২৩ বছর পর নিখোঁজ ভাই মিলল ভারতের কারাগারে

প্রকাশ : ২০ মে ২০১৯, ১৫:০০ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

হারিয়ে যাওয়া আজবার। ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা আজবার। ২৩ বছর আগে হঠাৎ করেই নিখোঁজ হন আজবার। দেশের আনাচে-কানাচে অনেক সন্ধান করেও ছেলে আজবারে খোঁজ পাননি বাবা আবদুল করিম পিয়েদা।

আদরের সন্তানের এভাবে উধাও হয়ে যাওয়াটা মানতেই পারছিলেন না মা মোমেনা খাতুন।

চোখের পানি ফেলে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় আজবারের খোঁজ করে ক্লান্ত হয়ে পড়েন তারা।

অতঃপর ২৩ বছর ভারতের আসামের এক কারাগারে খোঁজ মিলল আজবারের। তার সঙ্গে দেখা করেছেন ছোট ভাই ইকবাল পিয়াদা (২৮)।

গত রোববার আসামের তেজপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ডিটেনশন ক্যাম্পে অবস্থানরত আজবারের সঙ্গে দেখা করেন তার ভাই ইকবাল।

জানা গেছে, ২৩ বছর আগে অজানা কোনো কারণে সীমান্ত পেরিয়ে আসামে ঢুকে পড়েন আজবার ও সেখানেই অবস্থান করতে থাকেন।

২০১৫ সালের ১ জুলাই রাজ্যের ধেমজি জেলা থেকে ভারতের অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আজবারকে আটক করা হয়।

একই বছরের ১৬ নভেম্বর ভারতীয় পাসপোর্ট আইনের আওতায় কারাগারে পাঠানো হয় আজবারকে।

২০১৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই বছর কারাভোগ করেন আজবার। এর পর তাকে তেজপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ডিটেনশন ক্যাম্পে প্রেরণ করা হয়।

কারাগারে থাকাকালীন কার কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হন যে, আজবার কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। আর সে কারণেই বিনাপাসপোর্টে ভারতে অনুপ্রবেশ করে এবং সে আর বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারেনি।

এদিকে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে বাংলাদেশে নিজের ঠিকানা বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারছিল না আজবার।

তাই আজবারের মানসিক রোগের চিকিৎসা শুরু করে কারাগার কর্তৃপক্ষ। তাদের চিকিৎসায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন আজবার।

এরই মধ্যে ঘটে অন্য একটি ঘটনা। বড় ভাইকে খোঁজ করার বিষয়টি নিয়মতই করতেন ইকবাল পিয়েদা।

বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তিনি জানতে পারেন, তার ভাই ভারতের আসামের এক কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। তিনি ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে ও তাকে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেন।

এ সময় বাংলাদেশের এক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী আসামের সমাজসেবী কর্মী অমলেন্দু দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টির সমাধান করতে অনুরোধ করেন।

এর পর অমলেন্দু দাস গুয়াহাটির বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনার শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুরের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন ও  আজবারকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে উদ্যোগী হন।

অবশেষে রোববার তেজপুরের সেই ডিটেনশন ক্যাম্পে গিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করেন ইকবাল।

দীর্ঘ দুই দশক পর হারিয়ে যাওয়া ভাইকে কাছে পেয়ে আত্মহারা হয়ে ওঠেন ইকবাল।

ভাইকে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করে তোলার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইকবাল।
 
তিনি বলেন, ‘মা বলেছিলেন ভাই মানসিকভাবে অনেকটা অসুস্থ ছিল এবং ২৩ বছর আগে তিনি যখন নিখোঁজ হন আমি বেশ ছোট ছিলাম। এ বিষয়ে তেমন একটা স্মৃতি নেই আমার। এত বছর পর তাকে পেয়ে আমি এতই আনন্দিত যে ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।’

তেজপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার মৃন্ময় দাওকা জানান, ‘আজবার এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। সে বাংলাদেশে তার পরিবার ও দেশের ঠিকানা লিখতে পারে।’

প্রত্যর্পণ সম্পর্কিত সব নথি তৈরি কাজ শেষ হয়ে গেলে আগামী মাসেই আজবারকে কারাগার থেকে মুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে সবচেয়ে বেশি খুশি আজবার। বর্তমানে তার বয়স ৫৫। তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি যত দ্রুত সম্ভব আমার দেশে ফিরে যেতে চাই। আমি আমার মা ও পরিবারের অন্যদের সঙ্গে দেখা করতে মুখিয়ে আছি।’