ঘূর্ণিঝড় ফনির তাণ্ডবে পড়ে গেল ২৫০ ফুটের ক্রেন (ভিডিও)

প্রকাশ : ০৪ মে ২০১৯, ২০:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ছবি: ইউটিউব

ঘূর্ণিঝড় ফনির তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ভারতের উরিষ্যা। অতিপ্রবল ফনির আঘাত এতোটাই শক্তিশালী ছিল যে শুক্রবার সেখানে আস্ত একটি স্কুলবাস উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

শুধু বাসই নয় কোথাও কোথাও ঘুর্ণিঝড়ের দাপটে ঘুড়ির মতো উড়ে গেছে ফাইবারের কাঠামো, ভেঙে পড়েছে বিল্ডিং, ইলেকট্রিক পোল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জানালা।

উড়িষ্যার বিভিন্ন প্রান্তে ফনির এমন সব তাণ্ডবের বিভিন্ন ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই সেসব ভিডিও ধারণ করে ফেসবুক, টুইটারে পোস্ট করে নেট জনতাকে সতর্ক করেছেন।

শুক্রবারের সেসব ভিডিওর মধ্যে একটিতে দেখা গেছে, নির্মাণাধীন ভবনের জন্য স্থাপিত ক্রেন ঘূর্ণিঝড় ফনির দমকা বাতাসে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেনি। ঝোড়ো হাওয়ায় হেলতে হেলতে এক সময় রাস্তার ওপারের কয়েকটি দু-তিন তলা বাড়ির ওপর গিয়ে পড়ে। ক্রেনের আঘাতে বাড়িগুলোর একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের ভুবনেশ্বরে এবং এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

ফনির ভয়াবহতা দেখাতে ক্রেন পড়ার ওই দৃশ্য ভিডিও করে নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন পঞ্চানন সাহু নামের এক ভারতীয়।

ক্যাপশনে তিনে লেখেন, শুক্রবার উরিষ্যায় ঘূর্ণিঝড় ফনি যখন তার ফনা তুলে ছোবল মারছিল তখন ভুবনেশ্বরে নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে ২৫০ ফুট লম্বা ও ভারী ক্রেন পাশের বাড়িগুলোর ওপর গিয়ে পড়ে।    

ভিডিওটি ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। নেট দুনিয়া দেখছে ভারতে ফনির তাণ্ডবলীলা।

ভিডিওটই দেখুন -

 

এ ভিডিও ছাড়াও ভুবনেশ্বরের আরেকটি ভয়াবহ ভিডিও নেট জগতে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে ফনির দাপটে ভুবনেশ্বর এইমস হাসপাতালের একটি ভবনের ছাদের একটি অংশ ভেঙ্গে গেছে। তবে ওই ভবনে অবস্থানরত সব শিক্ষার্থী, কর্মী এবং রোগীরা নিরাপদেই ছিলেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণ্মাধ্যমগুলো।

ওই ঘটনার পর উরিষ্যার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রদেশটির এআইএমএস পিজি ২০১৯ পরীক্ষার জন্য ভুবনেশ্বরের পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো বাতিল করে দেয় এবং গুজব না ছড়িয়ে তথ্য ও সহায়তা প্রদানের জন্য একটি চব্বিশ ঘণ্টার হেল্পলাইন নম্বর চালু করে।


প্রসঙ্গত এখন পর্যন্ত ভারতীয় সরকারি সূত্রমতে, ঘূর্ণিঝড় ফনির বলি হয়েছেন কমপক্ষে আটজন।যত তাণ্ডব উরিষ্যা, ভুবনেশ্বর ও পুরিতে দেখিয়েছে ফনি। পশ্চিমবঙ্গে এসে ফনি অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে। এরপরও পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ৫০টি বাড়ি ফনির আঘাতে চুরমার হয়েছে।