সম্প্রীতি ও ভালোবাসায় নিউজিল্যান্ডবাসীর বিরল দৃষ্টান্ত!

  যুগান্তর ডেস্ক ২২ মার্চ ২০১৯, ২২:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

হ্যাগলি পার্কে সমাবেত নিউজিল্যান্ডবাসী। ছবি: আল আরাবিয়া
হ্যাগলি পার্কে সমাবেত নিউজিল্যান্ডবাসী। ছবি: আল আরাবিয়া

সম্প্রীতি ও ভালোবাসার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নিউজিল্যান্ডবাসী। গত শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চে চালানো স্মরণকালের ইতিহাসের বর্বরোচিত হামলায় নিহতদের শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হয়েছিল হাজার মানুষ। নিহতদের মধ্যে যাদের দাফন বাকি ছিল, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আজ তাদের দাফন করা হয়।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ড. আবদুস সামাদ ও সিলেটের ফরিদ আহমেদের স্ত্রী হোসনে আরা আহমেদ সহ অন্যান্যদের জানাজা শেষে দাফন করা হয় ক্রাইস্টচার্চে।

ভয়াবহ এ হামলার এক সপ্তাহ পূরণ হয়েছে আজ। এদিন আজানের ধ্বনিতে মুখরিত হয়েছে নিউজিল্যান্ড। দেশটির রাষ্ট্রীয় রেডিও-টিভিতে সরাসরি সম্পপ্রচারিত হয় আজান ও জুমার খুতবা। নামাজরত মুসল্লিদের পাশে দাড়িয়ে ছিল ভিন্নধর্মী হাজারো মানুষ। সবার চোখে মুখে শোকের ছায়া।

দেশটির জাতীয় দৈনিকগুলোর প্রথম পাতায় ছাপা হয়েছে কেবল ‌‘সালাম, শান্তি’। দেশজুড়ে পালন করা হয়েছে দুই মিনিটের নীরবতা।

মুসলমানদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে শুক্রবার বহু নারী হিজাব পরেছেন। আল নুর মসজিদের বিপরীত পাশে দুই নীরবতা কর্মসূচিতে শত শত অমুসলিম নারী হিজাব পরে সংহতি প্রকাশ করেছেন শান্তির পক্ষে।

দুপুর দেড়টায় আল্লাহু আকবার ধ্বনি তুলে আজান শুরু করেন আল নূর মসজিদের মুয়াজ্জিন। যখন আজানের ধ্বনিতে মুখরিত হচ্ছিল, তখন ক্রাইস্টচার্চের মসজিদের বিপরীতে হ্যাগলি পার্কে জড়ো হন কয়েক হাজার মানুষ। গত সপ্তাহে এখানকার দুটি মসজিদে খ্রিস্টান বর্ণবাদীদের হামলায় অর্ধশত মুসল্লি নিহত হওয়ার ঘটনায় সংহতি প্রকাশ করতে তারা ২ মিনিট নীরবতা পালন করেন।

হ্যাগলি পার্কে সমাবেত মানুষের সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজারেরও বেশি। যাদের একটি বড় অংশ গত শুক্রবার শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদীর এলোপাতাড়ি গুলিতে আহত হয়েছেন। নীরবতা পালন কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরর্ডান।

মন্ত্রী ও নিরাপত্তা বাহিনীর বেষ্টনীর ভেতরে অবস্থান করা আরডার্নের মাথায় কালো পোশাক ও হিজাব পরা ছিলেন। এমনকি হ্যাগলি পার্কের নারী পুলিশরাও একটি লাল গোলাপসহ কালো হিজাব পরেছিলেন।

নীরবতা ভাঙার পর তিনি বলেন, পুরো নিউজিল্যান্ড আপনাদের সঙ্গে রয়েছেন, আপনাদের সঙ্গে শোক প্রকাশ করছেন। আমরা সবাই এক।

জুমার খুতবায় আল নুর মসজিদের ইমাম জামাল ফাওদা বলেছেন, দুটি মসজিদে অর্ধশত মুসল্লি নিহত হওয়ার ঘটনা একদিনে ঘটেনি। কিছু রাজনৈতিক নেতা, সংবাদমাধ্যম এবং অন্যদের মুসলিমবিদ্বেষী প্রচারের ফল হচ্ছে এই হত্যাকাণ্ড।

খুতবায় তিনি বলেন, গত সপ্তাহের এই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করেছে, সন্ত্রাসবাদের কোনো রঙ নেই, বর্ণ নেই ও ধর্ম নেই। শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদ ও উগ্রবাদ বিশ্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনই যার অবসান হওয়া উচিত। ইসলাম বিদ্বেষের কারণেই এ হত্যাকাণ্ড। নিউজিল্যান্ডের বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা ঘৃণা প্রচার ও ভয়ের রাজনীতি পরিহার করুন।’

২০ মিনিটের মতো খুতবায় আল নূর মসজিদের খতিব সহানুভূতি প্রকাশের জন্য প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডার্নকে ধন্যবাদ দেন।

কিউ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে তিনি বলেন, এটি বিশ্বনেতাদের জন্য একটি শিক্ষা। হিজাব পরে আমাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ ও পরিবারগুলোর প্রতি আপনার সহানুভূতির জন্য ধন্যবাদ।

ইসলাম বিদ্বেষের মাধ্যমে মুসলমানদের মানবিক অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে জানিয়ে জামাল ফাওদা ঘৃণা প্রচার ও ভয়ের রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানান

ক্রাইস্টচার্চ ছাড়াও ওয়েলিংটন, অকল্যান্ডসহ অন্যান্য শহরের মসজিদগুলোতেও হাজার হাজার লোক জমায়েত হয়েছিল।

সূত্র: আল আরাবিয়া

ঘটনাপ্রবাহ : নিউজিল্যান্ডে মসজিদে এলোপাতাড়ি গুলি

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×