শ্রীলংকায় হামলা: তৌহিদ জামায়াতের শেকড় কি ভারতে?

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ২২:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

শ্রীলংকায় পুলিশের সতর্ক অবস্থা।ছবি: সংগৃহীত

শ্রীলংকায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৩২১ জনের মৃত্যু ঘটনায় স্থানীয় ন্যাশনাল তৌহিদ জামায়াতকে দায়ী করছে শ্রীলংকার সরকার। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এর দ্বায় স্বীকার করে নিয়েছে ইসলামিক এস্টেট গ্রুপ (আইএস)। আইএসের প্রচারণা সংস্থা আমাক এক বিবৃতিতে জানায়, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সদস্য এবং শ্রীলংকার খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে রোববার ইসলামিক স্টেট গ্রুপ যোদ্ধারা হামলা চালিয়েছে।

১৬ মে ২০০৪ সালে তামিলনাড়ুতে জন্ম তৌহিদ জামায়াতের। ভারত, শ্রীলঙ্কাসহ এখন ১৭টি দেশে যার কর্মকাণ্ড। গত বছরই চেন্নাইয়ে এক মার্কিন নাগরিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল এই সংগঠনের বিরুদ্ধে। প্রশ্ন উঠছে এখনো কী করে এই সংগঠন এই দেশে বহাল তবিয়তে থাকে?

এদিকে মঙ্গলবার শ্রীলংকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুয়ান জয়াবর্ধনে সংসদে বলেন, তদন্তে দেখা গেছে স্থানীয় ন্যাশনাল তৌহিদ জামায়াত (এনটিজে) এ ঘটনার পেছনে ছিল। এর সঙ্গে ভারতের ছোট মৌলবাদী ইসলামি গোষ্ঠীর সংযোগ রয়েছে।

সংসদে জয়াবর্ধনে বলেন, এই ন্যাশনাল তৌহিদ জামায়াত গোষ্ঠীর হামলার সঙ্গে (জেএমআই) ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, এখানে উল্লেখ করা যায় জামায়াত-উল-মুজাহিদীন ভারত নামে পরিচিত এ গোষ্ঠীটি।

বছর দুয়েক আগে বৌদ্ধ ধর্মের বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল শ্রীলংকা তৌহিদ জামায়াত বা এসএনটিজের সম্পাদক আবদুল রেজ্জাককে। গত বছর বৌদ্ধ স্থাপত্যেও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল এই সংগঠনের বিরুদ্ধে। 

শ্রীলংকায় প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের বসবাস। অধিকাংশই সুন্নি। ভাষাগত, জাতিগত বিদ্বেষের ইতিহাস শ্রীলঙ্কায় পুরনো। 

কিন্তু ধর্মীয় হানাহানির ইস্যু সে দেশে খুব একটা ছিল না। সে কারণেই তামিলনাড়ু তৌহিদ জামাতের উগ্রপন্থী নেতা পিজে বা পি জয়নুল আবেদিনের যখন শ্রীলঙ্কায় আসার কথা ছিল, তখন রাস্তায় নেমে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন মুসলিমদেরই একাংশ। 

হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ৪০ জনকে আটক করেছে।

নাশকতার তদন্তে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেওয়া হলো শ্রীলঙ্কার পুলিশ এবং সেনাকে। এর ফলে আদালতের নির্দেশ ছাড়াই কোনও অভিযুক্তকে গ্রেফতার বা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে তারা। তামিল গৃহযুদ্ধের সময়ও এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল শ্রীলঙ্কার সেনাকে। তাই বিস্ফোরণ-পরবর্তী পরিস্থিতি অনেককেই মনে করিয়ে দিচ্ছে তামিল গৃহযুদ্ধ চলাকালীন দেশের হিংসাত্মক অতীতের কথা।

গ্রেফতারের মধ্যে একজন সিরিয়ার নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন শ্রীলংকা পুলিশের মুখপাত্র।

মঙ্গলবার থেকে হামলার ঘটনায় নিহতদের গণকবর দেওয়া শুরু হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। এদিন সকাল সাড়ে ৮টার সময় সারা দেশজুড়ে নীরবতা পালনের পরপরই শুরু হয় গণকবর।

রোববার ইস্টার সানডেতে শ্রীলংকার তিনটি গির্জা, তিনটি হোটেলসহ অন্তত আটটি স্থানে পরপর বোমা হামলা হয়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৬ জন বিদেশি নাগরিক। আহত পাঁচ শতাধিক।

ওই দিন ছিল খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় উৎসব ইস্টার সানডে। হামলার সময় তিন গির্জায় ইস্টার সানডের প্রার্থনা চলছিল।

সূত্র: আরব নিউজ ও জিনিউজ।