‘ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ ভারতীয়রা’— কেন্দ্রকে তোপ শশী থারুরের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
শশী থারুর। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন বা এফসিআরএ সংশোধনী বিল–২০২৬-এর প্রস্তাবিত পরিবর্তনের তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস সংসদ সদস্য শশী থারুর। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই বিল কার্যকর হলে সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার অস্বাভাবিক কেন্দ্রীকরণ ঘটবে এবং এর সবচেয়ে বড় ক্ষতি ভোগ করবেন সাধারণ মানুষ।
কেরালার তিরুবনন্তপুরমের সংসদ সদস্য শশী থারুর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি ভারতীয় রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের সম্পর্ককে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করে দেবে। তার ভাষায়, এটি ‘নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের একটি বিপজ্জনক ধাপ’।
প্রস্তাবিত বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল–২০২৬ অনুযায়ী, কোনো সংস্থার এফসিআরএ নিবন্ধন বাতিল, আত্মসমর্পণ বা নবায়ন না হলে সরকার একটি ‘নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ’ গঠন করতে পারবে। এই কর্তৃপক্ষ বিদেশি অনুদান এবং সেই অর্থে গড়ে ওঠা সম্পদের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেবে। ধর্মীয় উপাসনালয় হলে তার ধর্মীয় চরিত্র অক্ষুণ্ন রাখার কথাও বিলে উল্লেখ রয়েছে।
থারুরের অভিযোগ, বর্তমান সরকার অলাভজনক সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে নয়, বরং বিদেশি প্রভাব ও ষড়যন্ত্রের উৎস হিসেবে দেখছে। এ কারণে তাদের আন্তর্জাতিক অনুদানের ওপর নির্ভরশীলতাকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে এফসিআরএ আইনে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনগুলোর কাছে অনুদান স্থানান্তরে নিষেধাজ্ঞা, প্রশাসনিক ব্যয়ের সীমা কমিয়ে আনা এবং বিদেশি অনুদান গ্রহণের জন্য দিল্লির একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক শাখা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা।
থারুরের দাবি, এসব পদক্ষেপের ফলে বিদেশি অনুদান ৮৭ শতাংশ কমে গেছে এবং হাজারো ধর্মনিরপেক্ষ ও জনকল্যাণমূলক সংগঠন কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন সংশোধনীতে সরকারের সম্পদ অধিগ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হলে পুরো অলাভজনক খাত স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কেরালার উদাহরণ তুলে ধরে থারুর বলেন, খ্রিস্টান পরিচালিত দাতব্য ট্রাস্ট, স্কুল, হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক সংস্থা শত বছরেরও বেশি সময় ধরে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সেবা দিয়ে আসছে। এসব প্রতিষ্ঠান স্থানীয় অনুদান, দেশীয় আয়ের পাশাপাশি বিদেশি অনুদানের ওপরও নির্ভরশীল।
তার মতে, নতুন আইনের আওতায় কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে এফসিআরএ লাইসেন্স বাতিল হলে একটি ৫০০ শয্যার দাতব্য হাসপাতালও মুহূর্তের মধ্যে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। এতে স্বাস্থ্যসেবাসহ জনসেবামূলক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ মানুষ।
থারুর বলেন, ‘প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নয়নে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এভাবে শাস্তিমূলক আইনি ব্যবস্থার মুখে ফেলা গভীর অবিচার। গির্জা ও সংশ্লিষ্ট দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদান কোটি কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে প্রমাণিত।’
তিনি বিলটিকে গণতন্ত্রবিরোধী আখ্যা দিয়ে সংসদে এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নেওয়ার জন্য বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১৩ হাজার ৫২০টি সংস্থা বিদেশি অনুদান হিসেবে মোট ৫৫ হাজার ৭৪১ কোটি রুপি পেয়েছে।
এফসিআরএ পোর্টালের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত ১৪ হাজার ৪৪৯টি সংস্থার সক্রিয় এফসিআরএ সনদ রয়েছে। এ ছাড়া ২২ হাজার ৪৯৮টি সনদ বাতিল হয়েছে এবং ১৫ হাজার ২১২টি সনদের মেয়াদ শেষ হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
