'আমি সব জানি, আপনাদের ভয় পাই না'

  অনলাইন ডেস্ক ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২১:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

Varoti

গোপন আস্তানা থেকে ফের বোমা ফাটালেন ভারতের আলোচিত স্বেচ্ছায় অবসর নেয়া নারী পুলিশ কর্মকর্তা ভারতী ঘোষ৷ অজ্ঞাত স্থান থেকে অডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, আমি সব জানি, তাই আমার মুখ বন্ধের চেষ্টা করা হচ্ছে৷ সরাসরি তৃণমূলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, শাসকদল সব রাষ্ট্রশক্তি আমার পেছনে লাগিয়ে দিয়েছে৷ কে এটা লেলিয়ে দিল! কুকুরের মতো আমার পেছনে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন৷ ভাবছেন, আমি আপনাদের ভয় পেয়ে গেছি? না! আমি আপনাদের ভয় পাই না৷ খবর জিনিউজ বাংলার।

ভারতী ঘোষ বলেন, ভারতবাসী দেখছে৷ তারাই শেষ বিচার করবেন৷ আমার নামে কেস করা হচ্ছে? ফলস কেস? একটা ইন্টারন্যাশনাল গরু স্মাগলারকে দিয়ে? আমি আদালতে যাব৷ আদালতেই দেখা হবে৷

এদিকে ভারতী ঘোষকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল এসিজেএম আদালত ওই নির্দেশ দিয়েছেন। আদেশে ভারতী ছাড়াও তার প্রাক্তন দেহরক্ষী সুজিত মণ্ডলকে গ্রেফতার করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

পশ্চিমবঙ্গের দাসপুর থানায় করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তার একাধিক বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে সিআইডি। পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার থাকাকালীন ভারতীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একাধিক পুলিশ কর্মীর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। তার পর থেকে ভারতী বেশ কয়েক বারই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি রাজ্যের বাইরে রয়েছেন। ভারতীর দাবি, ওই অভিযোগে নাম না থাকা সত্ত্বেও তার বাড়িতে বেআইনিভাবে তল্লাশি চালিয়েছে সিআইডি। রাজ্যে ফিরে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানিয়েছিলেন।

কিন্তু ভারতী এখন কোথায় রয়েছেন সে সম্পর্কে কিছুই জানাননি তিনি। নাকতলা এবং মাদুরদহের যেসব বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়, সিআইডি যদিও তার কোনোটিরই মালিক হিসেবে ভারতীর নাম উল্লেখ করেনি। এরপর শুক্রবারই গ্রেফতার করা হয় ঘাটালের প্রাক্তন সার্কেল ইন্সপেকটর শুভঙ্কর দে এবং ঘাটাল থানার ওসি চিত্ত পালকে। দু’জনেই জেলা পুলিশে ভারতীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে একটা অংশের দাবি। নোটবন্দির সময়ে সোনায় টাকা বিনিয়োগের প্রতারণার একটি পুরনো মামলায় সম্প্রতি শুভঙ্কর এবং চিত্তবাবুর বাড়িতে তল্লাশি চালায় সিআইডি। সেই সময় হিসাববহির্ভূত প্রচুর টাকা উদ্ধার হয় তাদের বাড়ি থেকে। গ্রেফতার করা হয় ওই দুই পুলিশ কর্মীকে। একই মামলায় এবার ভারতী এবং সুজিতের নামেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল আদালত।

সিআইডির ধারণা, উত্তর ভারতের কোথাও গাঢাকা দিয়ে রয়েছেন ভারতী। মোবাইল টাওয়ার ট্র্যাক করে তারা জানতে পেরেছে, কয়েক দিন আগে পর্যন্ত তিনি দিল্লিতেই ছিলেন। তারপর তিনি গুজরাতের জামনগরে চলে যান। দিন কয়েকের মধ্যে ফের দিল্লিতে আসেন। তার খোঁজে সিআইডির কয়েকটি দল ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে রওনা দিয়েছে বলে সূত্রের খবর।

পশ্চিমবঙ্গের আইপএস পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন এই নারী। গত ২৬ ডিসেম্বর হঠাৎ তার পদাবনতি ঘটিয়ে বদলি করা হয় উত্তর২৪পরগনা পুলিশের তৃতীয় ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার পদে। তবে কর্তৃপক্ষের এ আদেশ তোয়াক্কা করেননি তিনি। প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। ভারতী ঘোষ একটানা ছয় বছরের বেশি সময় দায়িত্বপালন করেছেন পশ্চিমবঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত কাছের লোক ছিলেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘মা’ বলেও ডাকতেন। সরকারি পদে থেকেও তিনি তৃণমূলের অপ্রকাশ্যের এক নেত্রী হয়ে ওঠেন। দলকে গোছানো, দলকে বাড়ানো, দল ভাঙা, কাউকে দলে আনা—এসবের দায়িত্বপালন করেছেন তিনি।

মমতার দলের সেই সময়কার দ্বিতীয় শক্তিশালী নেতা মুকুল রায়ের সঙ্গেও ছিল ভারতী ঘোষের সুসম্পর্ক। কিন্তু মুকুল রায় বিজেপিতে যোগদানের পরও ভারতী ঘোষ তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় মমতা ও এক প্রভাবশালী মন্ত্রী। ভারতী ঘোষের সঙ্গে ঠাণ্ডাযুদ্ধ শুরু হয়।

ফলে ভারতী ঘোষকে নাস্তানাবুদ করার জন্য মামলা হয়। মামলা করেন পশ্চিম মেদিনীপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী চন্দন মাজি। চন্দন মাজি অভিযোগ করেন, ভারতী ঘোষ হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করতেন। টাকা ও স্বর্ণ আদায় করা ছিল তার লক্ষ্য। এই অভিযোগ নিয়ে শুরু হয় তদন্ত। কলকাতার সিআইডি পুলিশও বসে নেই। ভারতী ঘোষের অবৈধ সম্পত্তির খোঁজে নেমে পড়ে তারাও।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter