ক্ষমতা ধরে রাখতে সংবিধানে আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব পুতিনের
jugantor
ক্ষমতা ধরে রাখতে সংবিধানে আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব পুতিনের

  যুগান্তর ডেস্ক  

১৬ জানুয়ারি ২০২০, ১০:৪০:৩৬  |  অনলাইন সংস্করণ

ক্ষমতা ধরে রাখতে সংবিধানে আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব পুতিনের

ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সংবিধানের আমূল পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আর তা বাস্তবায়ন করতে দেশজুড়ে ভোটের আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

রুশ গণমাধ্যম জানায়, বুধবার পুতিন এ প্রস্তাব দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই আকস্মিকভাবে রাশিয়ার সরকার পদত্যাগ করেছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বার্ষিক স্টেট অব দ্য নেশনের বক্তৃতা দেয়ার কিছুক্ষণ পরেই এ ঘোষণা এসেছে।

পদত্যাগের ঘোষণায় মেদভেদেভ বলেন, তিনি এবং তার সরকার পদত্যাগ করেছেন। সরকারের কার্যক্রমে তিনি সন্তুষ্ট।

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্টের এ পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে রাশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের বদল ঘটে যাবে। এতে যে কেবল সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদেই বদলে যাবে তাই নয়; বরং নির্বাহী ক্ষমতা, আইনসভার ক্ষমতাসহ বিচার বিভাগীয় ক্ষমতার ভারসাম্যেও আমূল পরিবর্তন ঘটবে। আর এর প্রেক্ষাপটেই বর্তমান সরকার পদত্যাগ করেছে।

পদত্যাগ গ্রহণ করে নতুন সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত মন্ত্রীদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন। –খবর তাস, আরটি ও রয়টার্স।

প্রস্তাবিত সাংবিধানিক পরিবর্তনের ক্ষমতা প্রেসিডেন্সি থেকে পার্লামেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর হাতে চলে যাবে। ফলে ক্রেমলিন ছাড়ার পর নিজের শাসনের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ পাবেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট পুতিনের দীর্ঘ দিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলা হয় মেদভেদেভকে। ২০১২ সাল থেকে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এ ছাড়া ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি।

মেদভেদেভকে তার দায়িত্ব পালনের জন্য প্রেসিডেন্ট পুতিন ধন্যবাদ জানালেও তার মন্ত্রিসভা অভীষ্ট লক্ষ্যে পুরোপুরি পৌঁছাতে পারেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে প্রেসিডেন্টশিয়াল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ডেপুটি হিসেবে তাকে দায়িত্ব দিতে পারেন পুতিন।

১৯৯৯ সাল থেকে কখনও প্রধানমন্ত্রী কখনও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন পুতিন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুতিনের বর্তমান ক্ষমতার মেয়াদ আগামী ২০২৪ সালে শেষ হবে।

মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি কী করবেন, সেই সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশ করেননি। কিন্তু বর্তমান সংবিধানের অধীন কেউ প্রেসিডেন্ট হিসেবে পর পর দুই মেয়াদের পর আর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে দেশের রাজনৈতিক অভিজাতদের পুতিন বলেন, সংবিধানে পরিবর্তন আনার পক্ষে তিনি। রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এটি অবশ্যই একটি বড় পরিবর্তন।

পার্লামেন্ট ও সুশীল সমাজের এই পরিবর্তনে সায় আছে মন্তব্য করে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, এতে পার্লামেন্ট, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা ও গুরুত্ব বাড়বে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বশীলতা ও স্বাধীনতা নতুন মাত্রা পাবে।

ক্ষমতা ধরে রাখতে সংবিধানে আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব পুতিনের

 যুগান্তর ডেস্ক 
১৬ জানুয়ারি ২০২০, ১০:৪০ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ক্ষমতা ধরে রাখতে সংবিধানে আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব পুতিনের
ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সংবিধানের আমূল পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আর তা বাস্তবায়ন করতে দেশজুড়ে ভোটের আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

রুশ গণমাধ্যম জানায়, বুধবার পুতিন এ প্রস্তাব দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই আকস্মিকভাবে রাশিয়ার সরকার পদত্যাগ করেছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বার্ষিক স্টেট অব দ্য নেশনের বক্তৃতা দেয়ার কিছুক্ষণ পরেই এ ঘোষণা এসেছে।

পদত্যাগের ঘোষণায় মেদভেদেভ বলেন, তিনি এবং তার সরকার পদত্যাগ করেছেন। সরকারের কার্যক্রমে তিনি সন্তুষ্ট।

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্টের এ পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে রাশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের বদল ঘটে যাবে। এতে যে কেবল সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদেই বদলে যাবে তাই নয়; বরং নির্বাহী ক্ষমতা, আইনসভার ক্ষমতাসহ বিচার বিভাগীয় ক্ষমতার ভারসাম্যেও আমূল পরিবর্তন ঘটবে। আর এর প্রেক্ষাপটেই বর্তমান সরকার পদত্যাগ করেছে।

পদত্যাগ গ্রহণ করে নতুন সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত মন্ত্রীদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন। –খবর তাস, আরটি ও রয়টার্স।

প্রস্তাবিত সাংবিধানিক পরিবর্তনের ক্ষমতা প্রেসিডেন্সি থেকে পার্লামেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর হাতে চলে যাবে। ফলে ক্রেমলিন ছাড়ার পর নিজের শাসনের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ পাবেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট পুতিনের দীর্ঘ দিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলা হয় মেদভেদেভকে। ২০১২ সাল থেকে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এ ছাড়া ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি।

মেদভেদেভকে তার দায়িত্ব পালনের জন্য প্রেসিডেন্ট পুতিন ধন্যবাদ জানালেও তার মন্ত্রিসভা অভীষ্ট লক্ষ্যে পুরোপুরি পৌঁছাতে পারেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে প্রেসিডেন্টশিয়াল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ডেপুটি হিসেবে তাকে দায়িত্ব দিতে পারেন পুতিন।

১৯৯৯ সাল থেকে কখনও প্রধানমন্ত্রী কখনও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন পুতিন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুতিনের বর্তমান ক্ষমতার মেয়াদ আগামী ২০২৪ সালে শেষ হবে।

মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি কী করবেন, সেই সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশ করেননি। কিন্তু বর্তমান সংবিধানের অধীন কেউ প্রেসিডেন্ট হিসেবে পর পর দুই মেয়াদের পর আর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে দেশের রাজনৈতিক অভিজাতদের পুতিন বলেন, সংবিধানে পরিবর্তন আনার পক্ষে তিনি। রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এটি অবশ্যই একটি বড় পরিবর্তন।

পার্লামেন্ট ও সুশীল সমাজের এই পরিবর্তনে সায় আছে মন্তব্য করে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, এতে পার্লামেন্ট, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা ও গুরুত্ব বাড়বে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বশীলতা ও স্বাধীনতা নতুন মাত্রা পাবে।