যে কারণে হরমুজ প্রণালী এতো গুরুত্বপূর্ণ

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৯, ১৯:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

হরমুজ প্রণালীতে টহল দিচ্ছে ইরানি সেনারা। ছবি: সংগৃহীত

ওমান উপসাগরে তেলের ট্যাংকারে হামলায় ইরানকে বরাবরের মতোই দোষারোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তেল ট্যাংকারে হামলার ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে, সে সমুদ্রপথটি হরমুজ প্রণালী হিসেবে পরিচিত। যেখান থেকে ইরান এবং ওমানের দূরত্ব মাত্র ২১ মাইল। খবর বিবিসির। 

ইরানের দাবি মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে রয়েছে।  তাছাড়া বিভিন্ন উত্তেজনার সময় প্রণালীটি বন্ধ করে দেয়ারও হুমকি দেয় ইরান।  বিগত কয়েক দশক ধরে এ সমুদ্রপথটি আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দেয়া দিয়েছে।  

হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তেল রফতানি করা হয়। এ সমুদ্রপথটি ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল যায় এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকাসহ অন্যান্য দেশে।  হরমুজ প্রণালী মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে এ দেশগুলো এবং এর বাইরে তেল সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

হরমুজ প্রণালীর একদিকে আছে আমেরিকার মিত্র আরব দেশগুলো। অন্য পাশে রয়েছে ইরান। হরমুজ প্রণালীর সবচেয়ে সংকীর্ণ যে অংশ সেখানে ইরান এবং ওমানের দূরত্ব মাত্র ২১ মাইল।

এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের জন্য দুটো লেন রয়েছে এবং প্রতিটি লেন দুই মাইল (৩ কিলোমিটার) প্রশস্ত।  

হরমুজ প্রণালী সংকীর্ণ হলেও জ্বালানি তেল বহনের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাহাজ চলাচল করার জন্য এটি যথেষ্ট গভীর এবং চওড়া।

পৃথিবীতে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল রফতানি হয়, তার পাঁচ ভাগের এক ভাগই যায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। 

প্রতিদিন এক কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল তেল রফতানি হয় এ সমুদ্রপথে। অন্যদিকে মালাক্কা প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল রফতানি হয় এক কোটি ৬০ লাখ ব্যারেল এবং সুয়েজ খাল দিয়ে প্রতিদিন ৫৫ লাখ ব্যারেল তেল রফতানি হয়।

ইরানের জ্বালানি তেল রফতানির প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার হয় হরমুজ প্রণালী। সে হিসেবে দেশটির অর্থনীতির জন্য এটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানের মোট রফতানি আয়ের দুই-তৃতীয়াংশই আসে জ্বালানি তেল রফতানির মাধ্যমে। পরমাণু ইস্যুতে ইরানের ওপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধে এ সমুদ্রপথটিকে ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে ইরান। 

ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান সমন্বয়কারী রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি কয়েকদিন আগে বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করা সব দেশের জাহাজের নিরাপত্তা ইরানের হাতে। 

ইরান তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেই কেবল সেখান থেকে জাহাজ চলাচল করতে পারে। ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালী ও উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম তারা।  সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বহিরাগত দেশের উপস্থিতির কোনো প্রয়োজন নেই।