রাতে নির্জন সড়কে শিশুর হামাগুড়ি, রক্ষীরা ভাবল ভুত

  অনলাইন ডেস্ক ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০০:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

শিশুটিকে উদ্ধার করেন অটোচালক
শিশুটিকে উদ্ধার করেন অটোচালক

বনের মধ্যে রাস্তায় ঘুমন্ত মায়ের কোলে থাকা এক বছর বয়সী একটি শিশু চলন্ত জিপ থেকে পড়ে যায়। মা কিছুই টের পেল না। চলে গেল জিপটি।

শিশুটিকে ফাঁকা সড়কে হামাগুড়ি দিতে দেখে বনরক্ষীরা ভাবল ভূত। ভয়ে উদ্ধারে গেল না তারা। পরে একটি অটোরিকশা চালক শিশুটিকে উদ্ধার করে বন কর্মকর্তার কাছে সোপর্দ করেন।

এ ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের কেরালা রাজ্যের ইদুকি জেলার একটি রিজার্ভ অরণ্যের ভেতরে রাজমালা চেকপোস্টের কাছে। ঘটনার এক মাস পর সিসিটিভির টিভির ওই ফুটেজটি ভাইরাল হয়ে গেছে।

ভারতের টাইম নিউজ মিনিটের প্রতিবেদনে বলা হয়, কেরালার ইদুকি জেলার একটি রিজার্ভ অরণ্যের অভ্যন্তরে রাজমালা চেকপোস্টের কাছে একটি জিপ গাড়ি থেকে এক বছর বয়সী শিশু পড়ে যায়। তখন শিশুটির বাবা ও মা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন বলে তারা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করে বন বিভাগ। পরে সিসিটিভির ফুটেজটি সামনে আসে। সঙ্গে সঙ্গে তা ভাইরাল হয়ে যায়।

ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে ইদুকি জেলার একটি রিজার্ভ অরণ্যের অভ্যন্তরে রাজমালা চেকপোস্ট দিয়ে একটি জিপ যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর দেখা যায় একটি শিশু হামাগুড়ি দিচ্ছে সড়কের ওপর। হামাগুড়ি দিয়ে শিশুটি এদিক ওদিক যাচ্ছে।

ওই চেকপোস্টে থাকা বনকর্মীরা প্রথমে কিছু বুঝতে পারেনি। পরে শিশুটির হামাগুড়ি দিয়ে এদিক ওদিক যাওয়া দেখে তারা ভয় পেয়ে যায়। ভূত মনে করে তারা শিশুটির কাছে যায়নি।

সর্বশেষ সিসিটিভি ফুটেজে শিশু ক্যামেরার পেরিফেরিয়াল দৃশ্য থেকে দূরে সরে যাওয়ার কয়েক মিনিট পরে একটি অটোরিকশা চেকপোস্টের কাছে এসে থামতে দেখা যায়। আর একজন ব্যক্তি তার মোবাইলে কথা বলে অফিস থেকে বেরিয়ে আসে। পরে আলোচনা শেষে তিনজন আস্তে আস্তে সন্তানের দিকে হাঁটা শুরু করে। এক মিনিট পরে অটোচালককে বাচ্চাটিকে নিয়ে বন কর্মকর্তার সঙ্গে অফিসের ভিতরে যেতে দেখা যায়।

চেকপোস্টে বন বিভাগের কর্মচারীরা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছিলেন। এরপরে পুলিশ তত্ক্ষণাৎ ওই অঞ্চলের সমস্ত থানাগুলিকে সতর্ক করে দেয়।

টাইম নিউজ মিনিট জানায়, শিশুটির পরিবার তামিলনাড়ুর পালানীতে বেড়াতে যাচ্ছিল। গাড়িতে শিশুর বাবা-মা ঘুমিয়ে পড়ে। তখন জিপ থেকে শিশুটি পড়ে যায়। পড়ার পরে শিশুটির মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছিল।

শিশুটির বাবা ও মা ইদুক্কির কম্বিলিকান্দামে তাদের বাড়িতে পৌঁছে তাদের সন্তানের নিখোঁজের বিষয়ে জানতে পারে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ও মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তবে ওই শিশুটির পরিবারের পরিচয় জানায়নি পুলিশ ও বন দফতর।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেরালার মুন্না জেলার পুলিশের এক কর্মকর্তা টাইম নিউজ মিনিটকে জানিয়েছেন, ঘটনার পরে শিশুটির পিতামাতার বিরুদ্ধে জুভেনাইল জাস্টিস (জেজে) আইনে করা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে নতুন ফুটেজটি পাওয়া গেছে। এরপরেই আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে একটি অটোচালক বাচ্চাদের উদ্ধারে বন দর্শনার্থীদের সহায়তা করেছিলেন। কয়েকদিন আগে অটোচালককে ডেকে তার বক্তব্য নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে ওই অটোচালকের নাম কনকরাজ। তিনি মুন্নার জেলার কেডিএইচপি আবাদে নয়মাক্কাদ এস্টেটের বাসিন্দা। কানাকরাজ জানান, তিনিই বাচ্চাটিকে বাঁচিয়েছিলেন, বন কর্মকর্তারা নয়।

গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি দাবি করেন, রাস্তায় হামাগুড়ি দেয়া শিশুটিকে দেখে তিনি নিজের গাড়ি থামিয়েছিলেন। বনকর্মীরা ভূত মনে করে ওই শিশুর কাছে যেতে ভয় পাচ্ছিলেন। পরে আমি শিশুটিকে উদ্ধার করে রাজমালা চেকপোস্ট কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দিয়েছি। আমার নম্বর দিয়ে বাড়ি চলে আসি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×