ট্রাম্প-এরদোগানের দেন-দরবারে ৫০ পারমাণবিক বোমা

  যুগান্তর ডেস্ক ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:০৩ | অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্প-এরদোগানের দেন-দরবারে ৫০ পারমাণবিক বোমা
ছবি: গার্ডিয়ান অনলাইনের

তুরস্কের মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে মজুত রাখা অর্ধশত পারমাণবিক বোমাই এখন ওয়াশিংট্ন ও আংকারার মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের সম্ভাব্য দেন-দরবারের মূল অনুঘটকের ভূমিকা পালন করছে।

সিরিয়ায় কুর্দিশ ওয়াইপিজি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে চলমান তুর্কি বাহিনীর অভিযানের প্রেক্ষাপটে এই প্রসঙ্গটি সামনে চলে এসেছে।-খবর গার্ডিয়ান অনলাইনের

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপে এরদোগানের সঙ্গে এক ফোনালাপে এই অভিযানের প্রতি সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তবুও তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পরিকল্পনা আঁটছে মার্কিন কংগ্রেস। ইতিমধ্যে দেশটির দুই মন্ত্রী ও তিন সরকারি কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা বসিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

তুর্কি অভিযানে সায় দিয়ে নিজ দেশে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে রয়েছেন ট্রাম্প। সোমবার তুরস্কের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

এরদোগান বলেন, তুরস্ককে একঘরে করে রাখতে পশ্চিমাদের চেষ্টার আগ্রাসী জবাব দেবেন তিনি। এছাড়া অভিযান বন্ধ না করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই তুর্কি প্রেসিডেন্ট।

আজারবাইজানের বাকুতে সফররত এই তুর্কিশ নেতা বলেন, শেষ পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত চালিয়ে যেতে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। যা শুরু করে দিয়েছি, তা শেষ করব। একটি উত্তোলিত পতাকার কখনও পতন ঘটবে না।

সিরীয় সীমান্ত থেকে ১০০ মাইল দূরে ইনসিরলিক বিমান ঘাঁটিতে পারমাণবিক ভরের বি৬১ বোমা রয়েছে। তুর্কি বাহিনীর সঙ্গে এটিতে মার্কিন সেনারাও রয়েছেন।

মূলত এই বিমান ঘাঁটি ওয়াশিংটনের হিসাব-নিকাশকে জটিল করে তুলেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন কর্মকর্তারা এসব বোমা সরাতে পরিকল্পনা করেছেন। সোমবার নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে এমন তথ্য জানা গেছে।

এক শীর্ষ কর্মকর্তার উদ্ধৃতিতে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ওই বোমাগুলো এখন এরদোগানের জিম্মিতে পরিণত হয়েছে। কাজেই ওই বোমাগুলো ইনসিরলিক বিমানঘাঁটি থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার অর্থ হবে তুর্কিশ-মার্কিন জোটের কার্যত অবসান।

বোমাগুলো বারবার সরিয়ে নেয়ার কথা বিবেচনা করা হলেও তা কার্যকর করা যাচ্ছে না। তুরস্কে এ সব বোমার অস্তিত্ব নিয়ে কর্মকর্তারা আলোচনা করতে চাচ্ছেন না। কিন্তু বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট।

যুদ্ধ পরিকল্পনার প্রায়োগিক কার্যক্রম ছাড়াই এগুলো ঠাণ্ডাযুদ্ধকালীন নিদর্শন হয়ে আছে। বোমাগুলো মোতায়েনের জন্য বহন করতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিমান ব্যবহার করতে হবে। পারমাণবিক বোমা বহন করতে তুরস্কের কোনো বিমান সত্যয়ন করা নেই।

বোমাগুলোকে প্রত্যাহার করে নিয়ে যেতে ন্যাটো সদস্যদেশগুলোর মধ্যে গত তিন দশক ধরে আলোচনা চলছে। কিন্তু তুরস্কসহ কয়েকটি ন্যাটোভুক্ত দেশের বিরোধিতায় তা হাবুডুবু খাচ্ছে।

বোমাগুলো সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনাকে প্রতিরোধ সম্প্রসারিত করার মাধ্যমে তাদের প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রতিশ্রুতির অনিশ্চয়তার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাবেক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, বোমাগুলো কী করা যায়, তা নিয়ে বারাক ওবামা প্রশাসনে উল্লেখযোগ্য আলোচনা হয়েছে।

দুটি কারণে তারা বোমাগুলো সরাতে চাচ্ছেন, তা হচ্ছে- ওবামার নিরস্ত্রীকরণ এজেন্ডা ও তুরস্কে ২০১৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

অভ্যুত্থানের বেশ কয়েকজন ষড়যন্ত্রকারী ওই বিমান ঘাঁটি ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে একজন জেনারেল রয়েছেন, তিনি একপর্যায়ে তার মার্কিন সহকর্মীদের কাছে সুরক্ষা চেয়েছেন। যদিও তা অস্বীকার করা হয়েছে।

সন্দেহভাজনকে গ্রেফতারে উদ্যোগ নেয়ার আগে বিমান ঘাঁটির বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল এরদোগান প্রশাসন।

সাবেক এক মার্কিন কর্মকর্তার তথ্যমতে, তুর্কি কূটনীতিকদের প্রতিক্রিয়া এই আভাস দিচ্ছে যে তুরস্ক নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর পরই এগুলো সরানো হবে।

তিনি বলেন, সম্ভাব্য সমস্যা নিয়ে গত একদশক আলোচনা চলছে। শেষ পর্যন্ত আমরা এমন একটা পর্যায়ে চলে এসেছি যে বিষয়টিকে তুচ্ছ বলে উড়িয়ে দিতে পারছি না।

গত মাসে এরদোগান সেই হুমকিই দিয়েছেন। দলীয় এক সমাবেশে তিনি বলেন, এটা অগ্রহণযোগ্য যে তুরস্কর নিজেদের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। তিনি দাবি করেন, পৃথিবীতে এমন কোনো উন্নত দেশ নেই, যাদের পারমাণবিক অস্ত্র নেই।

পরমাণু অস্ত্রবিস্তার রোধ চুক্তিতে সই করেছে তুরস্ক। কাজেই পরমাণু অস্ত্র নির্মাণ না করার ক্ষেত্রে দেশটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আর্মস কন্ট্রোল অ্যান্ড নন-প্রলিফারেশন সেন্টারের জ্যেষ্ঠ নীতি পরিচালক আলেক্সান্ডার বলেন, পরমাণু সংকট নিয়ে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তাদের এ বিষয়টি নিশ্চিত করেনি ট্রাম্প প্রশাসন।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ক্ষুব্ধ টুইটবার্তা পোস্ট করেছেন। সম্ভাব্য অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে তা যথেষ্ট পরিমাণ মনোযোগ আকর্ষণ করবে না।

ঘটনাপ্রবাহ : সিরিয়ায় অপারেশন পিস স্প্রিং

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×