যারা তুরস্কে হামলা চালাতে চায়, তাদের জন্য এস-৪০০

  যুগান্তর ডেস্ক ১৬ জুলাই ২০১৯, ২২:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

এস-৪০০
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত হুমকি ও নিষেধাজ্ঞার মুখেই রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তুরস্ক। এরই মধ্যে এস-৪০০ এর যন্ত্রাংশ নিয়ে ১০টি বিমান তুরস্কে নেমেছে।

কিন্তু কী কারণে তুরস্কের কাছে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এত জরুরি হয়ে ওঠেছে?

সোমবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেন, যারা আমাদের দেশে আক্রমণ করতে চায়, তাদের জন্যই এই এস-৪০০, যা এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

আমরা রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ হিসাবে এটি করছি এবং আমরা তা চালিয়ে যাব।

২০২০ সালের এপ্রিলের মধ্যে এস-৪০০ পুরোপুরিভাবে স্থাপনের আশা করেছেন তিনি।

তুরস্ক আড়াইশ কোটি ডলার ব্যয়ে রাশিয়ার অত্যাধুনিক এস-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনা ছাড়াও এ ব্যবস্থার প্রশিক্ষণ নেয়ার জন্য নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ওই অঞ্চলে ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হবে না।

তারা বলছেন, এফ-৩৫ জঙ্গি বিমান এবং এস-৪০০ ব্যবস্থা কাছাকাছি থাকা ঠিক না। এতে রুশ টেকনিশিয়ানদের এফ-৩৫ এর দুর্বলতা খুঁজে বের করে ফেলতে পারার আশঙ্কা আছে।

তুরস্ক রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিলে তাদেরকে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বের করে দেয়াসহ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিও দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

যে কারণে এস-৪০০ এত গুরুত্বপূর্ণ

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকরি ও আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হচ্ছে এস-৪০০। রাশিয়ার উৎপাদিত এ প্রযুক্তি পেতে আগ্রহী অনেক দেশ। মূলত দেশটির আগেরকার এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়ে এস-৪০০ তৈরি করা হয়েছে।

এস-৪০০তে সর্বাধুনিক আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা রয়েছে, যা ইতিপূর্বে পশ্চিমা বিশ্ব কোনো দেশ দিতে পারেনি।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় একটি যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ পোস্ট, তিনটি সমন্বয়কারী জ্যাম-প্রতিরোধী পর্যায়ক্রমিক অ্যারে রাডার, বিমানের লক্ষ্যমাত্রা শনাক্ত করা, ছয়-আটটি বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র কমপ্লেক্স (১২টি ট্রান্সপোর্টার-লঞ্চার, একটি বহু-কার্যকরী চার আলোকসজ্জা ও শনাক্তকরণ রাডার) যুক্ত রয়েছে। এছাড়া এটি একটি প্রযুক্তিগত সহায়তা ব্যবস্থা, একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরিবহন যানবাহন ও একই সঙ্গে এটি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা।

এস ৪০০তে রয়েছে অতিরিক্ত শনাক্তকারী রাডার, টাওয়ার ও এন্টোনা পোস্ট যা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেয়া যায়।

এর লক্ষ্যমাত্রা সর্বোচ্চ ৬০০ কিলোমিটার। যা মিসাইল শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে ৫ থেকে ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে।

এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা কেনার জন্য ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে চুক্তি সই করেন এরদোগান।

কিন্তু মার্কিন সরকার শুরু থেকেই এ চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে বলেছে, পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হিসেবে রাশিয়ার কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেনা তুরস্কের উচিত হবে না।

এ হুশিয়ারি সত্ত্বেও আঙ্কারা মস্কোর কাছ থেকে এস-৪০০ সংগ্রহ করলে তুরস্কের ওপর তিন ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ঘটনাপ্রবাহ : মার্কিন-তুরস্ক এস-৪০০ বিতর্ক

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×