কাশ্মীরি মুসলমানদের স্রেব্রেনিকার গণহত্যার সতর্কতা ইমরানের

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০১৯, ১৮:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

  অনলাইন ডেস্ক

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ছবি: সংগৃহীত

ভারত জম্মু ও কাশ্মীরে মুসলমানদের বিরুদ্ধে স্রেব্রেনিকা মতো গণহত্যা ও জাতিগত নিধন চালাতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

বৃহস্পতিবার ভারতের স্বাধীনতা দিবসে পাকিস্তান ঘোষিত ‘কালো দিবস’ উপলক্ষে টুইটারে দেয়া এক বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। 

১৯৮৫ সালের জুলাই মাসে স্রেব্রেনিকাতে ৮ হাজারের বেশি বসনিয়ান মুসলিমকে হত্যা করেছে বসনিয়ান সার্ববাহিনী। ডাচ সেনাদের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে তাদের আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী হিসেবে কাজ করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।

বসনিয়ার পশ্চিম অঞ্চল স্রেব্রেনিকাকে সার্ববাহনী ঘেরাও করেছিল, তারা নিজেদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য মুসলিম ও ক্রোয়েটদের কাছ থেকে ওই অঞ্চলটি নিতে চেয়েছিল।

কাশ্মীরে গণহত্যার আশঙ্কা করে ইমরান খান বলেন, বিশ্ব কি চুপ করে বসে কাশ্মীরে মুসলিম গণহত্যা দেখতে থাকবে?

ইমরান খান বলেন, বিগত ১২ দিন ধরে কাশ্মীরে ভারত সরকার কারফিউ জারি করে রেখেছে। বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। ইন্টারনেটসহ সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে।

কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতিকে ভারতের গুজরাট ও বসনিয়ার স্রেব্রেনিকা গণহত্যারপূর্ব পরিস্থিতি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

টুইটবার্তায় বিশ্বশক্তির প্রতি প্রশ্ন রেখে ইমরান খান বলেন, কাশ্মীর নিয়ে নীরবতা পালন করে বিশ্ব কি গুজরাট ও স্রেব্রেনিকার মতো আরেকটি মুসলিম গণহত্যা দেখতে চায়?

এদিকে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ও সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিলের প্রতিবাদে ভারতের স্বাধীনতা দিবসে পাকিস্তানজুড়ে কালো দিবস পালিত হচ্ছে। কালো দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও টুইটারে কালো প্রোফাইল পিকচার দিয়েছেন।

হিমালয় অঞ্চল কাশ্মীরকে ভারত-পাকিস্তান উভয় দেশই পুরোটা দাবি করে আসছে। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হয়। এর পর এ অঞ্চলটি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৪৮, ১৯৬৫ ও ১৯৭১ তিনটি বড় যুদ্ধ হয়। এর মধ্যে দুই বড় যুদ্ধ হয় কাশ্মীর নিয়ে।  

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী ১৯৮৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

সূত্র: ইয়েনি শাফাক, ডন ও জিয়ো টিভি।