অচলাবস্থা: পেলোসির বিদেশ ভ্রমণ বাতিল করলেন ট্রাম্প

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ছবি: বিবিসি

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির আফগানিস্তান ও ব্রাসেলস সফর বাতিল করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সরকারের অচলাবস্থা নিরসনে আলোচনা করতে তাকে দেশে থাকতে বলেছেন তিনি।

পেলোসি ও তার সঙ্গে যাওয়া প্রতিনিধিদের সামরিক বিমান ব্যবহার করতে না দিয়ে সফর স্থগিত করে দিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বৃহস্পতিবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিমানে চেপেই ন্যান্সি ও প্রতিনিধিদলের ব্রাসেলস এবং আফগানিস্তানে যাওয়ার কথা ছিল।

ট্রাম্প ওই বিমানের যাত্রা আটকে দিয়েই চলতি মাসের শুরুতে স্পিকারের দায়িত্ব নেয়া ন্যান্সির সফর বাতিল করেন।

এর মধ্যে রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে স্টেট অব ইউনিয়নের ভাষণ স্থগিত করতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বুধবার অনুরোধ জানিয়েছিলেন পেলোসি।

বছরের শুরুতে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে প্রেসিডেন্টের ওই স্টেট অব দ্য ইউনিয়নের ভাষণ দেওয়ার রেওয়াজ আছে।

মার্কিন সরকারের দীর্ঘতম অচলাবস্থা ২৭ দিনে পড়েছে। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে ৫৭০ কোটি ডলার বরাদ্দ চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা তা দিতে অস্বীকার করেছেন।

ট্রাম্প লিখেছেন- আমি মনে করছি, এই সময়টায় আপনি যদি ওয়াশিংটনে থেকে আমার সঙ্গে আলোচনায় বসেন এবং অচলাবস্থা নিরসনে স্ট্রং বর্ডার সিকিউরিটি আন্দোলনে যোগ দেন, তবে সেটি ভালো হবে।

তিনি বলেন, পেলোসি বাণিজ্যিক বিমানে করে সফরে যেতে পারেন। তার সফরকে একটি গণসংযোগ কর্মসূচি হিসেবে আখ্যায়িত করেন ট্রাম্প।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে এখন বলতে গেলে ভুতুড়ে অবস্থা বিরাজ করছে। আর করবেই বা না কেন, দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘতম অচলাবস্থায় অনেক হোটেলই ফাঁকা পড়ে আছে। পর্যটন ব্যবসায়ীরাও অন্ধকার দেখছেন।

রেস্তোরাঁ খোলা রাখতে ভাবা হচ্ছে ঋণের কথা। পর্যটন কোম্পানিগুলোতেও ফোন বাজছে না আগের মতো। যদিও জানুয়ারির এই সময়ে সেখানে পর্যটকদের খুব একটা আনাগোনা থাকে না।

মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থায় গত চার সপ্তাহ ধরে আংশিক অচলাবস্থা চলছে। এতে ফাঁকা হয়ে গেছে দেশটির রাজধানী। পর্যটক কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদেরও মাথায় হাত।

দেশটির ইতিহাসের অনেক ঘটনার সাক্ষী হয়ে আছে ওয়াশিংটন। আর এসব দেখতে বছরে দুই কোটিরও বেশি পর্যটক আসেন এখানে।

তারা ওয়াশিংটনের স্মিথসনিয়ান জাদুঘর, স্মৃতিসৌধ, ক্যাপিটল হিল ও হোয়াইট হাউস দেখতে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসেন।

কিন্তু এবার তাতে বাঁধ সেধেছে দীর্ঘ অচলাবস্থা। বেকার হয়ে পড়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান। আর পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলোও পড়ছে হুমকিতে।

ওয়াশিংটন ডিসির কাস্টম ট্যুরস কোম্পানির স্বত্বাধিকারী অ্যাডাম প্লেসিয়া বলেন, আমার ধারণা- মানুষ নিকট ভবিষ্যতেও ট্যুর বুক করার ক্ষেত্রে সন্দিহান থাকবে।