বাংলাদেশসহ প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের জটিলতা বেড়েছে

  যুগান্তর ডেস্ক    ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

দক্ষিণ এশিয়া

বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপের মতো অপেক্ষাকৃত ছোট দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের জটিলতা বেড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষিত প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের নীতি মুখ থুবড়ে পড়ায় এমনটি ঘটছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতের বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোদি তার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রতিবেশী রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানিয়ে ইনিংস শুরু করেছিলেন। এতে তিনি বার্তা দিয়েছিলেন এবার প্রতিবেশী কূটনীতিতে সুসম্পর্কের ঢল বইবে। কিন্তু সরকারের সাড়ে তিন বছর কেটে যাওয়ার পর মুখ থুবড়ে পড়েছে সেই প্রতিবেশীনীতি। মালদ্বীপের সাম্প্রতিক অশান্তিতে তা আবার স্পষ্ট।

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের দ্রুত অবনতির পাশাপাশি বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপের মতো অপেক্ষাকৃত ছোট দেশগুলোর সঙ্গেও ভারতের সম্পর্কের জটিলতা বেড়ে গেছে।

ভারতের বিরোধী দলের অভিযোগ, একটি দেশের সঙ্গে জটিলতা কাটার আগেই অন্য সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের ঐতিহ্যগত সম্পর্ক দীর্ঘদিন অটুট তো ছিলই, দ্বিপক্ষীয় কার্যকরী সম্পর্কও ছিল মসৃণ।

সূত্রের বরাতে আনন্দবাজার জানায়, সরকারের একটি অংশের মধ্যে থেকেই অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের দিকে। ডোকলামের ঘটনায় ভুটানের আস্থা অর্জন না করেই চীনের সঙ্গে যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে চলছিলেন দোভাল।

পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে প্রধানমন্ত্রী তৎকালীন পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্করকে নির্দেশ দেন হাল ধরার জন্য।

জয়শঙ্করের ঘনিষ্ঠরা জানাচ্ছেন, ভুটানের সঙ্গে ভারতের অর্থপূর্ণ আলোচনার অভাব ছিল। সেই সুযোগে বেইজিং থিম্পুর শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে তাদের কাছে টানে। সেই সময় উত্তেজনা না কমিয়ে আরও আগ্রাসী মনোভাব দেখানো হলে চীন ছেড়ে কথা বলত না।

কট্টরবাদী দোভাল মনে করছিলেন, পেশিশক্তি প্রদর্শনের নীতিতে চীনকে সমঝে দেয়া যাবে। আর জয়শঙ্করের বক্তব্য ছিল, চীনকে এভাবে সোজাসাপ্টা বিচার করা ‘কূটনৈতিক মূর্খতা’। সার্বভৌম রাষ্ট্র ভুটানকে নিজেদের উপনিবেশ ভেবে একতরফা সেনা পাঠিয়ে পরিস্থিতি অহেতুক জটিল করে তোলা হয়েছিল।

জয়শঙ্কর শিবিরের মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে তবুও সময়বিশেষে ‘জেমস বন্ড’ মনোভাব নেয়া চলতে পারে। কিন্তু চীনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিলে অনেক বেশি মূল্য দিতে হবে।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, ডোকলাম কাণ্ডের জের কাটতে না কাটতেই রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা নিয়েও কার্যত লেজেগোবরে হয়েছে সরকার।

সন্ত্রাস প্রশ্নে ভারতকে সব রকম সাহায্য করা বাংলাদেশের হাসিনা সরকার যখন জানিয়েছে, তারা শরণার্থী সমস্যায় জর্জরিত, তখনও চীনের কথা মাথায় রেখে মিয়ানমারকে বিব্রত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

এ ফাঁকে চীন একই সঙ্গে মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে খুশি করে তিন স্তরের সমাধানসূত্র ঘোষণা করে। এখন বেগতিক দেখে জাপানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ওঠেপড়ে লেগেছে নয়াদিল্লি।

সম্প্রতি নেপাল পরিস্থিতি সামলাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে কাঠমান্ডু পাঠানো হল ঠিকই; কিন্তু সাউথ ব্লকই নিশ্চিত নয়, তাতে কতটা চিঁড়ে ভিজবে।

নয়াদিল্লির দুর্বল কূটনীতির কারণে নেপালে ভারতবিরোধী মনোভাব তীব্রতর হচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিফহাল শিবির।

২০১৫ সাল থেকে নেপালে মদেশীয় সম্প্রদায়ের বিক্ষোভকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে গিয়ে যে নেপাল সরকারের সঙ্গে কার্যত যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল মোদি সরকার, সেই সরকারের প্রধান কেপি ওলি আবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। যার চীনের প্রতি ঘনিষ্ঠতা সুবিদিত হওয়া সত্ত্বেও শুরুতে তাকে আমলে নেয়া হয়নি। এখন ক্ষত মেরামতের চেষ্টা কতটা সফল হবে, সে ব্যাপারেও সন্দিহান কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.