একে একে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে গুজরাত দাঙ্গার নৃশংস খুনিরা!

  যুগান্তর ডেস্ক ২৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:৩০:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ

গুজরাতে নির্বিচারে মোসলমানদের ওপর বিজেপির হিন্দু উগ্রবাদীদের হত্যাকাণ্ড চালানোর সময় এভাবে প্রাণ ভিক্ষা চেয়েও শেষ রক্ষা হয়নি

ভারতের গুজরাতের ২০০২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির দাঙ্গায় আহমেদাবাদের নারোদা পাটিয়া মহল্লায় অন্তত ৯৭ জন মুসলিমকে যেভাবে মারা হয়েছিল, ইতিহাসের পাতায় তা সবচেয়ে বীভৎস হত্যাকান্ডগুলোর একটি।

সতেরো বছর আগেকার ওই দাঙ্গায় সবচেয়ে নৃশংস হত্যাকান্ডটি যারা ঘটেছিল সেই নারোদা পাটিয়া মামলার আসামিরা একের পর এক জেল থেকে বেরিয়ে আসছেন। খবর বিবিসির।

এ সপ্তাহেই দেশটির সুপ্রিম কোর্ট চার খুনিকে জামিন দিয়েছে। মাসকয়েক আগে ওই একই মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন বিজেপি নেত্রী ও সাবেক মন্ত্রী মায়া কোদনানি। তার নেতৃত্বেই নিরপরাধ নিরস্ত্র ও অসহায় মোসলমানদের ওপর নারোদা পাটিয়াতে হত্যালীলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, গুজরাটের দাঙ্গাপীড়িতরা যে আদৌ ন্যায় বিচার পাচ্ছেন না তা এসব ঘটনা থেকেই প্রমাণিত হচ্ছে।

আহমেদাবাদের নারোদা পাটিয়া মহল্লায় ২০০২ সালের ওই দাঙ্গায় সেদিন অনেককে জীবন্ত জ্বালিয়ে দিয়েছিল উগ্রবাদী ও হিন্দু মৌলবাদীরা।

এমন কী এক গর্ভবতী নারীর পেট চিরে ভ্রূণ বের করে সেই সন্তান ও মা দুজনকেই কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা অনেকেই জানিয়েছেন।

কিন্তু সেই মামলায় নিম্ন আদালতে দন্ডিত হয়ে জেল খাটছিলেন, এমন চারজনের দন্ডাদেশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দুই সদস্যের বেঞ্চ প্রশ্ন তুলেছে - এবং দুদিন আগে তারা প্রত্যেকেই শীর্ষ আদালত থেকে জামিন পেয়ে গেছেন।

গুজরাটে দাঙ্গাপীড়িতদের হয়ে বহু বছর ধরে লড়ছেন আহমেদাবাদের অ্যাক্টিভিস্ট নির্ঝরিণী সিনহা।

তিনি বলেন, নারোদা পাটিয়া মামলায় নিম্ন আদালতে কিন্তু খুব ভাল বিচার হয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্ট বা উচ্চতর আদালতে পৌঁছনোর পরই দেখা যাচ্ছে হয় সেগুলোতে হয় প্রসিকিউশন ঠিকমতো হচ্ছে না, কিংবা আগের সাক্ষ্য গ্রাহ্য হচ্ছে না - এবং দন্ডিতরা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছেন।

কোন কিছু যে ঠিকঠাক হচ্ছে না, সেটা বোঝাই যাচ্ছে। ভিক্টিমদের সঙ্গে ক্রিমিনাল জুরিসপ্রুডেন্স সিস্টেমের এটা যেন চরম এটা একটা প্রহসন।

নারোদা পাটিয়া হামলায় নেতৃত্ব দানকারী সে সময়কার বিজেপি সরকারের মন্ত্রী মায়া কোদনানিও প্রায় পাঁচ বছর জেল খাটার পর গত বছরের এপ্রিলে গুজরাট হাইকোর্টের রায়ে মুক্তি পেয়ে যান।

নারোদা পাটিয়ার বাসিন্দারা সে সময় বিজেপির গুজরাতি বিভাগকে বলেছিলেন ওই সিদ্ধান্তে তাদের বিচার পাওয়ার আশা চুরমার হয়ে গেছে।

'গুজরাট ফাইলস' বইয়ের লেখিকা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক রানা আয়ুবও মনে করছেন মায়া কোদনানির মুক্তির পর থেকেই যেন এই বিচারের ধারাটা পুরো উল্টে গেছে।

২০১২ সালে নিম্ন আদালতে কিন্তু বিচারক জ্যোৎস্না ইয়াগনিক তাকেই ওই গণহত্যার মূল ষড়যন্ত্রকারী বলে চিহ্নিত করেছিলেন - আর সেটা করা হয়েছিল চল্লিশজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত