কায়রোর এলোমেলো কানাগলিতে আজও বেঁচে আছেন নাগিব মাহফুজ
jugantor
কায়রোর এলোমেলো কানাগলিতে আজও বেঁচে আছেন নাগিব মাহফুজ

  যুগান্তর ডেস্ক  

৩০ নভেম্বর ২০১৯, ১৩:৩২:৩৯  |  অনলাইন সংস্করণ

কায়রোর এলোমেলো কানাগলিতে আজও বেঁচে আছেন নাগিব মাহফুজ
কায়রোর শহরতলীর আল-আজহার মসজিদের পেছনে মিসরীয় ঔপন্যাসিক ও নোবেলজয়ী সাহিত্যিক নাগিব মাহফুজের ম্যুরাল। ছবি: এএফপি

প্রাচীন ইসলামিক কায়রোর আঁকাবাঁকা-এলোমেলো গলি। শহরটির সবচেয়ে বিখ্যাত সন্তান নাগিব মাহফুজের স্মৃতিগুলো কয়েক দশকের বেশি সময় ধরে এসবের মধ্যেই টিকে আছে। পুরো আরব বিশ্বে সাহিত্যে একমাত্র নোবেলজয়ী তিনি। 

দেয়ালের ম্যুরালে চশমায় সজ্জিত বিখ্যাত এই লেখক একটি বাজারের দিকে তাকিয়ে আছেন। যেখানে বাইকে শিশু-কিশোররা ঘোরাফেরা করছেন। কফির ট্রে নিয়ে রেস্তোরাঁর পরিচারকরা খরিদ্দারদের কাছে যাচ্ছেন। গোশতের দর নিয়ে হকারদের সঙ্গে দর-কষাকষি করছেন দোকানিরা।

উপন্যাসে মিসরীয় রাজধানীর দৈনন্দিন এই তুচ্ছ ঘটনাবলীকেই নিখুঁত বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন নাগিব। রাজনৈতিক বিতণ্ডাগুলোকে পরিহাস ও ব্যাঙ্গাত্মক ছলে উপস্থাপন করে চরিত্রগুলোকে কালজয়ী রূপ দিয়েছেন তিনি।

কয়েক বছরের চেষ্টায় এই লেখকের সম্মানে একটি যাদুঘর নির্মাণ হয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে যেটি উদ্বোধন করা হয়েছে।

তার অপ্রকাশিত একটি কাজের অনুবাদ এখনও ছাপাখানায় রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক ও মিসরীয় সাহিত্যে তিনি যে দাগ রেখে গেছেন, মৃত্যুর ত্রয়োদশ বছরেও সেটি আরও জোরদার হয়েছে। 

নভেম্বরে আহমেদ মুরাদ নামের এক তরুণ লেখক নাগিবকে নিয়ে তির্যক মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আরও বেশি সমকালীন হওয়ার জন্য নাগিবের লেখার বৈশিষ্ট্যকে খাপ খাওয়াতে হবে।

শহরের সবচেয়ে খ্যাতিমান ব্যক্তিকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য ছুড়ে বিপাকে পড়ে যান মুরাদ। পরবর্তী সময়ে নিজের বক্তব্য পরিষ্কার করতে তাকে টেলিভিশন টকশোতে হাজির হতে হয়েছে।

আধুনিক আরবি সাহিত্যের জনক হিসেবে বিবেচনা করা হয় নাগিবকে। নিষিদ্ধ বিষয়াবলী ছাড়াও ধর্মীয় সীমাগুলোকে ধাক্কা দিয়ে সাহিত্যকে তিনি বড় পরিসরে নিয়ে গেছেন।

এসবের জন্যই প্রায়ই হত্যাকাণ্ডের শিকারে পরিণত হতে যাচ্ছিলেন তিনি। গুপ্তহত্যার চেষ্টার অংশ হিসেবে ১৯৯৪ সালে তাকে ছুরিকাঘাত করেন এক আততায়ী।

ছবি: এএফপি
 
মিসরীয়-আমেরিকান ইমাম ওমর আবদেল রহমানের ইস্যু করা ফতোয়া বাস্তবায়নে এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে ধারনা করা হচ্ছে। ধর্ম অবমাননামূলক গদ্য লেখার অভিযোগে এই ফতোয়া দেয়া হয়েছিল।

নাগিবের মেয়ে উম্মে কুলসুম বলেন, কায়রোয় তিনি এলোমেলো শক্তির জালে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তার কাজের মূল চরিত্র ছিল এই শহরটিই।

নীল নদ ঘেষা খাড়া পাহাড়ের গোড়ায় এসে থামা সড়কে নিয়মিত হাঁটতেন নাগিব। ২০১১ সালের বিপ্লবের মূলকেন্দ্র তাহরির স্কয়ারের কাছের প্রিয় ক্যাফে ও সাংস্কৃতিক সেলুনগুলোতেও তার ব্যাপক যাতায়াত ছিল।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে উম্মে কুলসুম বলেন, শহরটির প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা দিয়ে তিনি নিয়ে লিখেছেন। তারা সমালোচনাগুলোও ছিল ভালোবাসায় পরিপূর্ণ।

বাবার পক্ষ থেকে ১৯৮৮ সালে তিনি ও তার বোন নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। চোখের দৃষ্টির অবনতির জন্য নাগিব তখন ভ্রমণে অপারগ ছিলেন।

কুলসুম বলেন, আমার মনে আছে যে প্রায়ই আমরা আল-হুসাইন এলাকায় যেতাম। ইসলামিক কায়রোর মূলকেন্দ্র আল-হুসাইন মসজিদের অবস্থান। আর এই এলাকাটি ঘিরেই ছিল নাগিবের কল্পনার আসর। আমরা একটি ক্যাফেতে বসতাম। সেটি এখন নাগিব মাহফুজ ক্যাফে নামে পরিচিত।

‘তিনি আমাদের মাদিক গলিটি দেখান। একটি ছোট্ট কক্ষের আকারে হবে এটি। নিজের স্কুলজীবনের দুরন্ত গল্পগুলো আমাদের শোনাতেন বাবা,’ বললেন উম্মে কুলসুম।

নাগিবের বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি পঠিত একটি বই মাদিক গলি। এটির কাহিনী অবলম্বনে ১৯৯৫ সালে একটি সিনেমা বানানো হয়েছে। যাতে অভিনয় করেছেন হলিউড অভিনেত্রী সালমা হায়েক।

যাদুঘরের স্থানটি তার নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। ১৭৭৪ সালের ইসলামিক কায়রোর অপরূপ সৌন্দর্যঘেরা উসমানীয় গেস্টহাউসও সেখানে অবস্থিত। তিনি তার জীবনের শুরুর সময়টা সেখানেই কাটিয়েছেন।

দশম শতকের দেয়ালঘেরা আল-জামালিয়া পাড়াটি ঘিরে উদীয়মান এই লেখকের তখন বেশ কৌতুহল ছিল। সেখানকার বিভিন্ন গোপন আশ্রয় ও ডেরা নিয়ে তার আগ্রহের শেষ ছিল না।

উম্মে কুলসুম বলেন, তার বাবা এখানে বেড়ে উঠেছেন। কাজেই এসব স্মৃতি তার বাবার কল্পনায় অমোচনীয় দাগ ফেলেছে।

নাগিবের দামি জিনিসপত্রের মধ্যে একটি মেহগনি কাঠের টেবিল, অনার্স পাশ ও নোবেল জয়ের সনদপত্র রয়েছে। তিনটি ফ্লোরের যাদুঘরটিতে এসবের সঙ্গে তার সিগারেটের শেষ প্যাকেটটিও প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও নাগিবের বিস্তৃত কাজের অনুবাদক রজার অ্যালেন বলেন, মিসরীয় উপন্যাসের বিকাশের স্মারক হয়ে থাকবেন এই লেখক।

তার লেখায় প্রাচীন মিসর, সুফীবাদ ও রাজনীতিকে তন্নতন্ন করে খোঁজা হয়েছে বলে জানালেন অ্যালেন।

তিনি বলেন, তার জীবনের বিভিন্ন ঘটনাবলীতে আপনি নজর বুলাতে পারেন। পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে নানা গতিপথে তিনি কাজ করেছেন। 

‌‌‘দ্য কোয়ার্টার’ শিরোনামে নাগিবের লেখার বিশাল একটি সংগ্রহ আরবি থেকে ইংরেজিতে তরজমা করেছেন অ্যালেন। 

এতে কায়রোর আবাসিক এলাকা দেখতে কেমন– তার প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে। বিশেষ করে তাকে উৎসর্গকৃত জাদুঘরটি এখন যেখানে অবস্থিত, সেই এলাকার জীবন যাপনের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি।

অ্যালেনের ভাষায়, মানবিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতীকী অস্তিত্ব হচ্ছে এটি। তিনি বৈশ্বিক অনুষঙ্গ নিয়ে কাজ করেছেন– কীভাবে একটি সমাজ গঠিত হয়েছে– কীভাবে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাতে ব্যাঘাত ঘটানো সম্ভব।

বিভিন্ন পত্রিকার স্তূপ থেকে তার নতুন লেখা সংগ্রহ করা হয়েছে। নাগিবের মৃত্যুর বেশ কয়েক বছর পর তার মেয়ে এসব লেখার সন্ধান পান। সাংস্কৃতিক সাময়িকী আখবার আল-আদাবের সম্পাদক মোহাম্মদ শোহাইর আরবি ভাষায় এসব লেখা প্রকাশ করেছিলেন।

এএফপিকে তিনি বলেন, নোবেলজয়ের বেশ কয়েক বছর আগে নিজের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন নাগিব মাহফুজ। কাজেই বাস্তবতার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল প্রবল। লেখালেখি ছিল তার জন্য এক ধরনের আচ্ছন্নতা।

উম্ম কুলসুমের সহায়তায় বহুখণ্ডে বিভক্ত তার আত্মজীবনী একজায়গায় করেন শোহাইর।

আরবি উপন্যাসে বিপ্লব ঘটাতে নাগিবের অগ্রগণ্য ভূমিকা নিয়ে তিনি কথা বলেন। এখন আরবি ভাষার বহু লেখক তার পদরেখা ধরে এগোচ্ছেন বলেও জানান এ সাংবাদিক।

মিসরীয় লেখক আল আল-আশওয়ানি, ইরাকের আহমেদ সাদাবি ও আলজেরিয়ার আলহাম মুস্তাগনামি বিশ্বব্যাপী নিজেদের পাঠক তৈরিতে সক্ষম হয়েছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছেন তারা।

নাগিব মাহফুজ সম্পর্কে শোহাইর বলেন, তার লেখালেখির মূল চিন্তাটা তৈরি হয়েছে আশির দশক থেকে– তার শৈশব থেকে ফিরে আসার পর। যা ছিল শহরের বিভিন্ন কানা গলিকে ঘিরে।

‌‘তিনি তার ব্যক্তিগত জীবনের বিবরণ এমনভাবে দিয়েছেন যেন তিনি অতীতের স্মৃতি রোমন্থন করছেন।’

কায়রোর এলোমেলো কানাগলিতে আজও বেঁচে আছেন নাগিব মাহফুজ

 যুগান্তর ডেস্ক 
৩০ নভেম্বর ২০১৯, ০১:৩২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
কায়রোর এলোমেলো কানাগলিতে আজও বেঁচে আছেন নাগিব মাহফুজ
কায়রোর শহরতলীর আল-আজহার মসজিদের পেছনে মিসরীয় ঔপন্যাসিক ও নোবেলজয়ী সাহিত্যিক নাগিব মাহফুজের ম্যুরাল। ছবি: এএফপি

প্রাচীন ইসলামিক কায়রোর আঁকাবাঁকা-এলোমেলো গলি। শহরটির সবচেয়ে বিখ্যাত সন্তান নাগিব মাহফুজের স্মৃতিগুলো কয়েক দশকের বেশি সময় ধরে এসবের মধ্যেই টিকে আছে। পুরো আরব বিশ্বে সাহিত্যে একমাত্র নোবেলজয়ী তিনি।

দেয়ালের ম্যুরালে চশমায় সজ্জিত বিখ্যাত এই লেখক একটি বাজারের দিকে তাকিয়ে আছেন। যেখানে বাইকে শিশু-কিশোররা ঘোরাফেরা করছেন। কফির ট্রে নিয়ে রেস্তোরাঁর পরিচারকরা খরিদ্দারদের কাছে যাচ্ছেন। গোশতের দর নিয়ে হকারদের সঙ্গে দর-কষাকষি করছেন দোকানিরা।

উপন্যাসে মিসরীয় রাজধানীর দৈনন্দিন এই তুচ্ছ ঘটনাবলীকেই নিখুঁত বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন নাগিব। রাজনৈতিক বিতণ্ডাগুলোকে পরিহাস ও ব্যাঙ্গাত্মক ছলে উপস্থাপন করে চরিত্রগুলোকে কালজয়ী রূপ দিয়েছেন তিনি।

কয়েক বছরের চেষ্টায় এই লেখকের সম্মানে একটি যাদুঘর নির্মাণ হয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে যেটি উদ্বোধন করা হয়েছে।

তার অপ্রকাশিত একটি কাজের অনুবাদ এখনও ছাপাখানায় রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক ও মিসরীয় সাহিত্যে তিনি যে দাগ রেখে গেছেন, মৃত্যুর ত্রয়োদশ বছরেও সেটি আরও জোরদার হয়েছে।

নভেম্বরে আহমেদ মুরাদ নামের এক তরুণ লেখক নাগিবকে নিয়ে তির্যক মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আরও বেশি সমকালীন হওয়ার জন্য নাগিবের লেখার বৈশিষ্ট্যকে খাপ খাওয়াতে হবে।

শহরের সবচেয়ে খ্যাতিমান ব্যক্তিকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য ছুড়ে বিপাকে পড়ে যান মুরাদ। পরবর্তী সময়ে নিজের বক্তব্য পরিষ্কার করতে তাকে টেলিভিশন টকশোতে হাজির হতে হয়েছে।

আধুনিক আরবি সাহিত্যের জনক হিসেবে বিবেচনা করা হয় নাগিবকে। নিষিদ্ধ বিষয়াবলী ছাড়াও ধর্মীয় সীমাগুলোকে ধাক্কা দিয়ে সাহিত্যকে তিনি বড় পরিসরে নিয়ে গেছেন।

এসবের জন্যই প্রায়ই হত্যাকাণ্ডের শিকারে পরিণত হতে যাচ্ছিলেন তিনি। গুপ্তহত্যার চেষ্টার অংশ হিসেবে ১৯৯৪ সালে তাকে ছুরিকাঘাত করেন এক আততায়ী।

ছবি: এএফপি

মিসরীয়-আমেরিকান ইমাম ওমর আবদেল রহমানের ইস্যু করা ফতোয়া বাস্তবায়নে এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে ধারনা করা হচ্ছে। ধর্ম অবমাননামূলক গদ্য লেখার অভিযোগে এই ফতোয়া দেয়া হয়েছিল।

নাগিবের মেয়ে উম্মে কুলসুম বলেন, কায়রোয় তিনি এলোমেলো শক্তির জালে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তার কাজের মূল চরিত্র ছিল এই শহরটিই।

নীল নদ ঘেষা খাড়া পাহাড়ের গোড়ায় এসে থামা সড়কে নিয়মিত হাঁটতেন নাগিব। ২০১১ সালের বিপ্লবের মূলকেন্দ্র তাহরির স্কয়ারের কাছের প্রিয় ক্যাফে ও সাংস্কৃতিক সেলুনগুলোতেও তার ব্যাপক যাতায়াত ছিল।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে উম্মে কুলসুম বলেন, শহরটির প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা দিয়ে তিনি নিয়ে লিখেছেন। তারা সমালোচনাগুলোও ছিল ভালোবাসায় পরিপূর্ণ।

বাবার পক্ষ থেকে ১৯৮৮ সালে তিনি ও তার বোন নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। চোখের দৃষ্টির অবনতির জন্য নাগিব তখন ভ্রমণে অপারগ ছিলেন।

কুলসুম বলেন, আমার মনে আছে যে প্রায়ই আমরা আল-হুসাইন এলাকায় যেতাম। ইসলামিক কায়রোর মূলকেন্দ্র আল-হুসাইন মসজিদের অবস্থান। আর এই এলাকাটি ঘিরেই ছিল নাগিবের কল্পনার আসর। আমরা একটি ক্যাফেতে বসতাম। সেটি এখন নাগিব মাহফুজ ক্যাফে নামে পরিচিত।

‘তিনি আমাদের মাদিক গলিটি দেখান। একটি ছোট্ট কক্ষের আকারে হবে এটি। নিজের স্কুলজীবনের দুরন্ত গল্পগুলো আমাদের শোনাতেন বাবা,’ বললেন উম্মে কুলসুম।

নাগিবের বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি পঠিত একটি বই মাদিক গলি। এটির কাহিনী অবলম্বনে ১৯৯৫ সালে একটি সিনেমা বানানো হয়েছে। যাতে অভিনয় করেছেন হলিউড অভিনেত্রী সালমা হায়েক।

যাদুঘরের স্থানটি তার নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। ১৭৭৪ সালের ইসলামিক কায়রোর অপরূপ সৌন্দর্যঘেরা উসমানীয় গেস্টহাউসও সেখানে অবস্থিত। তিনি তার জীবনের শুরুর সময়টা সেখানেই কাটিয়েছেন।

দশম শতকের দেয়ালঘেরা আল-জামালিয়া পাড়াটি ঘিরে উদীয়মান এই লেখকের তখন বেশ কৌতুহল ছিল। সেখানকার বিভিন্ন গোপন আশ্রয় ও ডেরা নিয়ে তার আগ্রহের শেষ ছিল না।

উম্মে কুলসুম বলেন, তার বাবা এখানে বেড়ে উঠেছেন। কাজেই এসব স্মৃতি তার বাবার কল্পনায় অমোচনীয় দাগ ফেলেছে।

নাগিবের দামি জিনিসপত্রের মধ্যে একটি মেহগনি কাঠের টেবিল, অনার্স পাশ ও নোবেল জয়ের সনদপত্র রয়েছে। তিনটি ফ্লোরের যাদুঘরটিতে এসবের সঙ্গে তার সিগারেটের শেষ প্যাকেটটিও প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও নাগিবের বিস্তৃত কাজের অনুবাদক রজার অ্যালেন বলেন, মিসরীয় উপন্যাসের বিকাশের স্মারক হয়ে থাকবেন এই লেখক।

তার লেখায় প্রাচীন মিসর, সুফীবাদ ও রাজনীতিকে তন্নতন্ন করে খোঁজা হয়েছে বলে জানালেন অ্যালেন।

তিনি বলেন, তার জীবনের বিভিন্ন ঘটনাবলীতে আপনি নজর বুলাতে পারেন। পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে নানা গতিপথে তিনি কাজ করেছেন।

‌‌‘দ্য কোয়ার্টার’ শিরোনামে নাগিবের লেখার বিশাল একটি সংগ্রহ আরবি থেকে ইংরেজিতে তরজমা করেছেন অ্যালেন।

এতে কায়রোর আবাসিক এলাকা দেখতে কেমন– তার প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে। বিশেষ করে তাকে উৎসর্গকৃত জাদুঘরটি এখন যেখানে অবস্থিত, সেই এলাকার জীবন যাপনের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি।

অ্যালেনের ভাষায়, মানবিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতীকী অস্তিত্ব হচ্ছে এটি। তিনি বৈশ্বিক অনুষঙ্গ নিয়ে কাজ করেছেন– কীভাবে একটি সমাজ গঠিত হয়েছে– কীভাবে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাতে ব্যাঘাত ঘটানো সম্ভব।

বিভিন্ন পত্রিকার স্তূপ থেকে তার নতুন লেখা সংগ্রহ করা হয়েছে। নাগিবের মৃত্যুর বেশ কয়েক বছর পর তার মেয়ে এসব লেখার সন্ধান পান। সাংস্কৃতিক সাময়িকী আখবার আল-আদাবের সম্পাদক মোহাম্মদ শোহাইর আরবি ভাষায় এসব লেখা প্রকাশ করেছিলেন।

এএফপিকে তিনি বলেন, নোবেলজয়ের বেশ কয়েক বছর আগে নিজের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন নাগিব মাহফুজ। কাজেই বাস্তবতার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল প্রবল। লেখালেখি ছিল তার জন্য এক ধরনের আচ্ছন্নতা।

উম্ম কুলসুমের সহায়তায় বহুখণ্ডে বিভক্ত তার আত্মজীবনী একজায়গায় করেন শোহাইর।

আরবি উপন্যাসে বিপ্লব ঘটাতে নাগিবের অগ্রগণ্য ভূমিকা নিয়ে তিনি কথা বলেন। এখন আরবি ভাষার বহু লেখক তার পদরেখা ধরে এগোচ্ছেন বলেও জানান এ সাংবাদিক।

মিসরীয় লেখক আল আল-আশওয়ানি, ইরাকের আহমেদ সাদাবি ও আলজেরিয়ার আলহাম মুস্তাগনামি বিশ্বব্যাপী নিজেদের পাঠক তৈরিতে সক্ষম হয়েছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছেন তারা।

নাগিব মাহফুজ সম্পর্কে শোহাইর বলেন, তার লেখালেখির মূল চিন্তাটা তৈরি হয়েছে আশির দশক থেকে– তার শৈশব থেকে ফিরে আসার পর। যা ছিল শহরের বিভিন্ন কানা গলিকে ঘিরে।

‌‘তিনি তার ব্যক্তিগত জীবনের বিবরণ এমনভাবে দিয়েছেন যেন তিনি অতীতের স্মৃতি রোমন্থন করছেন।’