ক্রাইস্টচার্চের ঘটনায় সিজদা দিয়ে অমুসলিম ফুটবলারের প্রতিবাদ

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৯, ১৭:২০ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

নিহতদের প্রতি সম্মান জানিয়ে শনিবার রাতে নৃশংস এ হামলার এভাবেই অভিনব প্রতিবাদ করেন নিউজিল্যান্ডের উইঙ্গার কস্তা বারবারোস। ছবি: সংগৃহীত

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে ভয়াবহ হামলার ঘটনার পর সিজদা দিয়ে গোল উদযাপন করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এক অমুসলিম ফুটবলার। নিহতদের প্রতি সম্মান জানিয়ে শনিবার রাতে নৃশংস এ হামলার এভাবেই অভিনব প্রতিবাদ করেন নিউজিল্যান্ডের উইঙ্গার কস্তা বারবারোস।

অমুসলিম হয়েও তার এমন শ্রদ্ধা ও প্রতিবাদের  বিষয়টি ছুঁয়ে গেছে সবার হৃদয়কে। বারবারোসের ব্যতিক্রমী এই গোল উদযাপন সাড়া ফেলেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই তার এই অভিনব প্রতিবাদের প্রশংসা করছেন।

শনিবার রাতে অস্ট্রেলিয়ান ‘এ’ লিগে ব্রিসবেন রোয়ারের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতেছে মেলবোর্ন ভিক্টরি। মেলবোর্নের হয়ে দুটি গোলই করেছেন  উইঙ্গার কস্তা বারবারোস। ২৯ বছর বয়সী নিউজিল্যান্ডের এ খেলোয়াড় ২৪ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন। এরপর ভাবলেশহীন মুখে মাঠের মধ্যেই হাঁটু মুড়ে বসে সিজদা করেন।

ম্যাচ শেষে ফক্স স্পোর্টসকে বারবারোস নিজেই জানালেন তার এ সিজদা ছিল বর্বরোচিত এ হামলায় নিহতদের সম্মানে। বললেন,  ‘সত্য বলতে, ভীষণ বিধ্বস্ত লাগছে। ভীষণ আবেগের দিন। তাদের (হতাহত) কাছে এটা কিছু না, কিন্তু এটা বিশেষ কিছু।’

এর আগে শুক্রবার তুরস্কের সুপার লিগের ফুটবলাররা তাকবির ধ্বনি দিয়ে সম্মান জানিয়েছেন নামাজরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা মুসলিমদের। ফুটবল ম্যাচ শুরুর আগে দর্শকদের সঙ্গে তাকবির ধ্বনি দিয়েছেন তুর্কি ফুটবলাররা।

শুক্রবারের ভয়াবহ এ হামলায়  শোকাহত গোটা বিশ্ব। সেদিন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। বন্দুকধারীর হামলায় বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা বেঁচে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি নিউজিল্যান্ডের জাতীয় ফুটসাল (ইনডোর ফুটবল) দলের সদস্য আতা এলায়েনের। ৩৩ বছর বয়সী এলায়েন ছিলেন একজন গোলরক্ষক।

ক্রীড়াঙ্গনের খেলোয়াড়রাও তাই যে যার মতো করে সহমর্মিতা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এদিকে ভয়াবহ এ হামলার পর নিউজিল্যান্ডের সবধর্মের মানুষ মুসলিম কমিউনিটির পাশে দাড়িয়েছেন। ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বারবার গণমাধ্যমের সামনে এসে নিজেই তথ্য জানাচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরদার্ন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে শুরু করে আহতদের দেখতে যাওয়া, তাদের খোঁজখবর নেয়া- সবখানেই নিজে যাচ্ছেন। যেখানেই যাচ্ছেন, যার সঙ্গেই কথা বলছেন, সবখানেই তাকে দেখা যাচ্ছে বিমর্ষ অবয়বে।

শোক প্রকাশে শুধু কালো পোশাকই পরেননি, মসজিদে নামাজরত মুসলিমদের হামলার ঘটনায় নিউজিল্যান্ডের মুসলিমদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশে মাথায় ওড়না জড়িয়ে রয়েছেন।

জাসিন্দা আরদার্নের মতো  নিউজিল্যান্ডের সর্বস্তরের মানুষও আতঙ্কিত মুসলিমদের পাশে  দাঁড়িয়েছে। শান্তনা দিচ্ছেন স্বজন হারানোদের।  রাস্তায় মুসলমানদের চলাচল ও নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করছে সেখানকার অমুসলিম জনগণ। নৃশংস এ হামলার প্রতিবাদে বারবারোস মাঠে সিজদার মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন রক্তের কোনো ধর্ম নেই।