রোহিঙ্গা নিয়ে মিয়ানমারের ওপর চাপ ঠেকাতে পাশে থাকবে চীন

  অনলাইন ডেস্ক ২৩ আগস্ট ২০১৯, ১১:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

চীনা রাষ্ট্রদূত ও মিয়ানমার সেনাপ্রধান
চীনা রাষ্ট্রদূত ও মিয়ানমার সেনাপ্রধান। ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা নিয়ে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ ঠেকাতে পাশে থাকার কথা জানিয়েছে চীন। বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে এক সাক্ষাতে এ কথা জানান সফররত চীনা দূত চেন হাই। খবর ইরাবতি।

চীনা দূত ও মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের মধ্যে বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের কার্যালয়। এতে বলা হয়েছে, চীনা রাষ্ট্রদূত তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

এগুলো হলো- রোহিঙ্গা ও মানবাধিকার বিষয়ে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপের বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের অবস্থান; মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় শান রাজ্য ও মান্দালায় অঞ্চলের গ্যারিসন শহরে সহিংস হামলা ও জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা এবং মিয়ানমার সরকারের গৃহীত শান্তি প্রক্রিয়ায় চীনের সহায়তা অব্যাহত রাখা।

বাংলাদেশে বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছেন। তাদের বেশিরভাগই মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর বর্বর অভিযান থেকে জীবন বাঁচাতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

বাংলাদেশ কয়েক দফায় ৫৫ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করে। তাদের মধ্য থেকে মিয়ানমার তিন হাজার ৪৫০ জনকে যাচাই করে ফেরত নেয়ার জন্য তালিকা পাঠায়।

বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ, পুনর্বাসন ও প্রত্যাবাসন কমিশন এবং ইউএনএইচসিআরের গঠিত কমিটি তালিকাভুক্তদের সাক্ষাৎকার নেয়া শুরু করে। এতে কেউ মিয়ানমারে ফিরতে রাজি না হওয়ায় সংকটটি নতুন মাত্রা লাভ করে।

এর আগে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে তাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। একই বছরের ৬ জুন নেপিদোতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যেও সমঝোতা চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, গত বছরের ১৫ নভেম্বর প্রত্যাবাসনের তারিখ নির্ধারণ হয়। তবে আবারও হামলার মুখে পড়ার শঙ্কায় তারা নিজ দেশে ফিরতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যর্থ হয় ওই উদ্যোগ।

দু’বছর আগে নিপীড়নের মুখে পালিয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের কেউ মিয়ানমারে ফিরে যেতে রাজি না হওয়াকে ‘দুঃখজনক’ বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

একদফা পেছানোর পর বৃহস্পতিবার থেকে প্রত্যাবাসন শুরুর কথা থাকলেও দুপুর পর্যন্ত কেউ রাজি হয়নি। এরপর বিকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে এ প্রতিক্রিয়া জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার চেয়েছে বৃহস্পতিবার থেকেই প্রত্যাবাসন শুরু হোক। কিন্তু রোহিঙ্গারা যে যেতে চাচ্ছে না, এটা দুঃখজনক। এটা আমরা প্রত্যাশা করি না। তবে বৃহস্পতিবার প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি বলার জন্য বিকাল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে মোমেন জানান। প্রত্যাবাসন শুরু না হলে কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরপরও আমরা প্রক্রিয়াটা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব। আমরা জোর করে কিছু করব না। আমরা প্রস্তুত, আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। আস্থার যে ঘাটতি আছে সেটা দূর করতে মিয়ানমারকেই কাজ করতে হবে। আমরা আশায় বুক বেঁধে আছি।

প্রত্যাবাসনের কার্যক্রম দেখতে মিয়ানমার ও চীনের প্রতিনিধিরা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে রয়েছেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মিয়ানমার ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে শরণার্থী শিবিরের রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও লিফলেট বিলির প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, কারা প্ল্যাকার্ড বা লিফলেট করে দিচ্ছে, তাদের আমরা চিহ্নিত করছি। তারা বিভিন্ন ডিমান্ড করছে। তাদের ডিমান্ডের কাছে আমরা জিম্মি হতে পারি না।

রোহিঙ্গারা বলছে, মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর আগে তাদের নাগরিকত্ব, জমিজমা ও ভিটেমাটির দখল, নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এক বছর আগের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর দুই সরকারের উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের পাঠানো তালিকা থেকে ৩ হাজার ৪৫০ জনকে রাখাইনের অধিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের ফেরত নিতে রাজি হওয়ার কথা গত সপ্তাহে জানায় মিয়ানমার।

এরপর গত তিন দিন ধরে ইউএনএইচসিআরকে নিয়ে বাংলাদেশের শরণার্থী কমিশনারের কার্যালয় ফেরার বিষয়ে মনোভাব জানতে রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। প্রত্যাবাসনের জন্য নির্বাচিত শরণার্থীরা কক্সবাজারের ২৪, ২৬ ও ২৭ নম্বর শিবিরে আছে। প্রথম দু’দিনে ২৩৫ পরিবারের সাক্ষাৎকার নেয়ার পর বৃহস্পতিবারও সাক্ষাৎকার চলছিল। শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম জানান, বেলা ১টা পর্যন্ত যাদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে তাদের কেউ ফিরে যেতে রাজি হননি।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×