ফিলিস্তিনে দখলদারিত্ব ঢাকতে বলিউডকে ব্যবহার করছে ইসরাইল

  যুগান্তর ডেস্ক ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ২০:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বলিউড মহাতারকা অমিতাভ বচ্চিন। ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বলিউড মহাতারকা অমিতাভ বচ্চন। ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় অভিনেতারা গেল মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার টিএলভি ইন্ডিয়া উৎসব উপলক্ষে দলে দলে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল সফর যান। দেশদুটির সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান ছিল এই উৎসব।

অনিল কাপুর, আমিশা প্যাটেলসহ বলিউডের অন্তত আট তারকা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ভারত-ইসরাইলের সম্পর্ককে আরও কাছে নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি থেকেই উৎসবটির আয়োজন। যাতে ত্রিশ হাজারের মতো ভারতীয় যোগ দেবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।-খবর মিডল ইস্ট আইয়ের

কিন্তু শুরু হওয়ার আগেই তেল আবিবের এই উৎসবটি সমালোচনা আর বিভ্রান্তির জালে আটকা পড়েছে।

জনপ্রিয় এই চলচ্চিত্র তারকারা যাতে ইসরাইল সফরে না যান এবং তেল আবিবকে সাংস্কৃতিকভাবে বর্জনকে সম্মান দেখান, সে জন্য তাদের প্রতি চাপ দিতে সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান দখলদার রাষ্ট্রটিকে বর্জন-পরিত্যাগ-নিষেধাজ্ঞা (বিডিএস) প্রচারের কর্মীরা।

ওই সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে যোগ দেয়া অভিনেত্রীদের একজন সোফি চৌধরী বলেন, অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু এ লেখাটির সময়েও টিকেট বিক্রি চলছিল।

তবে তার দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি মিডল ইস্ট আই। বিডিএসের তথ্যানুসারে, ২০১৮ সালেও এমন একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু চাপের কারণে সেটি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

এই অনুষ্ঠান কিংবা এটা ছাড়াও বলিউডে ইসরাইলের এমন কিছু বন্ধুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে, যাতে নিপীড়নের শিকার ফিলিস্তিনিরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

বিডিএস প্রচারের দক্ষিণ এশিয়ার সমন্বয়ক অপূর্ব পিজি বলেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনে বলিউডের সমর্থন পেতেই তারকাদের নিয়ে এই বিপুল খরুচে উৎসব। এটা ইসরাইলি কৌশলের অংশ। আর বর্তমানে সেটা নতুন উচ্চতা পেয়েছে।

পহেলা নভেম্বর প্রথমবারের মতো একটি হিন্দি চলচ্চিত্রের কিছুটা অংশ ইসরাইলে শুটিং করা হয়েছে। যেটা নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। ড্রাইভ নামের ওই সিনেমটিতে অভিনয় করেছেন সুশান্ত সিং রাজপুত ও জ্যাকুলিন ফার্নান্ডেজ।

তেল-আবিবের গাছপালায় ঢাকা ছবির মতো দেখতে বিশাল সড়ক ও জাফা শহরে ইসরাইলের ঐতিহাসিক অংশেও শুটিং হয়েছে। চলচ্চিত্রটির কাহিনী একজন গাড়ি চালকের রোমাঞ্চকর কসরত দিয়ে সাজানো। যিনি অতি ঝুঁকি নিয়ে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে তা তেল-আবিব সফরে খরচ করেন।

ইসরাইলের একটি খবরের অনলাইনের ভাষায়, এই নির্ঘুম শহরটি নৈশ জীবন, সৈকত ও পার্টির জন্য বিখ্যাত।

পশ্চিমা বিশ্বে তলানিতে যাওয়া ভাবমর্যাদা ট্যাকল দিতে বলিউডের খ্যাতিকে কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে কাজে লাগিয়ে এই বিনিয়োগ বিভিন্নভাবে মুনাফা হয়ে ফিরে আসবে ইসরাইলের ঘরে।

নতুন বাজারে ঢোকা ও পর্যটক টানতে চলচ্চিত্রে বিনিয়োগে আহ্বান জানিয়েছে ইসরাইল। এ ক্ষেত্রে কর সুবিধা দেয়ারও প্রস্তাব রয়েছে দেশটির তরফে। ড্রাইভ সিনেমাটিতে ইসরাইলি পর্যটন মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তহবিলও রয়েছে।

নিউইয়র্কভিত্তিক দক্ষিণ এশীয় সংহতি উদ্যোগের (এসএএসআই) সদস্য রবীন্দ্র দেব বলেন, বলিউড ও ইসরাইলের মধ্যে গড়ে ওঠা সম্পর্ক, ভারতের সঙ্গে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক এবং ফিলিস্তিনে দখলদারিত্বে সায় একটা অস্বস্তিকর সংকেত দিচ্ছে।

ইসলামবিদ্বেষ ও জাতীয়তাবাদী নতুন বিবরণ তৈরিতে ডুবে আছে ভারতীয় গণমাধ্যম। কাজেই ফিলিস্তিনে দখলদারিত্ব ঢাকতে এসব মিডিয়ায় কিছু অনুগত পাঠক ও দর্শক আগে থেকেই পাচ্ছে ইসরাইলি প্রকল্প।

নির্বাক চলচ্চিত্র যুগের বলিউডে ইহুদি ইতিহাসে আলোকপাত করতে গিয়ে ভারতীয় একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের শুরুতে বলা হয়েছে, ১৯০০ সাল থেকেই হিন্দি চলচ্চিত্রের সঙ্গে ইসরাইলের সংযোগ রয়েছে।

যদিও এতে স্বীকার করা হয়েছে যে প্রথম দিকের অভিনেতারা ছিলেন বাগদাদি ইহুদি। এমনকি ১৯৪৮ সালের আগে যে ইসরাইল বলতে কোনো রাষ্ট্র ছিল না, সেই ইতিহাসও এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

যখন অবৈধভাবে ভূমি দখল করে এই রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়, তার বহু আগেই চলচ্চিত্রের নির্বাক যুগ ইতি টেনেছে।

নিউইয়র্কভিত্তিক সাংবাদিকতা ও গবেষণা কেন্দ্র দ্য পোলিস প্রকল্পের পরিচালক সুচিত্রা বিজয়া বলেন, ইসরাইলের দখলদারিত্ব প্রকল্পে জড়াতে চায় বলিউড। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

‘ইসরাইল শিল্পকলাকে উপনিবেশীকরণ করেছে, সংস্কৃতিকে উপনিবেশীকরণ করেছে। এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে নগ্ন দৃষ্টান্ত হচ্ছে বলিউড। উপমহাদেশের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। ইসরাইল সেটাকে মুছে দিতে চাচ্ছে,’ বললেন এই গবেষক।

ভারতীয় সরকারের তথ্যানুসারে, ৮০ হাজার ৫০০ ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইহুদি রয়েছে ইসরাইলে। এছাড়াও স্বাস্থ্যসেবা, আইটি, হীরক ব্যবসাসহ বিভিন্ন চাকরিতে কর্মরত রয়েছেন আরও সাড়ে ১২ হাজার ভারতীয়।

আয়োজকরা বলছেন, তেল আবিবে তিনদিনব্যাপী ওই উৎসবে ৩০ হাজার ভারতীয় উপস্থিত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সুচিত্রা বিজয়া বলেন, ভারতের দক্ষ অভিবাসীরা প্রধানত উচ্চবর্ণের। তিনি নিশ্চিত করে বলেন যে তাদের ওপর জাতীয়তাবাদী উন্মাদনা ও জাতপাতের রাজনীতি ভর করে আছে। কাজেই বলিউড যা নির্মাণ করছে, এগুলো সেই ব্যাখ্যা দিচ্ছে।

‌‘অপরদিকে ইসরাইলের বড় বাজার হচ্ছে ভারত,’ বললেন সুচিত্রা। নব্বুইয়ের দশকের পর থেকে ভারত-ইসরাইলের সম্পর্ক নাটকীয়ভাবে বাড়তে থাকে। পরস্পরের দিকে তারা ঘেষতে থাকেন।

কিন্তু ২০১৪ সালে কট্টরপন্থী নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে দুই দেশের অংশীদারিত্ব নজিরবিহীন পর্যায়ে চলে গেছে।

ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০১৭ সালে ইসরাইল সফর করেন হিন্দুত্ববাদী নরেন্দ্র মোদি। এতে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশটির পররাষ্ট্র নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দেয়।

আর এখন ইসরাইলি অস্ত্রের একটি বড় ক্রেতা হচ্ছে ভারত। এতে প্রতিবছর নয়াদিল্লির গড়ে ১০০ কোটি ডলার খরচ হচ্ছে।

গেল বছরের জানুয়ারিতে ভারতে ছয়দিনের সফরে মুম্বাইয়ে বলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রী ও প্রযোজকদের সঙ্গেও বৈঠক করেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। এতে অমিতাভ বচ্চন ও ইমতিয়াজ আলীর মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও ছিলেন।

আলোচনা শেষে তারা চলচ্চিত্র শিল্পে ইসরাইলকে সহযোগিতার নিশ্চয়তা দেন। এরপর থেকে ভারতে ইসরাইলি প্রতিনিধিরা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক বাড়ানোর কোনো সুযোগই হাতছাড়া করছেন না। হোক সেটা প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, যৌথ নিরাপত্তা উদ্যোগ।

বলিউড তাদের শহরে যাচ্ছে বলেও টুইটারে গর্ব প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

কারো কারো কাছে ৩ আগস্ট বন্ধুত্বের দিবস বলে পরিচিত। নয়াদিল্লিতে ইসরাইলি দূতাবাস মোদি-নেতানিয়াহুর ব্রোমান্স উদযাপনে একটি ভিডিও কোলাজ প্রকাশ করেছে। এতে ভোকাল ছাড়া ‘ইয়ে দোস্তি হাম নাহি তোডেঙ্গে’ গানটি যান্ত্রিকভাবে পরিবেশন করা হয়। হিন্দি থেকে যার অর্থ দাঁড়ায়, বন্ধুত্বের এ বাঁধন কখনোয়ই যাবে না ছিড়ে।

বলিউডের অন্যতম একটি আইকনিক সিনেমা ‘শোলে’ থেকে গানটি নেয়া হয়েছে। যাতে অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন ও ধর্মেন্দ্র।

সেপ্টেম্বরে অমিতাভ বচ্চন যখন ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ পুরস্করটি পান, তখন টুইটারে তাকে সবার আগে যারা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত রন মালকা তাদের অন্যতম।

এ বছরের শেষ দিকে অ্যাকশন তারক টাইগার শ্রুফের তেল আবিব যাওয়ার কথা ছিল। নতুন একটি সিনেমার জন্য ইসরাইলি মার্শাল আর্ট ক্রাভ মাগা শিখতে ইহুদিদের দেশটিতে যাওয়ার কথা ছিল এই উদীয়মান বলিউড অভিনেতার।

কিন্তু পরিচালক যখন বুঝতে পারছেন, অ্যাকশন দৃশ্যের অনুক্রম পুনরাবৃত্তিমূলক হয়ে যাবে, তখন সেই সফর বাতিল করা হয়েছে।

বিডিএস আন্দোলনকে অকার্যকর করে দিতে বলিউডের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা মোটেও গোপন করছেন না ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বলে জানালেন অপূর্ব পিজি। ভারতে ইসরাইলের ভাবমূর্তি বাড়াতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।

অপূর্ব বলেন, ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতাদের বড় ধরনের মুনাফার প্রস্তাব দিচ্ছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। যাতে তারা দেশটিতে গিয়ে নিজেদের চলচ্চিত্রের শুটিং করেন।

তবে এসব নিয়ে জানতে চেষ্টা করা হলে ভারতে ইসরাইলি দূতাবাস থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

এটা অবশ্য ওপেন সিক্রেট যে কিছু বলিউড অভিনেতা নিজেদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার পাইকারি বিক্রেতা হয়ে গেছেন। কখনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন বলে দেখা যায়নি।

বলিউড এমন সব চলচ্চিত্রের দৃষ্টান্তে ভরে গেছে, যাতে সংখ্যালঘুদের কম গুরুত্বপূর্ণ গৎবাঁধা ছাঁচে উপস্থাপন করা হয়েছে কিংবা রাষ্ট্র যা প্রচার করতে চায়, সেটাকেই এগিয়ে নিয়ে গেছে।

সুচিত্রা বলেন, ভারতের জন্য যা ঝামেলপূর্ণ, সেটাকেই স্বাভাবিকীকরণ করছে বলিউড। দেশকে সবসময় ভালো ও ভদ্র হিসেবে তুলে ধরতেই উপায় খুঁজে বেড়ায় তারা।

প্রতিদিনের সামরিক শিল্প স্থাপনাকে স্বাভবিক ও জনপ্রিয় করে তুলছে বলিউড বলে অভিযোগ করেন এই নারী গবেষক।

চলতি বছরের শুরুতে বিরোধপূর্ণ কাশ্মীরে ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর ওপর হামলার পর প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ উসকে দিয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী ও ইউনিসেফের দূত প্রিয়াংকা চোপড়া।

অধিকৃত কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলের পর মুসলমান অধ্যুষিত রাজ্যটিতে যখন যোগাযোগ অচলাবস্থা আরোপ করে হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার, বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা অনুপম খের তখন টুইটার পোস্ট দিয়ে বলেন, কাশ্মীর সংকটের সমাধান শুরু হয়ে গেল।

‘প্রিয়াংকা চোপড়া যখন বলিউড থেকে হলিউডে পা রাখছিলেন, তখন টেলিভিশন শো কোয়ান্টিকোতে তিনি মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো এফবিআইয়ের একজন গোয়েন্দার চরিত্র বেছে নেন অভিনয়ের জন্য।’

‘সাম্রাজ্যের বাকপটু যৌন আবেদনময়ী কণ্ঠ হয়ে যান এই অভিনেত্রী। জাতীয় নিরাপত্তার নামে নিজ দেশের বাদামি বর্ণের লোকজনকে হত্যা করেন,’ বললেন সুচিত্র ভট্টাচার্য।

সেপ্টেম্বরে নেটফ্লিক্সে ‘বার্ড অব ব্লাড’ নামের একটি ধারাবাহিক মুক্তি দেন বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান। প্রতিবেশী পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের বিদ্রোহকে কেন্দ্র করে যেটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে অভিভূত করার মতো কাহিনী থাকলেও ক্ষমতাসীন মোদি সরকারের আনুষ্ঠানিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে এই প্রদেশটি।

কাশ্মীরের দখলদারিত্বের মোড় ভিন্ন দিকে নিয়ে যেতেই বেলুচ বিদ্রোহকে আলোচনায় নিয়ে আসতে চাচ্ছে বিজেপি সরকার।

বার্ড অব ব্লাডের একটি পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, এই ধারাবাহিকটিতে পাকিস্তানি ও আফগানদের চরিত্র সম্পূর্ণ নৈতিকতাবিবর্জিত হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ব্যভিচারী, শিশু যৌন নির্যাতনকারী ও ধর্মান্ধ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে তাদের, যারা কারো ওপর রেগে গেলেই তার শিরশ্ছেদ করে ফেলেন।

‌‘কাহিনীতে অধিকাংশ ভারতীয়র চরিত্র এমনভাবে সাজানো যে তারা এক একজন মর্যাদাবান নাগরিক, যারা সঠিক ও ভালো কাজটি করার চেষ্টা করছেন কেবল। ধারাবাহিকটির সরল গল্পে সব কালোদের দুর্বৃত্ত কিংবা ভিলেন ও সাদাদের নায়ক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।’

এতে বর্তমান সামাজিক কিংবা রাজনৈতিক পরিস্থিতির অগ্রনায়ক হিসেবে প্রদত্ত ইতিহাসই উপস্থাপন করছে। বলিউডের ভেতরে যদি কোনো ভিন্নমত থাকে, তবে তা প্রকাশ্যে দেখা যাবে না।

গত সেপ্টেম্বরে ভারতীয় মঞ্চ নাটকের ৪৯ শিল্পী, যাদের কেউ কেউ বলিউডের, মোদিকে লেখা এক খোলা চিঠিতে বিনাবিচারে নিরাপদ মানুষকে হত্যা বন্ধ করার আহ্বান জানান। কিন্তু চিঠির জবাবে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিডিএস আন্দোলনের অপূর্ব পিজি বলেন, বলিউড কেন্দ্রীক প্রচার ও সাংস্কৃতিক পরিসর সাধারণত আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দখলদারিত্ব ও বর্ণবাদ থেকে মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিতে শিল্পকে কাজে লাগাতে কেবল ইসরাইলের প্রতিষ্ঠিত হতাশাজনক নীতিরই প্রতিফলন ঘটাচ্ছে না, এদে বিডিএস আন্দোলনকে গুরুত্বের সঙ্গে প্রতিফলিত হয়েছে।

বলিউডকে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়ে অপূর্ব বলেন, আপনাদের প্রতিভা ও জনপ্রিয়তাকে ইসরাইলি হাতিয়ার বানাবেন না।

Watch this groovy song #Makhna shot in #Israel from the movie #Drive starring @Asli_Jacqueline & @itsSSR produced by @DharmaMovies @karanjohar & do watch the movie #Drive on #Netflix on 1st November https://t.co/7l1XUQLyQC@Yaakov_FINKLSTN @IsraelinIndia @IsraelMFA

— Israel in Mumbai (@israelinMumbai) October 3, 2019
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×