জলপাই সংগ্রহ করতে গিয়ে যেভাবে মারা যাচ্ছে লাখ লাখ পাখি

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৬ মে ২০১৯, ২২:১০ | অনলাইন সংস্করণ

জলপাই সংগ্রহকালে বছরে কয়েক লাখ পাখি নিধন
জলপাই সংগ্রহকালে বছরে কয়েক লাখ পাখি নিধন। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সব থেকে বেশি জলপাই উৎপাদনকারী দেশ হলো স্পেন। বিশ্বে যত জলপাই রফতানি হয় তার ৫০ ভাগ আসে ভূমধ্যসাগরীয় দেশ স্পেন থেকে। এছাড়া আরও অনেক দেশ জলপাই উৎপাদন করে থাকে।

কিন্তু দু:খের বিষয় এই জলপাই উৎপাদন করতে গিয়ে বছরে কয়েক লাখ পাখি নিধন করেন স্পেন ও পর্তুগাল। সম্প্রতি এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে বলে পাখি বিষয়ক সাময়িকী বার্ডসগাইড ডটকমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

দেশটিতে জলপাই সংগ্রহকালে ব্যবহৃত সাকশান মেশিনের মধ্যে পড়ে এসব পাথি মারা যায় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, এসব মেশিন রাতে বেশি ব্যবহার করা হয়। এ জন্য আরও বেশি পাখি মেশিনের মধ্যে পড়ে মারা যায়।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি বছর অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত শীতকালে জলপাই সংগ্রহ করা হয়। বেশির ভাগ রাতেই মেশিনের মাধ্যমে এসব জলপাই সংগ্রহ করা হয়। এ সময় স্পেনের আন্দালুশিয়ান রাজ্যগুলোতে ২৬ লাখ পাখি মারা পড়ে। আর পর্তুগালে মারা যায় ৯৬ হাজার পাখি।

রাতে জলপাই গাছগুলিতে পাখিরা বিশ্রাম নেয়। এ সময় অলিভ পিকিং মেশিন কাজ শুরু করে। আলোর ঝলকানি আর বিকট শব্দের কারণে পাখিরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। তারা পালাতে অক্ষম হয়ে পড়ে এবং অনেক পাখি সাকশান মেশিনের মধ্যে পড়ে মারা যায়।

অবশ্য আন্দালুশিয়ান রাজ্যগুলির সরকার রাতে জলপাই বাগানে কাজ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কিন্তু রাতে সংগ্রহ করলে স্বাদ ও মান বজায় থাকে বলে রাতেই জলপাই সংগ্রহ করতে পছন্দ করে দেশটির জলপাইচাষিরা।

পর্তুগিজ সোসাইটি ফর দ্য স্টাডি অফ বার্ডস (এসপিইএ) এর ডমিংগো লেটোও বলেন, পাখিরা রাতে বিশ্রাম নিতে পছন্দ করে। তারা জলপাই গাছের সারিতে থাকে। জলপাই সংগ্রহের মেশিনের আলো ও শব্দে তারা ভীত হয়ে পড়ে।

পাখি গবেষক নুনো সেকিরা বার্ডসগাইড ডটকমকে বলেন, পাখি নিধনের ফলে পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পাখি নিধন ঠেকাতে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ হবে। কেননা নিয়ন্ত্রণের অভাবে পাখির পাশাপাশি অন্যান্য পরিবেশগত প্রভাব যেমন- মাটির মতো ক্ষয়, দূষিতকরণ ও রাসায়নিক সঙ্গে জলীয় দূষণে কৃষির ওপর প্রভাব ফেরবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×