সিরিয়া ইস্যুতে ইসরাইলের চাপে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন!

  অনলাইন ডেস্ক ২২ অক্টোবর ২০১৯, ১২:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই অঞ্চলে কুর্দি গেরিলাদের বিরুদ্ধে তুরস্কের সামরিক অভিযান শুরুর আগ মুহূর্তে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন ট্রাম্প। ওই সময় নিজের সিদ্ধান্তকে কৌশলগত দিক দিয়ে বুদ্ধিদীপ্ত বলে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্পের দেয়া ওই সিদ্ধান্তে বিশ্ববাসী অবাক হয়েছিল। কিন্তু তার ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে না। কারণ, এ সিদ্ধান্তের কারণে দেশে তার নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তেমনই তার এ সিদ্ধান্তে ইসরাইল পুরোপুরি নাখোশ। তাই ইসরাইলের স্বার্থে এবার ট্রাম্পের সেই নির্দেশনা আংশিক পরিবর্তন হচ্ছে। মার্কিন মিত্র ইসরায়েলের অনুরোধে দক্ষিণ সিরিয়াতেও সীমিত সংখ্যক মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় থাকবে।

ট্রাম্প বলেন, তেলের সুরক্ষার বাইরে সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতির আর কোনও প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। আমাদের তেল সুরক্ষিত রাখা দরকার। ইসরায়েল ও জর্ডানের অনুরোধে দক্ষিণ সিরিয়াতেও সীমিত সংখ্যক মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় থাকবে।

ট্রাম্প বলেন, জর্ডানের দক্ষিণ সীমান্তে একটি গ্যারিসন স্থাপন এবং দেশের অন্য কোথাও তেলের সুরক্ষা নিশ্চিতে সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বল্প মাত্রার সামরিক উপস্থিতি বজায় থাকবে। সীমিত সংখ্যক সেনাসদস্য দেশটিতে অবস্থান করবেন।

তিনি বলেন, তেলের সুরক্ষার বাইরে সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতির আর কোনও প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। আমাদের তেল সুরক্ষিত রাখা দরকার। ইসরায়েল ও জর্ডানের অনুরোধে দক্ষিণ সিরিয়াতেও সীমিত সংখ্যক মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় থাকবে।

এর আগে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে; এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার। তিনি বলেন, তেলের খনিগুলোর নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে কিছু সেনা উত্তর সিরিয়ায় রেখে দেওয়া হতে পারে। সেখানে কুর্দি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা তেল ক্ষেত্রগুলো যাতে আইএস বা অন্য কোনও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দখলে চলে না যায় সেজন্য তদারকির জন্য ওই অঞ্চলে ২০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রাখা হবে।

মার্কিন সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা মিচ ম্যাককোনেল বলেছেন, সিরিয়া থেকে আমেরিকার সেনা প্রত্যাহারের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা ওয়াশিংটনের মিত্র ইসরাইল এবং জর্দানের জন্য বড় ধরনের বিপদের কারণ।

সিরিয়া থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার হলে বিপদে পড়বে ইসরাইল

মার্কিন সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা ম্যাককোনেল বলেছেন, সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং কুর্দিদের বিরুদ্ধে তুরস্কের সামরিক অভিযান -এই দুইয়ের সমন্বয়ে ফলাফলে আমাদের মিত্ররা মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত মারাত্মক সমস্যার মধ্যে পড়েছে।

শুক্রবার ওয়াশিংটন পোস্টের মতামত কলামে লেখা এক নিবন্ধে ম্যাককানেল বলেছেন, সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারর সিদ্ধান্ত কৌশলগত বিরাট ভুল। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত আমেরিকার জনগণ এবং মাতৃভূমিকে অনিরাপদ করে তুলবে, শত্রুরা শক্তিশালী হবে এবং আমাদের গুরুত্বপূর্ণ মিত্ররা দুর্বল হবে।”

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের নেপথ্যে এরদোগানের সেই ফোনালাপ

গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প আর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের মধ্যে ফোনালাপ হয়। এরদোগান ট্রাম্পকে সিরিয়া থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য তাগাদা দিচ্ছিলেন। জবাবে ট্রাম্প এরদোগানকে জিজ্ঞেস করেন, আমরা যদি সৈন্য প্রত্যাহার করি আপনি কি আইএসআইএসকে নির্মূল করতে পারবেন?

উত্তরে এরদোগান বলেন যে তুরস্কের সামরিক শক্তিই আইএসআইএসকে নির্মূলে যথেষ্ট। তারপর ট্রাম্প হুট করেই ঘোষণা দিলেন তিনি সিরিয়া থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। সংবাদটি যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে যেমন কিছু দেশ সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছে অন্যদিকে এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছে অনেক দেশ ।

এই সিদ্ধান্তে রাশিয়া, ইরান এবং তুরস্ক খুব বেশি খুশি হয়েছে। অন্যদিকে ইসরাইল, ফ্রান্স আর উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত কুর্দি বাহিনী ও ওয়াইপিজি এ সিদ্ধান্তে হতভম্ব হয়েছে।

রাশিয়া এবং ইরান সিরীয়া যুদ্ধের শুরু থেকেই প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে নিরঙ্কুশ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। আর তুরস্ক ঘোর আসাদ বিরোধী।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি হতাশ হয়েছে ওয়াইপিজি বা কুর্দি গেরিলা গ্রুপ যাদেরকে তুরস্ক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে। আমেরিকান সেনাবাহিনী ওয়াইপিজিকে আইএসআইএস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রক্সি হিসেবে ব্যবহার করতো। আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন ওয়াইপিজিকে সামরিক প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে ট্যাঙ্ক ধ্বংসের যন্ত্র পর্যন্ত প্রচুর ভারি অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×