বাগদাদের গ্রিন জোনে রকেট হামলা

  যুগান্তর ডেস্ক ২০ মে ২০১৯, ০৩:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

ইরান-মার্কিন উত্তেজনার মধ্যেই বাগদাদের সুরক্ষিত গ্রিন জোনে রকেট হামলা
ছবি: আরব নিউজ

ইরাকের রাজধানী বাগদাদের অতি সুরক্ষিত গ্রিন জোনে রোববার একটি রকেট হামলার ঘটনা ঘটেছে। যেখানে হামলাটি হয়েছে, সেখানে সরকারি ভবন ও মার্কিন মিশনসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস রয়েছে। ইরাকি সামরিক বাহিনীর বরাতে আরব নিউজ ও এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

এমন এক সময়ই এই রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার কয়েকদিন আগে ইরানি হুমকির কথা উল্লেখ করে ইরাক থেকে মার্কিন কর্মকর্তাদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, রোববার রাতে মধ্য বাগদাদ থেকে একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বাগদাদভিত্তিক দুটি কূটনৈতিক সূত্রও বিস্ফোরণ হওয়ার কথা জানিয়েছে।

সামরিক বাহিনীর সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্রিন জোনের মাঝে একটি ক্যাচুশা রকেট আঘাত হেনেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে বলে বিবৃতিতে বলা হয়।

ক্যাচুসা রকেট লাঞ্চার খুবই সস্তা ও সুলভ। প্রচলিত বড় কামানের চেয়ে এটি দ্রুত গতিতে লক্ষ্যবস্তুতে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করতে পারে। কিন্তু হামলা খুব বেশি একটা নির্ভুল হয় না।

চলতি সপ্তাহে রাজধানী বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস ও ইরবিল কনস্যুলেট থেকে অগুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

একটি নিরাপত্তা সূত্র আরব নিউজকে জানিয়েছে, আমরা মনে করি না, হামলার নিশানা ছিল কোনো দূতাবাস। বহুদূর থেকে এটি নিক্ষেপ করা হয়েছে।

সূত্রটি বলছে, এটি একটি ক্যাচুসা রকেট। পূর্ব বাগদাদ থেকে এই হামলা চালানো হয়েছে। কাজেই এটার নির্দিষ্ট নিশানায় আঘাত হানার কোনো সুযোগ নেই।

মার্কিন বাহিনী ও স্থাপনায় ইরানের কাছ থেকে আসা বাড়তি হুমকির মোকাবেলায় মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি মাসের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী, বি-৫২ বোমারু বিমান ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে এ রকেট হামলার নেপথ্যে কারা তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। পুলিশ সূত্রের বরাতে এএফপি জানিয়েছে, দক্ষিণ বাগদাদের একটি খোলা জায়গা থেকে রকেটটি ছোড়া হয়েছে বলে প্রাথমিক আভাস পাওয়া গেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের প্রাতিষ্ঠানিক আবাসিক এলাকা হচ্ছে গ্রিন জোন। বাগদাদের কেন্দ্রে অবস্থিত এই এলাকায় পার্লামেন্ট ভবন, প্রধানমন্ত্রীর অফিস, প্রেসিডেন্ট ভবনসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বাড়ি, দূতাবাস ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এদিকে দুই দেশের মধ্যে যখন উত্তেজনা বাড়ছে, তখন মার্কিন-ইরান দুই দেশের দাবি, তারা কোনো যুদ্ধ জড়াতে চাচ্ছে না।

বছরখানেক আগে পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর ইরানের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিতে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে থাকেন তিনি। এতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়তে চড়তে যুদ্ধের কিনারে গিয়ে ঠেকেছে।

বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় দূতাবাসটি বাগদাদে। আন্তর্জাতিক এলাকা বলে পরিচিত কংক্রিটের দেয়ালে ঘেরা সুরক্ষিত অঞ্চলের ভেতরে এটি অবস্থিত।

ইরাকের সঙ্গে কয়েক দশকের কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার পর গত এপ্রিলে এই গ্রিনজোনে একটি কনস্যুলেট খোলে সৌদি আরব।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে এখানে তিনটি মর্টার হামলার ঘটেছিল, যাতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এই বিরল হামলার দায় কেউ স্বীকারও করেনি।

সেই মাসে বসরার কনস্যুলেট বন্ধ ঘোষণা করে গুরুত্বপূর্ণ বাদে অধিকাংশ কর্মকর্তাদের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরটি ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এটাকে পরোক্ষ হামলা আখ্যায়িত করে ইরানি মিলিশিয়াদের দায়ী করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক সীমিত করতে বাগদাদের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ রয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ : মার্কিন-ইরান সংকট

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×