ইরানে সামরিক হামলার কথা ভাবছে সৌদি: মার্কিন সাময়িকী

  যুগান্তর ডেস্ক ০৫ অক্টোবর ২০১৯, ২০:১১ | অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের পুরোপুরি সমর্থন ছাড়া ইরানে প্রতিশোধমূলক হামলা চালাবে না সৌদি আরব। কিন্তু তেহরান এমনটাই ভাবছে।
ছবি: ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের পুরোপুরি সমর্থন ছাড়া ইরানে প্রতিশোধমূলক হামলা চালাবে না সৌদি আরব। কিন্তু তেহরান এমনটাই ভাবছে।

বাকিক ও খরিচ তেল স্থাপনায় বিপর্যয়কর হামলার দুই সপ্তাহ পর সব জায়গায় একটি প্রশ্ন ভাসছে: প্রতিশোধ নিতে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র কী ভাবছে? দুই মিত্রই এই ঘটনায় ইরানকে দায়ী করে শাস্তি পেতে হবে বলেই প্রচার চালিয়ে আসছে।

ইরানকে দোষী প্রমাণিত করার পর তারা দেশটিকে কূটনৈতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। মার্কিন দ্বিমাসিক সাময়িকী ন্যাশনাল ইন্টারেস্টের বিশ্লেষণে এমন দাবিই করা হয়েছে।

এভাবে একটা আগ্রাসী জবাবের পথ তৈরি করতে পারে সৌদি ও যুক্তরাষ্ট্র। রিয়াদ একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গেছে। উপসাগরীয় দেশটি এখন দুটি অপ্রীতিকর সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে।

তারা যদি কিছুই না করে, তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে বাধ্য করতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অংশীদার দেশটির বিরুদ্ধে আগ্রাসী পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে ইরান।

সর্বোপরি তেহরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে রিয়াদের হাতে খুবই কম চেষ্টার সুযোগ রয়েছে। সেই হিসাব মাথায় নিলে ইরানের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হবে মার্কিন পদক্ষেপগুলো, যাতে সৌদির কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

কিন্তু নিজেদের প্রতিরোধকে পুনর্প্রতিষ্ঠা করতে সৌদি আরব যদি ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়। এতে তেহরানের প্রতিশোধের ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে সৌদি তেল স্থাপনাগুলোর মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিশোধ নেয়ার চাপ বাড়তে থাকায় সৌদি আরব শিগগিরই অনুভব করতে থাকবে যে ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনোভাবে পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

রাশিয়া ও চীনের মতো পরাশক্তির সঙ্গে যখন প্রতিযোগিতায় সম্পদ ও শক্তি বাড়াতে মনোযোগী হতে যাচ্ছে, তখন মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি সংঘাতে জড়িত হওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

ইরানবিরোধী দেশগুলোর কোনো একটি যদি বাকিক ও খরিচ তেল স্থাপনায় হামলার সামরিক জবাব দিতে শুরু করে, তবে সেই অভিযানের সামনেই নিজেদের রাখবে সৌদিরা।

সিবিএস নিউজের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী জবাবের সম্ভাব্য বিকল্প নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যখন দেশটির সামরিক উপদেষ্টা নির্দেশনা দিয়েছেন, তখন তিনি জোর দিয়ে বলেছেন- যেকোনো প্রতিশোধমূলক হামলায় সৌদি আরবকে অবদান রাখতে হবে।

ইরানের বিরুদ্ধে গভীর সংঘাতে নিজেকে জড়িত দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনার মধ্যে সন্তোষজনক কিছু আছে বলে ভাবছে না সৌদি আরব। কারণ ওই হামলায় তাদের অর্থনীতির মূলভিত্তি তেল স্থাপনা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

তেহরানে তারা প্রতিশোধমূলক হামলা করুক কিংবা না-ই করুক, সেটা এখানে বিবেচ্য না।

রিয়াদের বিবেচনা এমনটা হতে পারে যে মিত্রদেশগুলোর সহযোগিতায় ইরানকে ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপে রাখাই যথেষ্ট।

বিকল্প ভাবলে, তারা অপ্রচলিত উপায়ে জবাব দেয়ার কথাও মাথায় নিতে পারে। যেমন, অন্তর্ঘাতমূলক নাশকতা কিংবা সাইবার হামলা। আর যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায়ই এসব করতে হবে।

কিন্তু ইরানকে নিবৃত্ত করতে এতে সফল হওয়া একেবারেই অসম্ভব। হিতে বিপরীত হয়ে ইরানের সাহস বেড়ে যেতে পারে।

ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরান প্রথমে আঘাত হানছে। কাজেই আশঙ্কা বাড়ছে যে প্রতিশোধের একমাত্র উপায় হিসেবে সামরিকভাবে জবাব দেয়ার কথাই ভাবছে সৌদি আরব।

ঘটনাপ্রবাহ : সৌদি তেল স্থাপনায় হামলা

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×