ফিলিস্তিনে যেভাবে ঘটল ইহুদি বসতি

  যুগান্তর ডেস্ক ৩০ জানুয়ারি ২০২০, ১২:৪২:১০ | অনলাইন সংস্করণ

ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের জন্য নতুন পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তবে সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হলো– পশ্চিমতীরে ইসরাইলি বসতিকে অনুমোদন দেয়া। অন্য বেশিরভাগ দেশ মনে করে এসব বসতি অবৈধ। খবর বিবিসির।

আগে থেকেই ফিলিস্তিনে কিছুসংখ্যক আবর ইহুদির বসবাস ছিল। পরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইহুদিরা এসে ফিলিস্তিনে বসতি গড়তে শুরু করেন।

ইসরাইল মনে করে, ইহুদিদের প্রাচীন ভূমি হওয়ার কারণে সেখানে তাদেরই বসবাস করার অধিকার রয়েছে।

১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের সময় দখল করা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে শুরু করে ইহুদি বসতি।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও ২০১৮ সালের আগে এসব বসতিকে অবৈধ বললেও এখন সে অবস্থান পরিবর্তন করেছে তারা।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ঘোষণা করেছেন– পশ্চিমতীরের ইহুদি বসতিকে তারা আর অবৈধ বিবেচনা করবে না।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব ভূখণ্ড ফিলিস্তিনের অংশ। তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন– যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তন হলো 'ঐতিহাসিক ভুল সংশোধন'।

ফিলিস্তিন বিরোধিতা করলে এদের সংখ্যা বাড়ছে কেন? জাতিসংঘে বেশিরভাগ দেশ বলছে, এসব বসতি হয়েছে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে। এমনকি সরকারিভাবে যুক্তরাষ্ট্রও এর সঙ্গে একমত।

কিন্তু ২০১৯ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প ঘোষণা দেন– ইসরাইলি বসতিকে তিনি আর আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন মনে করেন না।

ট্রাম্পের ওই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন ফিলিস্তিনিরা। কিন্তু অবৈধ হোক আর না হোক, বসতি আছে ও বাড়ছে।

ফিলিস্তিনিরা পশ্চিমতীরকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের অংশ মনে করেন। কিন্তু ইসরাইল যুদ্ধের পর থেকেই সেখানে বসতি বাড়াচ্ছে।

সত্তর, আশি ও নব্বইয়ের দশকে বহু বসতি স্থাপন করেছে ইসরাইল। গত ২০ বছরে তাদের জনসংখ্যাও দ্বিগুণ হয়েছে। সেখানে পানি ও বিদ্যুৎ সেবা দিচ্ছে ইসরাইল। তাদের সুরক্ষা দেন ইসরাইলি সেনারা।

২০০৪ সালে গিভাট জাইভ বসতিতে ১০ হাজারের মতো মানুষ ছিল, আর এখন আছে সতের হাজার। এখন পশ্চিম দিকে আরও বাড়ছে।

বাড়ছে নতুন বাড়ি, উপাসনালয় ও শপিং সেন্টার। বসতিগুলো নানা আকারের। কিছু আছে যেখানে কয়েকশ মানুষ বাস করেন।

সবচেয়ে বড়গুলোর একটিতে ৭৩ হাজার ৮০ জন বাস করেন। গত ১৫ বছরে তাদের সংখ্যা তিনগুণ হয়েছে।

ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী চার বছর আর কোনো বসতি হওয়া উচিত নয়।

তবে নতুন স্থাপনা না হলেও সেটেলারদের সংখ্যা বাড়বেই উচ্চ জন্ম হারের কারণে। গড়ে ইসরাইলি নারীদের এখন সাতটির বেশি সন্তান।

এমনিতেই ইসরাইলে জন্ম হার ৩.১। আর দখলকৃত এলাকার বসতিগুলোতে সেটি আরও বেশি। অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে জন্ম হার কম। এর প্রভাব পড়বে মোট জনসংখ্যাতেও।

সেখানে বসতি করা হচ্ছে, সেটিকে ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের অংশ মনে করেন। তারা মনে করেন, বসতিগুলো সরাতে হবে তাদের রাষ্ট্রের জন্য।

জাতিসংঘ রেজুলেশন লঙ্ঘন করেই এসব বসতি করেছে ইসরাইল। কিছু লোক এসব বসতিতে গেছেন অধিকতর সরকারি সুবিধা পাওয়ার আশায়।

কারণ সেখানে ঘরবাড়ি বানানোর খরচ খুব কম। নানা সুবিধার কারণে সেখানকার জীবনমান উন্নত।

আর কিছু মানুষ গেছেন কঠোর ধর্ম বিশ্বাসের কারণে। তারা মনে করেন ঈশ্বর এ জায়গা তাদের জন্য দিয়েছে।

তবে এক-তৃতীয়াংশই সেখানকার অতিমাত্রায় রক্ষণশীল। তাদের সংসার বড় ও কিছুটা দরিদ্র।

এ ভূমিকে ভাগ করে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সমর্থক ক্রমশ কমছে। ২০০৬ সালে ফিলিস্তিনদের ৭১ শতাংশ আর ইসরাইলিদের ৬৮ শতাংশের সমর্থক ছিল।

২০১৮ সালে এ সংখ্যা যথাক্রমে ৪৪ ও ৫৫। অন্যদিকে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনদের এক করার পক্ষে ৩৬ শতাংশ ফিলিস্তিনি ও ১৯ শতাংশ ইসরাইলি ইহুদি ও ৫৬ শতাংশ ইসরাইলি আরব।

ঘটনাপ্রবাহ : ফিলিস্তিনিদের ঘরে ফেরার বিক্ষোভ

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত