মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে পুতিনের প্রভাব

  যুগান্তর ডেস্ক ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ২০:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে পুতিনের প্রভাব
ছবি: এএফপি

এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো সৌদি সফরে সোমবার মধ্যপ্রাচ্যে মস্কোর প্রভাব বাড়ার আভাস দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

সিরিয়ায় মার্কিন শক্তিবৃদ্ধি, রিয়াদের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে জোরালো সম্পর্ক ও জ্বালানি সহযোগিতার মধ্য দিয়ে সৌদি সফরে গেলেন পুতিন।

২০১৫ সালে সিরিয়ায় সেনা পাঠানোর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে মস্কো। গৃহযুদ্ধকবলিত দেশটিতে প্রেসিডেন্ট বাসার আল-আসাদের সমর্থন ও সহযোগিতা করছে রাশিয়া এবং ইরান।-খবর রয়টার্সের

যেখানে সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আর সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়েছে সৌদি আরব।

পুতিনের সৌদি সফরের প্রাক্কালে উত্তর সিরিয়া থেকে সৌদি বাহিনী আকস্মিক পিছু হটেছে। তুরস্কের আন্তঃসীমান্ত অভিযান থেকে সুরক্ষা দিতে একটি চুক্তির অধীন কুর্দিশ ভূখণ্ডের ভেতর রুশ সমর্থিত সরকারি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

সুন্নি মুসলমান সৌদি আরব ও শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে রাশিয়া। গত কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার নিয়ে ইরান-সৌদি অচলাবস্থা চলছে।

সম্প্রতি উপসাগরীয় অঞ্চলে বেশ কয়েকটি ট্যাংকারে হামলার পর সেই অচলাবস্থা সরাসরি যুদ্ধে দিকে যাচ্ছে।

সিরিয়ার সংঘাতে রিয়াদ ও মস্কোর অবস্থান প্রতিপক্ষ হলেও পুতিনকে এবার রাজকীয় অভ্যর্থনাই দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটি যে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নেও আগ্রহী, এতে সেই ইঙ্গিতই মিলেছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রুশ প্রেসিডেন্টের রিয়াদ সফরের আগে আগেই যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে সেনা সরিয়ে নিয়ে ওই অঞ্চলে পুতিনের প্রভাব বৃদ্ধির আরও সুযোগ করে দিয়েছেন।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সুযোগে তুরস্ক ওই এলাকায় কুর্দিবিরোধী অভিযান শুরু করেছে। যা থেকে বাঁচতে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্স (এসডিএফ) পরে আসাদ সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে একটি চুক্তিতেও রাজি হয়।

ওই চুক্তির সূত্র ধরেই কয়েক বছর পর কুর্দি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে অবাধে ঢুকতে পারছে ক্রেমলিনঘনিষ্ঠ সিরীয় সেনাবাহিনী।

সৌদির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কোর দহরম-মহরম দেখা যাচ্ছে।

কেবল সিরিয়াতেই নয়, গত বছর ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সরিয়ে নিলে যে উত্তেজনার আবহ সৃষ্টি হয়, তাতেও তেহরানের পাশেই রাশিয়াকে দেখা গেছে।

চলতি বছরের মাঝামাঝি থেকে উপসাগরে বিভিন্ন তেলবাহী ট্যাংকারে এবং সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের দুটি তেল স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাতে পশ্চিমারা ইরানকে দায়ী করলেও মস্কো সে সুরে গলা মেলায়নি।

তেহরান শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছে।

সোমবার সৌদি সফরে এসে পুতিন দেশটির বাদশাহ সালমান এবং সিংহাসনের উত্তরসূরি মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট আগে থেকেই এ দুজনের সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে বলেও দাবি করে আসছিলেন।

টেলিভিশনে দেয়া মন্তব্যে পুতিন ও সৌদি বাদশাহ সালমান দুজনই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় যৌথ বিনিয়োগের পাশাপাশি সিরিয়া ও ইয়েমেনে সংঘাতের বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে জানিয়ে মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছেন, জ্বালানি খাতে সৌদি আরব ও রাশিয়ার সহযোগিতা স্থিতিশীলতা অর্জনে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, তেলের বাজারের এক সময়ের প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়ার সঙ্গে ওপেকের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব অপরিশোধিত জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখতে যখন থেকে ওপেক প্লাস জোটের সূচনা করেছিল, তখন থেকেই এ খাতে দুই দেশের সম্পর্ক ভালো হতে শুরু করে।

১৪ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের দুটি তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনার পর পুতিন সৌদি আরবকে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা এস-৪০০ সরবরাহেরও প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

সোমবার রিয়াদ সফরে আসার আগে তিনি ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা নিরসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আগ্রহও প্রকাশ করেছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের এস-৪০০ কেনার যে কোনো ধরনের আগ্রহ দেশটির সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ককে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

তেহরানের হুমকি মোকাবেলায় পেন্টাগন এরই মধ্যে সৌদি আরবে তিন হাজার নতুন সেনার পাশাপাশি একটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা পাঠানোরও ঘোষণা দিয়েছে।

গত বছর তুরস্কের সৌদি কনস্যুলেটে মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ড এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা ইস্যুতে রিয়াদের ওপর মার্কিন কংগ্রেসের নিষেধাজ্ঞার চাপ ঠেকিয়ে রাখা ডোনাল্ড ট্রাম্পও মস্কোর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে সৌদি আরবকে সতর্ক করেছেন।

তিনি বলেন, রিয়াদের যে কোনো বোকা পদক্ষেপ প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়া ও চীনেরই উপকার করবে।

পুতিনের এবারের সফরে সৌদি আরব ও রাশিয়ার মধ্যে জ্বালানি, পেট্রোকেমিক্যালস, যাতায়াত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন খাতে ডজনের বেশি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

সৌদি আরামকোর শেয়ার নিয়ে আগ্রহী দেখা গেছে রুশ ব্যবসায়ীদের। রাশিয়ার গ্যাজপ্রমও সৌদি আরবের প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধিতে উৎসাহী।

আগস্টে রিয়াদ কিছু বিধিনিষেধ তুলে নেয়ায় বিশ্বের সর্ববৃহৎ গম রফতানিকারক দেশ রাশিয়ার সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে প্রবেশের পথ ত্বরান্বিত হয়েছে।

রাশিয়ার কৃষিখাতে বিনিয়োগ প্রকল্পের সন্ধানে যৌথভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে রুশ বিনিয়োগ তহবিল আরডিআইএফ ও সৌদি এগ্রিকালচার ও লাইভস্টক ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি (এসএএলআইসি)।

মস্কোর সঙ্গে বাণিজ্যিক এ সব লেনদেন যুক্তরাষ্ট্রকে তেমন উদ্বিগ্ন করবে না বলেই আশা সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রী আদিল আল-জুবায়েরের।

ঘটনাপ্রবাহ : মার্কিন-ইরান সংকট

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×