শি জিনপিং : প্রেসিডেন্ট নাকি সম্রাট

  যুগান্তর ডেস্ক ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১০:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

শি জিনপিং : প্রেসিডেন্ট নাকি সম্রাট
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

আজীবনই প্রেসিডেন্ট পদে থাকার জন্য যা যা করা দরকার, তা-ই করতে চলেছেন চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। প্রেসিডেন্টের কার্যকাল নির্দিষ্ট করা একটি আইন বাতিল করে ওই পদ সুরক্ষিত করতে পারে এমন এক প্রস্তাব রোববার পেশ করেছে দেশটির শাসকদল কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি। চীনের সংবিধান অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি পাঁচ বছর করে সর্বোচ্চ দু’বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় থাকতে পারেন। নতুন সংশোধনীতে প্রেসিডেন্টের এ গণ্ডিবাঁধা মেয়াদের ধারা তুলে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০২৩ সালের পরও ক্ষমতায় থাকতে পারবেন।

সিএনএন এক প্রতিবেদনে বলেছে, চীনকে একনায়কতান্ত্রিক শাসনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন জিনপিং। কেননা প্রেসিডেন্টের মেয়াদের ক্ষেত্রে সময়সীমার বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে দেয়ার প্রস্তাব তার অনির্দিষ্টকাল বা আজীবনের জন্য দেশ শাসনের পথ পরিষ্কার করবে। ফলে প্রেসিডেন্ট থেকে ‘চীনের সম্রাট’ হিসেবে আবির্ভূত হবেন তিনি। বিশ্লেষকরা এরই মধ্যে হুশিয়ারি দিয়েছেন, কোনো রাজনীতিকের চরম ক্ষমতার প্রদর্শন কার্যক্ষেত্রে তার দুর্বলতার একটি বড় লক্ষণ হিসেবে হাজির হতে পারে। জিনপিং স্পষ্টত তার বিপরীতে শক্তিশালী কোনো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িয়ে যাক সেটা হতে দিতে চান না বা অনিচ্ছুক। বিষয়টি বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটিকে একটি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। কেননা পার্টির মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যারা জিনপিংয়ের উত্তরসূরি হতে চান এবং ক্ষমতার জন্য তারা লড়াই অব্যাহত রেখেছেন। তবে কমিউনিস্ট পার্টি এই মুহূর্তে জিনপিংয়ের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।

বিশ্লেষকদের মতে, জিনপিংয়ের এ চরম ক্ষমতা তাকে কোনো অর্থনৈতিক মন্দা বা পররাষ্ট্রনীতির সংকটের মতো যেকোনো খারাপ পরিস্থিতিতে চরম সমালোচনার মুখে ফেলবে। ইতিহাসবিদ ও রাজনীতি বিশ্লেষক ঝ্যাং লিফানের মতে, জিনপিংকে ক্ষমতায় রাখতে সংবিধান সংশোধনের এ উদ্যোগ পূর্ব অনুমেয়। কিন্তু তাকে ঠিক কত বছর ক্ষমতায় রাখার কথা চিন্তা করা হচ্ছে তা নিয়ে পূর্বাভাস দেয়া কঠিন। তিনি বলেন, ‘থিওরি অনুযায়ী তিনি জিম্বাবুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের চেয়েও বেশি সময় রাজত্ব করবেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ভবিষ্যতে ঠিক কি হবে তা কেউই বলতে পারে না।’ জিম্বাবুয়েকে ৩৭ বছর ধরে শাসন করা মুগাবে গণবিক্ষোভ ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের পর শেষ পর্যন্ত দলের চাপে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

চীনের অনেক নাগরিক অনির্দিষ্টকালের জন্য এক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা চলে যাওয়া পছন্দ করছে না। দেশটির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উইবোতে একজন লিখেছেন, যদি দুই মেয়াদ যথেষ্ট না হয় তবে তারা তিন মেয়াদের কথা লিখতে পারে, কিন্তু সেখানে অবশ্যই একটা সীমা থাকতে হবে। একেবারে মুক্ত করে দেয়া ভালো হবে না। এর আগে গঠনতন্ত্রে মতাদর্শের পাশে মাও ছাড়া কেবল দেং জিয়াওপিংয়ের নাম যুক্ত হয়েছিল। তা-ও তা করা হয়েছিল জিয়াওপিংয়ের মৃত্যুর পর। ওই কংগ্রেসের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এতে দলের সাত সদস্যের শীর্ষ নীতিনির্ধারক একটি স্ট্যান্ডিং কমিটিও নির্বাচন করা হয়। তবে শি জিনপিংয়ের কোনো উত্তরসূরি নির্বাচন করা হয়নি। গত বছরের অক্টোবরে জিনপিং দ্বিতীয় দফায় দল এবং দেশের সামরিক প্রধান হন। প্রেসিডেন্টের পদই শুধু নয়, এই প্রস্তাবে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদও আজীবনের জন্য সুরক্ষিত হয়ে যাবে।

 

 

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.