ন্যাম হত্যা: ইন্দোনেশিয়ান নারীকে মুক্তি দিলেও ভিয়েতনামি নারীর আবেদন খারিজ

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৯, ১৭:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ন্যাম হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক ভিয়েতনামি নারীর অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছে মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সৎভাই কিম জং ন্যাম হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক ভিয়েতনামি নারীর অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছে মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ।

৩০ বছর বয়সী ডোয়ান থি হুংকে ছেড়ে দিতে ভিয়েতনাম সরকার মালয়েশিয়াকে চাপ দিচ্ছিল। ভিয়েতনামের চাপ সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদনটি খারিজ করেছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। খবর বিবিসির।

বৃহস্পতিবার লাল হেডস্কার্ফ ও বুলেটপ্রুফ পোশাক পরে হুংকে আদালতে আনা হয়েছিল। হত্যার অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন খারিজ করে দিয়ে আদালত দেড় বছর ধরে চলা বিচার অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিলে হুং কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘কেবল ঈশ্বরই জানেন আমরা এ খুন করিনি। আমি চাই আমার পরিবার যেন আমার জন্য প্রার্থনা করে।’

ন্যাম হত্যার অভিযোগে ইন্দোনেশীয় নারী সিতি আইসিয়াহরও বিচার চলছিল, সোমবার আকস্মিক আইসিয়াহর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করে তাকে মুক্তি দিলেও ভিয়েতনামের হুংকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না।

আইসিয়াহর আকস্মিক মুক্তিলাভের পর থেকেই হুং আর ঘুমাতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইসিয়াহ মালয়েশিয়া থেকে জাকার্তায় ফিরে গেছেন।

কিম জং ন্যাম হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে এ দুজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছিল মালয়েশিয়ার পুলিশ।

আটকের পর থেকেই এ দুই নারী নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।

২০১৭ সালে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে ন্যামের মুখে বিষাক্ত তরল ভিএক্স নার্ভ এজেন্ট মেখে দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে ন্যামের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার ডোয়ান থি হুং এবং ইন্দোনেশীয় নারী সিতি আইসিয়াহকে গ্রেফতার করে মালয়েশিয়ার পুলিশ।

সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ দেখে ওই দুই নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছিল মালয়েশিয়া সরকার। 

কৌশলে তাকে এ হত্যাকাণ্ডের অংশীদার করা হয়েছে বলে দাবি ভিয়েতনামি নারী হুংয়ের। বিচারে দোষী প্রমাণিত হলে হুংয়ের মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে তার।

হুংয়ের ‘ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে ও তাকে ছেড়ে দিতে’ ভিয়েতনামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফাম বিন মিন মালয়েশিয়াকে অনুরোধ করেছেন বলে এর আগে ভিয়েতনাম সরকার জানিয়েছিল।

হুংকে ছেড়ে দিতে ভিয়েতনামের আইনমন্ত্রী মালয়েশিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলকে চিঠিও লিখেছিলেন।