আসাদকে একঘরে করেই রাখতে চাচ্ছে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র

  যুগান্তর ডেস্ক ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ

সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক না গড়তে উপসাগরীয় দেশগুলোকে সৌদি-মার্কিন চাপ
ছবি: রয়টার্স

আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্নোন্নয়নে নিরুৎসাহিত করছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের প্রভাব মোকাবেলা করতে দামেস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ছিল আমিরাতের। পাঁচটি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

সিরিয়ায় গত আট বছরের গৃহযুদ্ধে একঘরে হয়ে পড়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। এখন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে তিনি কতটা সফল হবেন, তার প্রথম পরীক্ষা হচ্ছে এ মার্কিন বিরোধিতা।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরেই বহু দেশ সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেছিল। উপসাগরীয় দেশগুলো সিরিয়ায় তাদের দূতাবাসগুলো বন্ধ কিংবা পরিসর ছোট করে দিয়েছিল।

আরব লিগ থেকে সিরিয়াকে বের করে দেয়ার পাশাপাশি বিমান চলাচল ও সীমান্ত পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ সিরিয়ার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

সিরিয়াকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সৌদি আরব ও কাতারসহ মার্কিন সমর্থনপুষ্ট উপসাগরীয় দেশগুলো যাতে স্বাগত না জানায়, সেটিই এখন চাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ শেষের পর একটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি না পৌঁছানো পর্যন্ত এ অবস্থা বহাল রাখতে চাচ্ছে ওয়াশিংটন।

সিরিয়াকে কূটনৈতিক চাপে রাখা নিয়ে জানতে চাইলে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, অন্যদের চাপে রাখতে সৌদি আরব পুরোপুরি সহায়ক ভূমিকা রাখছে। কাতারও সঠিক কাজটিই করছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুবই খুশি যে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ দামেস্কের ওপর তাদের চাপ অব্যাহত রেখেছে।

কাজেই এ মার্কিন অবস্থান বলে দিচ্ছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেতে প্রেসিডেন্ট আসাদকে এখন বহুদূর যেতে হবে।

ইরান ও রাশিয়ার সহায়তায় সুন্নি বিদ্রোহীদের হটিয়ে সিরিয়ার অধিকাংশ অঞ্চল এখন আসাদ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।

যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক শক্তি সৌদি আরবের সমর্থনের অভাবে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটানো সিরিয়ার জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। যদিও বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়া দেশটির পুনর্গঠনে ব্যাপক বিনিয়োগ দরকার।

আরব আমিরাতের বিশ্বাস, আসাদকে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইরানের কক্ষপথ থেকে বের করে নিয়ে আসতে দেশটির সঙ্গে দ্রুত কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। কিন্তু সৌদি আরব ও কাতার মার্কিন উদ্যোগকে সমর্থন জানাচ্ছে।

উপসাগরীয় সূত্র জানায়, আরব আমিরাত আসাদকে একমাত্র বিকল্প হিসেবে দেখছে। এতে ইরাকে যেমন ইরানের প্রভাব রয়েছে, ঠিক সেই অবস্থা থেকে সিরিয়াকে বের করে নিয়ে আসা যাবে।

যুদ্ধে আসাদবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আরব আমিরাত সহায়তা করেনি। কিন্তু সৌদি ও কাতারের তুলনায় আমিরাতের ভূমিকা খুব একটা ফলাও করে প্রচার পায়নি। কিন্তু সিরিয়ায় দেশটির ভূমিকায় এটিই নিশ্চিত করছে যে, আসাদবিরোধী বিদ্রোহে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলো প্রাধান্য পাচ্ছে না।

সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা না করে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি কর্মকর্তারা বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশের প্রতিনিধিদের ফোন করে সেই আহ্বান জানাচ্ছে।

ঘটনাপ্রবাহ : সিরিয়া যুদ্ধ

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×