হাসপাতালে ভর্তি বন্ধুর প্রতি ৪ কুকুরের কীর্তি

  যুগান্তর ডেস্ক ২০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:৫০ | অনলাইন সংস্করণ

হাসপাতালে ভর্তি বন্ধুর প্রতি ৪ কুকুরের কীর্তি
হাসপাতালে দরজায় অপেক্ষারত চার কুকুর। ছবি: সংগৃহীত

হাসপাতালের দরজার সামনে ঠাঁই দাঁড়িয়ে চারটি কুকুর। কুকুরগুলোর চেহারা মলিন, নির্বাক নয়নে কিছু একটা প্রত্যাশায় দাঁড়িয়ে।

না কোনো খাবারের জন্য নয়, সেদিকে তাদের কোনোই খেয়াল নেই। অপেক্ষা শুধু কখন সুস্থ হয়ে উঠবে তাদের প্রিয় মানুষটি।

সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাজিলে। সেখানে সান্তা ক্যাটারিনার হসপিটাল রিজিওনাল অল্টো ভ্যালেতে ভীষণ অসুস্থতা নিয়ে ভর্তি হন সিজার নামে এক তরুণ।

তাকে দেখার কেউ নেই। কিন্তু তরুণের ভর্তির সময় থেকে চারটি কুকুর এভাবে অপেক্ষা করছিল তাদের বন্ধু সিজারের জন্য।

হাসপাতালের নার্স ক্রিস ম্যামপ্রিম ফেসবুকে ছবি দিয়ে এমনটিই জানিয়েছেন।

তিনি জানান, রাত ৪টা অবধি কুকুরগুলো হাসপাতালের দরজা থেকে এক চুলও সরেনি।

ক্রিস আরও জানিয়েছেন, ভোরবেলায় কুকুরগুলো তাদের বন্ধুর সুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করেই সেই হাসপাতালের দরজা ছেড়ে চলে যায়।

তিনি জানান, ভোরে কিছুটা সুস্থ হন সিজার। এর পর তার কাছে কুকুরগুলোকে নিয়ে যাই।

এ সময় তিনি কুকুরগুলোর ভদ্রতার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এদের ভদ্রতা যেন মানুষতুল্য। কিছু ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি। যতক্ষণ না পর্যন্ত তাদের ভেতরে ঢুকতে অনুমতি দেয়া হয়েছে, ‘বন্ধুর’ অপেক্ষায় বাইরে চুপটি করে বসেছিল তারা।

পরে হাসপাতল কর্তৃপক্ষ থেকে সিজার এবং এই চারটি কুকুরকে খাবার দেয়া হয়। ‘বন্ধুর’ সুস্থতার ট্রিট পেয়ে ভীষণ খুশি হয় কুকুরগুলো।

ওই অসুস্থ রোগীর প্রতি কুকুরগুলো এমন ভালোবাসা দেখে অবাক হয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মীরা।

স্থানীয়দের কাছেও ব্যাপারটি কৌতূহলের।

হুইল চেয়ারে বসে চার কুকুরের সঙ্গে সময় পার করছেন সিজার

অনেকের চোখে বিস্ময় ওই অবুঝ প্রাণীদের সঙ্গে সিজারের কী এমন সম্পর্ক? জানা গেছে, সিজার একজন ভবঘুরে বা ছিন্নমূল। ফুটপাতেই কাটে তার জীবন। খাবার জুটলে খায় না পেলে অনাহারেই কাটে তার দিন। তবে খাবার পেলে তা তিনি ওই চার কুকুরের সঙ্গে ভাগাভাগি করেই খান।

সিজারের পরম আত্মীয় এই কুকুরগুলো। সুখে-দুঃখে সবসময়ের সঙ্গী।

সিজার যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন নাকি ওই কুকুরদের তৎপরতায় পথচারীরা সিজারকে এই হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়ে যায়।

বন্ধুকে বিপদের মুহূর্তে কুকুররা কখনও ছেড়ে চলে যায় না। এমনটি সবসময়ই শোনা যায়। সে কথার আরও একবার প্রমাণ হল ব্রাজিলের একটি ঘটনায়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×