কাশ্মীরে সম্মিলিত শাস্তি বন্ধে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের আহ্বান

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০১৯, ১৪:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

কাশ্মীরে যোগাযোগ অচলাবস্থা উঠিয়ে দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের একটি দল। বৃহস্পতিবার তারা জানিয়েছেন, এটি কাশ্মীরিদের সম্মিলিত সাজা দেয়ার শামিল। এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ভূস্বর্গখ্যাত উপত্যকাটির সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা কেড়ে নেয়ার পর সেখানে আরোপ করা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ।-খবর এএফপির

এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের অচলাবস্থা জারি করা প্রয়োজনীয় ও সমানুপাতিক অধিকারের মৌলিক নীতিমালার সঙ্গে বেমানান।

এমনকি কোনো অপরাধের কারণ ছাড়াই জম্মু ও কাশ্মীরের লোকজনের ওপর এ অচলাবস্থা সম্মিলিত শাস্তি মতোই বলে তারা জানান। এতে এই বিধিনিষেধকে স্বাভাবিক বৈষম্য হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

স্বাধীনভাবে চলাচল ও জমায়েতে বিধিনিষেধসহ কাশ্মীরজুড়ে আরোপ করা কারফিউ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত তিন দশক ধরে কাশ্মীরে স্বাধীনতাকামীদের সশস্ত্র বিদ্রোহ চলছে। ভারতীয় দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ওই বিদ্রোহে হাজার হাজার বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন।

গত ৫ আগস্ট কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেয়ার ঘোষণা দেয় ভারতীয় সরকার। এর আগে সেখানে কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। যদিও হিমালয় অঞ্চলটিতে আগে থেকেই পাঁচ লাখের বেশি সেনা মোতায়েন ছিল।

নিরাপত্তা ও সরকারি বাহিনীর তথ্যানুসারে, উপত্যকাটিতে অন্তত চার হাজার লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও বিক্ষোভকারীসহ অন্যদের গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি।

মানুষের বাসাবাড়িতে নিরাপত্তা বাহিনীর নৈশ অভিযানে তরুণদের আটক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, এসব আটকের ঘটনায় মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটছে। কাজেই এসব অভিযোগের ব্যাপারে একটি তদন্ত করতে কর্তৃপক্ষের কাছে তারা আহ্বান জানান।

কিছু কিছু আটক ব্যক্তিকে অজ্ঞাত স্থানে রাখা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, এতে লোকজনের গুম হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাবে।