ক্যানসার নিয়ে নন্দিতার ‘কলমযুদ্ধ’

  যুগান্তর ডেস্ক ১০ মার্চ ২০১৯, ২১:৫০ | অনলাইন সংস্করণ

নন্দিতা আচার্য।
নন্দিতা আচার্য। ছবি সংগৃহীত

ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার পর বেশিরভাগ মানুষ জীবনের প্রতি নিরাসক্ত হয়ে পড়েন৷ তারা ভাবেন আমার তো দিন শেষ হয়ে আসছে। তাই তাদের স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে। কারণ একজন মানুষ যখন জানতে পারেন ধীরে ধীরে তিনি মৃত্যুর দিকে পতিত হচ্ছে তখন তার আর কোনো আশা ভরসা থাকে না। এছাড়া এধরনের মানুষদের মনে একটা ভয়ানক মানসিক কষ্ট ভর করে।

তবে পৃথিবীতে কিছু ব্যতিক্রম মানুষও রয়েছেন যারা কিনা ক্যানসার সঙ্গে লড়াই করেও অমর হয়ে থাকতে চান তার সৃষ্টি দিয়ে। এ ধরনের সৃষ্টিশীল একজন নারী হচ্ছেন নন্দিতা আচার্য। নামের সঙ্গে তার কাজের আশ্চার্য মিল রয়েছে। ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পরে তার সঙ্গী হিসেবে বেছে নেন কলম। তিনি কলম যোদ্ধা।নন্দিতা আচার্যকলকাতার বাসিন্দা। ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে স্বপ্ন পূরণের পথে এই নারী। সাহিত্যকে ভালোবেসে আপন করে নিয়েছেন নিজের মত করে।

নন্দিতা আচার্য মারণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য তিনি লেখা শুরু করেন। বিগত দশ বছরে তিনি লিখেছেন পাঁচটি উপন্যাস, যার প্রতিটিই পাঠকমহলে সমাদৃত৷ ক্যানসারকে প্রতিরোধ করতেই হয়ে উঠেছেন কলমযোদ্ধা।

শরীরের সঙ্গে যুদ্ধ করে শত বাধার দেয়াল ডিঙিয়ে তিনি নিজের গল্প নিয়ে স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যেতে চাইছেন৷ তার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল তিনি একটি সিনেমা তৈরি করবেন। এবার নিজের গল্প নিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণের দিকে এগিয়ে চলেছেন তিনি।

নন্দিতা আচার্য বলেন, আমি এমন একটি মানুষ যার খুব একটা অসুখ হতো না। ছোট বেলা থেকে খেলাধুলা করতাম, পাহাড়ে চড়া ও সাতার কাটতে ভালোবাসতাম। আমি যে অসুস্থ তা আমি বুঝতেই পারিনি। আমি ভাবতাম এসব আমার মানসিক ব্যাপার। এই মানসিক সমস্যা নিয়ে আমার কাজ চলতে লাগলো। এর মধ্যে আমি দুইবার অজ্ঞান হয়ে যাই। চিকিৎসকেরা বুঝতে পেরেছেন যে আমার ক্যানসার এবং তা খুব খাবার পর্যায়ে পৌছে গেছে।

তিনি বলেন এই অন্ধকার সময়টাকে অতিক্রম করার জন্য যত রকম চেষ্টা তার কিছুই বাদ রাখিনি আমি। ২৪টা কমো নিয়েছি। অসম্ভব যন্ত্রণা ছিল। এমনকি ডাক্তারের সঙ্গে খাবার ব্যাপার হয়েছি। আমি ডাক্তারকে বলতাম আমি বাচতে চাই না। আমাকে কেন বাচিয়ে রাখতে চান।

তবে পরক্ষণে আমার মনে হতো আমাবে বাঁচতে হবে। আমরার আপনজন রয়েছে আমার স্বপ্নগুলো রয়েছে। তখন থেকে আমি উপন্যাস লেখার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমি ভাবলাম আমি এমনকিছু লিখবো যা মানুষ বহুদিন মনে রাখবে।

আমার যখন চুল পড়ে গেছে, চোখের পাতা পড়ে গেছে তখন আমি ভাবতাম তাজমলে বেড়াতে যাব। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর কথা মনে করে কষ্ট ভোলার চেষ্ঠা করতাম। এছাড়া প্রতিদিনই মাথার কাছে কাগজ কলম রাখতাম। লিখার চেষ্টা করতাম।

হাসপাতালে গেলে আমি দেখতাম অনেকের চুল পড়ে গেছে, ভ্র নেই তারা বসে আছে রোগা হয়ে। ক্যামো নিয়ে আমরা যখন সেই অবস্থা হচ্ছিল তখন আমি ভ্র আট করা, চোখে কাজল দেয়া ও মাথায় স্কাফ পড়টাম। স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করতাম।

বইয়ের কথা উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, ভোর বেলার আলো ও দেবদূত এলন। মাঝখানে ১০ বছর কেটে গেছে। লেখা ক্যান্সারের আগে শুরু করলেও শেষ করে তখন আমি প্রতিনিয়ত ক্যামো নিচ্ছি। ক্যামোগুলো নেয়ার পড়ে শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা হতো।

এই অসুখ আমার কাছ থেকে যেমন অনেক কিছু নিয়েছে তেমনি দিয়েছে অনেক উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, অসুখ আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে যা আমি সারা জীবনে শিখতে পারতাম না। আর এই শেখা থেকে আমি সুন্দর একটা সিনেমা বানাবো।

তিনি বলেন, ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে আমি বুঝেছি এই রোগ মানুষের কতটা যন্ত্রণা দেয়। তাই কেউ ক্যান্সারের আক্রান্ত হলে আমি তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করি।

সূত্র: ডয়েচে ভেলে

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×