আরেক মার্কিন যুদ্ধের আতঙ্কে মিলিশিয়াদের সতর্ক করল ইরাক

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৯, ১৭:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ছবি: নিউ ইয়র্ক টাইমস

ইরান সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক যুদ্ধংদেহী আলোচনায় ইরাক আগ্রাসনের মাস কয়েক আগের পরিস্থিতিই ফিরে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্তত ইরাকি নাগরিকরা এমনটাই ধরে নিয়েছেন।-খবর নিউ ইয়র্ক টাইমসের

কাজেই নিজ ভূখণ্ডে আরেকটি যুদ্ধ নিয়ে বেশ সতর্কাবস্থায় রয়েছে ইরাক। দেশটি বলছে, প্রতিশোধমূলক মার্কিন হামলা আসতে পারে এমন কোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ না নিতে ইরান-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে হুশিয়ারি করা হয়েছে।

ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জ্যেষ্ঠ সদস্য সাইয়েদ আল জয়শি বলেন, ইরাকি সরকারের বার্তা পৌঁছে দিতে গত দুই দিন এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন তারা। এসব গোষ্ঠীকে বলা হয়েছে, তারা যদি কোনো হামলা করে বসে, তবে তার দায় ইরাক নেবে না।

তিনি বলেন, ইরাকে মার্কিন স্বার্থ সুরক্ষার দায়িত্ব ইরাকি সরকারের। কাজেই আমেরিকার স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নেবেন, তারা আমাদের শত্রু হয়ে যাবেন।

গত দুই সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প প্রশাসন বলে আসছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর ওপর হামলা চালাতে পরিকল্পনা করেছে ইরান ও তার আরব শিয়া মিত্ররা। সম্প্রতি সেই হুমকি বেড়ে গেছে।

তবে এই ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করেনি যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে তখনকার বুশ প্রশাসন এভাবেই মিথ্যা যুক্তি তৈরি করেছিল। বুশ প্রশাসন বলেছিল, সাদ্দাম হোসেনের কাছে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে।

ইরাকে ৩০টি মিলিশিয়া গোষ্ঠীর এক লাখ ২৫ হাজার সক্রিয় যোদ্ধা রয়েছে। ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তারা ইরাকি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি মিলিশিয়া গোষ্ঠী রয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকটির সঙ্গে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাদের সদস্যদের ইরান থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।

ইরাকের জনপ্রিয় ধর্মীয় নেতা মুকতাদা আল সদরের মুখপাত্র সালাহ আল ওবায়দি বলেন, দুর্ভাগ্যবশত আমাদের এখানে কয়েকটি গোষ্ঠী রয়েছে, যারা ইরানিদের চেয়েও বেশি ইরানিয়ান। ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে সরকার নিয়ন্ত্রণে নিতে পারবে না বলে আমাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ইরাকে এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সংকট।

এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।