ব্রিটিশ জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন শামীমার বাবা

  যুগান্তর ডেস্ক ১০ মার্চ ২০১৯, ১৪:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

শামীমা বেগম
শামীমা বেগম। ফাইল ছবি

মেয়ে ইসলামিক স্টেটে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে ব্রিটিশ জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক শামীমা বেগমের বাবা আহমেদ আলী।

বাংলাদেশের সুনামগঞ্জে বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আহমেদ আলী বলেন, আমার মেয়ে অন্যায় করেছে, আমি তার বাবা হিসেবে তার কর্মকাণ্ডের জন্য সবার কাছে ক্ষমা চাই।

সে যা করেছে, সে জন্য আমি দুঃখিত। ব্রিটিশ জনগণের কাছে আমার অনুরোধ তাকে ক্ষমা করে দেয়া হোক।

৬০ বছর বয়সী তার বাবা বলেন, তার মেয়ে ১৫ বছর বয়সে সিরিয়া গিয়েছিল। সেই সময় সে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল, অতকিছু বুঝতে পারেনি।

আমার মনে হয় কেউ তাকে ভুল বুঝিয়ে নিয়ে গেছে। তবে যাই করেছে সে ভুল করেছে।

তিনি ব্রিটিশ সরকার ও জনগণের কাছে তার মেয়েকে ফিরে আসার সুযোগ দেয়ার এবং সে ভুল করে থাকলে সে জন্য শাস্তি দেয়ার অনুরোধ জানান।

এর আগে যুক্তরাজ্যে শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বহাল রাখার অনুরোধ জানিয়ে সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন আহমেদ আলী।

সেই সময় তিনি বলেছিলেন- যদি শামীমা স্বীকার করে যে, সে অপরাধ করেছে, তবে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে তার যথাযোগ্য শাস্তি হওয়া উচিত। তবে এখনই তার সন্তানের নাগরিকত্ব বাতিল করা উচিত নয়৷

তিনি বলেন, আমার সন্তান যখন সিরিয়া গিয়েছিল, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৫, সে ছিল অবুঝ৷ আমি ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, যাতে তার নাগরিকত্ব বাতিল করা না হয়৷

সে যদি অপরাধ করে থাকে, তবে তাকে ব্রিটেনে ফিরিয়ে এনে শাস্তি দেয়া হোক৷

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ সম্প্রতি শামীমার নাগরিকত্ব বাতিল করেছেন৷ শামীমার পরিবার তার দ্বৈত নাগরিকত্ব নেই বলে জানিয়েছে৷ বিষয়টি নিয়ে এখন মামলা চলছে৷

চার বছর আগে দুই সঙ্গীসহ আইএসে যোগ দিতে লন্ডন থেকে সিরিয়ায় পাড়ি দেয়া শামীমা বেগমকে নিয়ে নেদারল্যান্ডসে ফিরে যেতে চান তার স্বামী ইয়াগো রিদাইক।

২০১৫ সালে শামীমা সিরিয়ায় আইএসনিয়ন্ত্রিত এলাকায় যাওয়ার কিছু দিনের মধ্যে তাদের বিয়ে হয়। তখন শামীমার বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর।

বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়াগো জানান, তিনি আইএসের সঙ্গে যুদ্ধ করতে নিজ দেশ ছাড়লেও এখন স্ত্রী ও নবজাতককে নিয়ে দেশে ফিরতে চান।

২৭ বছর বয়সী ইয়াগো বর্তমানে সিরিয়ায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কুর্দি বাহিনীর হাতে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে আটক আছেন।

নিজ দেশে ফিরে গেলে সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগ দেয়ার অপরাধে ছয় বছরের কারাদণ্ড হতে পারে ইয়াগো রিদাইকের।

বিবিসির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রতিবেদক কুয়েনটিন সামারভিলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়াগো বলেন, তিনি ভুল বুঝতে পেরে আইএসকে পরিত্যাগ করেছেন।

এখন এ দলটি ছেড়ে আসার চেষ্টা করছেন তিনি। এ কারণে জঙ্গিরা তাকে ডাচগোয়েন্দা দাবি করে রাকায় কারাবন্দি করে নির্যাতন করছে।

এদিকে সপ্তাহ তিনেক আগে জন্ম নেয়া শামীমা বেগমের তৃতীয় শিশুটি মারা গেছে।

শুক্রবার মার্কিন সমর্থিত সিরীয় গণতান্ত্রিক বাহিনীর (এসডিএফ) এক মুখপাত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এমন তথ্য জানিয়েছে। এ ছাড়া শামীমার প্রথম দুটি সন্তানও মারা গেছে।

২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্য থেকে আইএসে যোগ দিতে সিরিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন শামীমা।

তখন তার বয়স ছিল ১৫ বছর। আর তার সঙ্গে ছিলেন তার বান্ধবী আমিরা আব্বাস। তারও বয়স ছিল তখন ১৫ বছর।

তা ছাড়া খাদিজা সুলতানা নামে ১৬ বছর বয়সী আরেক বান্ধবীও তাদের সঙ্গে ছিলেন। তারা তিনজনই লন্ডনের বেথনাল গ্রিন একাডেমির শিক্ষার্থী ছিলেন।

তারা তিনজন যুক্তরাজ্যের গেটওয়ে বিমানবন্দর থেকে প্রথমে তুরস্কে পৌঁছেন। তুরস্কে পৌঁছানোর পর সীমান্ত পাড়ি দিয়ে সিরিয়ায় যান।

সিরিয়ার শহর রাক্কায় কিছু দিন অবস্থানের পর ডাচ নাগরিক ইয়াগো রিদাইকের সঙ্গে শামীমার বিয়ে হয়। তিনি অন্য ধর্ম থেকে ইসলামগ্রহণ করেছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×