বিরোধপূর্ণ চীন সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, চীনে উত্তেজনা

  যুগান্তর ডেস্ক    ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

বিরোধপূর্ণ চীন সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, চীনে উত্তেজনা
বিরোধপূর্ণ চীন সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, চীনে উত্তেজনা। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ভ্রমণ করার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা। চীনের দাবিকৃত দ্বীপগুলোর কাছ দিয়ে

ক্ষেপণাস্ত্রবাহী দুটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ভ্রমণ করে।

সোমবার বিরোধপূর্ণ স্পার্টলি দ্বীপপুঞ্জের মিসচিফ প্রবালপ্রাচীরের ১২ নটিক্যাল মাইল দূরে দিয়ে ভ্রমণ করেছে। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক উত্তেজনা মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপে বেইজিং ক্ষিপ্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ চীন সাগরে চীন ছাড়া জাপান ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের নৌবাহিনীও তৎপরতা চালিয়ে থাকে।

বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান দুই শক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দক্ষিণ চীন সাগরে যার যার কৌশলগত স্বার্থ হাসিলে ভীষণভাবে সচেষ্ট।

সম্প্রতি জাপানে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনকে যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত স্বার্থের পক্ষে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে।

অবস্থানগত কারণেই দক্ষিণ চীন সাগর বিশ্ব বাণিজ্য বা অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারা দুনিয়ার সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের অর্ধেকেরও বেশি এ সাগর পথেই সম্পাদিত হয়ে থাকে।

৫ ট্রিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থের বাণিজ্য যে পথে হয়ে থাকে, সেখানে সামান্যতম বিরোধ বা উত্তেজনা সমগ্র বিশ্বকে আলোড়িত করাটাই স্বাভাবিক। বিশাল বিস্তৃতি নিয়ে দক্ষিণ চীন সাগর প্রবহমান, সিঙ্গাপুর ও মালাক্কা প্রণালী থেকে তাইওয়ান প্রণালী পর্যন্ত প্রায় ৩৫ লাখ বর্গকিলোমিটারের এক বিরাট এলাকা নিয়ে যার ব্যাপ্তি।

প্রতিবদেনে বলা হয়, চীন দক্ষিণ চীন সাগরের কৌশলগত জলপথে জাহাজের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে বলে মনে করে ওয়াশিংটন আর তা প্রতিরোধ করতেই ওই জলপথে যুদ্ধজাহাজ পাঠায় তারা।

চীন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় পুরোটার মালিকান দাবি করে আসছে। এই সাগরে তাদের অধিকৃত দ্বীপগুলোর কাছাকাছি তৎপরতা চালানোর কারণে দেশটি প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে থাকে।

দক্ষিণ চীন সাগরের বেশ কয়েকটি মগ্ন শৈলশিরাকে কৃত্রিমভাবে দ্বীপে রূপান্তরিত করেছে চীন। ওই দ্বীপগুলোতে সামরিক স্থাপনা গড়ে তুলে বেইজিং এলাকাটির সামরিকায়ন করছে বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের। অতীতে এই নিয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়েছে।

ওই এলাকায় নিজেদের নির্মাণকাজকে আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উল্লেখ করে তাদের নিয়ন্ত্রিত দ্বীপগুলোর কাছে যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বিমান পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রই ওই অঞ্চলে উত্তেজনার উস্কানি দিচ্ছে বলে অভিযোগ বেইজিংয়ের।

চীনের পাশাপাশি ভিয়েতনাম, ফিলিপিন্স, ব্রুনেই, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও তাইওয়ান দক্ষিণ চীন সাগরের বিভিন্ন অংশের মালিকানা দাবি করে আসছে।

দক্ষিণ চীন সাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলোর মধ্যে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের প্রশ্নে বড় ধরনের বিরোধ রয়েছে।

মতবিরোধের মূল কারণ, দক্ষিণ চীন সাগরের ৮০ শতাংশের ওপর চীন তার সার্বভৌমত্ব দাবি করছে, যা উপকূলবর্তী অন্য দেশগুলোর জন্য উৎকণ্ঠার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশগুলো হচ্ছে- ব্রুনাই, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইন।

ঐতিহাসিক তথ্যাবলীর ভিত্তিতে চীন তার দাবির যৌক্তিকতা প্রমাণে সচেষ্ট। প্রাচীনকালে দক্ষিণ চীন সাগরকে চেং সাগর বলে অভিহিত করা হতো।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×