জোট সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে কী হবে ইসরাইলের?

  যুগান্তর ডেস্ক ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

ইসরাইলের নির্বাচন
ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় দফায় সাধারণ নির্বাচনেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অজর্ন করতে পারে নি ইসরাইলের কোনো দল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সেনাপ্রধান বেনি গান্টজও ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছতে পারেননি ।

গত এপ্রিলে প্রথম দফা ভোটে ৩৬ আসন পেয়েছিল নেতানিয়াহুর দল। সেবার লিবারম্যানকে দলে টানতে পারেননি টানা চতুর্থবারের এই প্রধানমন্ত্রী। গাজা উপত্যকায় অস্ত্রবিরতি চুক্তি করায় একে ‘সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আপস’ অ্যাখ্যা দিয়ে ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর জোট ত্যাগ করেন কট্টরপন্থী ইহুদি নেতা লিবারম্যান। ফলে লিবারম্যানের ৯ আসনই জোট সরকার গঠনে নেতানিয়াহুর একমাত্র চাবি।

বেনিকে সমর্থন দিয়েছে ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (৫) ও লেবার (৬)। পার্লামেন্টে তৃতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়া দল জয়েন্ট আরব লিস্ট (১২)। আরব পার্টিগুলো ঐতিহ্যগতভাবে কোন দলকে সমর্থন করে না। তবে তারা নেতানিয়াহুকে হঠাতে বেনিকে সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

জোট সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে ইসরাইলের সামনে এখন আরও দুটি বিকল্প রয়েছে। এর একটি হল লিকুদ, ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট পার্টি এবং সম্ভব হলে লিবারম্যানের ‘ইসরায়েল বেইতেনু’কে নিয়ে একটি ঐক্যের সরকার গঠন করা।

বুধবার সকালে লিবারম্যান বলেছেন, লিকুদ ও ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট পার্টির মধ্যে সমঝোতায় কোনো সরকার হলেই কেবল তিনি তাতে সমর্থন দেবেন। তবে লিকুদ পার্টির সঙ্গে কাজ করবে না বলে আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন বেনি। আরেকটি বিকল্প হল- প্রেসিডেন্ট রিউভেন রিভলিন রাজি থাকলে তৃতীয় দফায় সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করা।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ৯২ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে দুই বড় দলই ৩২টি করে আসন পেয়েছে। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইহুদিবাদী লিকুদ পার্টির জোটগত আসন সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৫৬। বেনির ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট পার্টির জোটগত আসন হচ্ছে ৪৩। ফলে ঐতিহ্যগতভাবেই সরকার গঠন করতে পারছে না কোনো দলই।

এএফপি জানায়, লিকুদ পার্টির ক্ষেত্রে অবশ্য একটা সুযোগ রয়েছে, যদি সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডো লিবারম্যানের কট্টর ইহুদিবাদী দল ‘ইসরায়েল বেইতেনু’কে দলে ভেড়াতে পারেন নেতানিয়াহু। ৯টি আসন পাচ্ছে দলটি। ফলে জোট সরকার গঠনে বরাবরের মতো এবারও তিনিই মূলনায়কে পরিণত হয়েছেন। কট্টর ইহুদিবাদী এই নেতার হাতেই এখন সরকারের চাবিকাঠি।

ক্ষমতাসীন জোটে থাকা জাতীয়তাবাদী ইয়ামিনা ৭, দুটি কট্টরপন্থী ইহুদিবাদী দল শাস ও ইউনাইটেড তোরা ৮ ও ৯টি আসন পেয়েছে।

ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দিন ধরে ক্ষমতায় থাকা লিকুদ পার্টির নেতানিয়াহু রেকর্ড পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হলে দখলকৃত পশ্চিমতীরের নতুন নতুন এলাকায় ইহুদি বসতি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মধ্যপন্থী গান্টজকে ইহুদি বসতি বিস্তৃতির পক্ষে থাকতে দেখা না গেলেও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ব্যাপারে তার অবস্থান স্পষ্ট নয়। তবে নেতানিয়াহুর মতো তিনিও জেরুজালেমের বিভক্তির বিপক্ষে। ইসরাইল সমগ্র জেরুজালেমকেই তাদের রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×