হুবহু ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি মূল লেখার সম্পাদনাগত কিছু ভুলও নাকি অপরিবর্তিত রয়েছে।

তবে আরডে বলেন, তার শুরুর দিকের গবেষণায় থাকা কিছু ভুল অটিজমের কারণে হয়েছে। তথ্য বোঝার ক্ষেত্রে তিনি অনুকরণের ওপর নির্ভর করতেন বলে ব্যাখ্যা দেন। একই ধরনের বিশ্লেষণ করলে অনেক গবেষকের কাজেই এমন ত্রুটি পাওয়া যেতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া আরডের বিভিন্ন দাতব্য দৌড়ের দাবিও প্রশ্নের মুখে পড়ে। তিনি অতীতে ৩৫ দিনে ৩০টি ম্যারাথন, তিন দিনে ৩০০ মাইল এবং ট্রেডমিলে ৬০০ মাইল দৌড়ানোর দাবি করেছিলেন। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে ৫০ লাখ পাউন্ডের বেশি অর্থ সংগ্রহের কথাও বলেছিলেন। পরে তিনি জানান, ওই অর্থ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অন্যদের সহযোগিতায় সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং গোপনীয়তা চুক্তির কারণে সংশ্লিষ্টদের নাম প্রকাশ করতে পারছেন না। ট্রেডমিলে ৬০০ মাইল দৌড়ের ক্ষেত্রেও তিনি জানান, এটি আসলে ৬ দিনের পরিবর্তে ১২ দিনে সম্পন্ন হয়েছিল।

এদিকে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, আরডের একাডেমিক যোগ্যতা ও সম্মানসূচক নিয়োগসংক্রান্ত নতুন তথ্য পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে গবেষণায় অসদাচরণের অভিযোগগুলোও বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে, পুরো প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ ও আইনসম্মতভাবে পরিচালিত হবে এবং আরডেকে প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, জেসাস কলেজও বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্তের পাশাপাশি নিজস্ব তদন্ত শুরু করেছে। তবে আরডের আত্মজীবনী প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া প্রকাশনা সংস্থা সাইমন অ্যান্ড শুস্টার তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছে, প্রকাশনা প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে তিনি পেশাদারিত্ব ও সততার পরিচয় দিয়েছেন।

আরডের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জোভান ওউসু-নেপল বিবিসিকে বলেন, পুরো ঘটনাই দুঃখজনক। তার মতে, আরডের জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে যেভাবে প্রকাশ্যে আলোচনা হয়েছে, তা অনাকাঙ্ক্ষিত। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কিছুটা ব্যক্তিগত সময় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সুত্র: বিবিসি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .