ইরানের পরমাণু চুক্তি লঙ্ঘন মেনে নিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন!

  যুগান্তর ডেস্ক ১৬ জুলাই ২০১৯, ১৭:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেদেরিকা মোগারিনি
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেদেরিকা মোগারিনি। ছবি: সংগৃহীত

ছয় বিশ্ব পরাশক্তির সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি ইরান যতটুকু লঙ্ঘন করেছে তা উল্লেখযোগ্য কিছু নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেদেরিকা মোগারিনি। একইসঙ্গে তা আবার সংশোধনযোগ্য বলেও জানান তিনি।

সোমবার ব্রাসেলসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে মোগারিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাস্তবিকপক্ষে এ পর্যন্ত ইরান যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তার সবগুলোই সংশোধনযোগ্য। যে কারণে পাল্টা নিষেধাজ্ঞা দেয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে না।

চুক্তি বহির্ভূত পদক্ষেপ থেকে সরে এসে পুরোপুরিভাবে চুক্তি মেনে চলতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানান ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক এ প্রধান।

একই বৈঠকে অংশ নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট বলেছিলেন, ইরানের পরমাণু চুক্তিটি এখনও মরে যায়নি। এ চুক্তি বাঁচানোর জন্য এখনও হাতে সময় আছে।

ব্রাসেলসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি পারমাণবিক চুক্তিটি বহাল রাখার বিষয়ই গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা যায়।

ফেদেরিকা মোগারিনি বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরকারী ইউরোপের দেশগুলোর কেউই ইরানের লঙ্ঘনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে না, যে কারণে পাল্টা নিষেধাজ্ঞা দেয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে না।

পরমাণু কর্মসূচি হ্রাস করার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে- এই শর্তে ২০১৫ সালে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ৫ সদস্য ও জার্মানির সঙ্গে ইরান ‘জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন’ (জেসিপিওএ) নামের চুক্তিতে সই করে ইরান।

ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে ২০১৮ সালের ৮ মে বেরিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর এটির বাকি পাঁচ দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরমাণু সমঝোতা মেনে চলার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানানোর পাশাপাশি এ সমঝোতায় ইরানকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয়।

কিন্তু ইরানের দাবি, এক বছরেও সে আশ্বাস বাস্তবায়ন করেনি ইউরোপিয়ান দেশগুলো।

মার্কিন সরকার গত বছরের মে মাসে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যায় এবং নভেম্বরে তেহরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে।

ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি অনুসরণ করে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

এ ছাড়া একই উদ্দেশ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী, বি-৫২ বোমারু বিমান ও এফ-২২ জঙ্গিবিমান মোতায়েন করে।

সর্বশেষ গত ২০ জুন ভোরে মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের আকাশসীমায় অবৈধভাবে একটি পাইলটবিহীন বিমান বা ড্রোন পাঠায়, যা ইরান গুলি করে ভূপাতিত করে। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে।

ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করেছে, পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইরানকে নতুন করে আলোচনায় বসতে বাধ্য করার জন্য দেশটির ওপর প্রবল চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে ইরান বলেছে, দেশটি তার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একবার পাশ্চাত্যের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে। ফলে এ বিষয়ে দ্বিতীয়বার আলোচনায় বসবে না তেহরান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×